সাতক্ষীরার ঝাউডাঙা জগন্নাথদেবের মন্দিরের জমি ও আশাশুনির গাবতলা সুফলভোগী মৎস্যজীবী সমিতির বন্দোবস্ত কার্যক্রম স্থগিত

0
254

স্টাফ রিপোর্টারঃ

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙা জগন্নাথদেবের মন্দিরের জায়গা ও আশাশুনি উপজেলার গাবতলা সুফলভোগী মৎস্যজীবী সমিতির বন্দোবস্ত কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। যথাক্রমে গত ৫ জুন আরডিসি মঈনুল ইসলাম ও ৭ জুন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল লতিফ খান এ কার্যক্রম স্থগিত করেন। ঝাউডাঙা জগন্নাথদেব মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুবীর কুমার ঘোষ জানান, মন্দিরের নামীয় এক একর দু’ শতক জমি ১৯৮৫ সালে সরকার পেরিফেরিভুক্ত করে এর মধ্যে ২৩ শতক মন্দিরের নামে চিহ্নিত করে। এ ঘটনায় তারা আদালতে জেলা প্রশাসকসহ আটজনকে বিবাদী করে দেওয়ানী ৩২২/১২ মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে ওই জমি আইনজীবী কমিশনকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালত আগামি ২২ জুন দিন ধার্য করেন। এরপরও পাথরঘাটার নাজুমুল ইসলামসহ ১০ জন নিয়ম বহির্ভুতভাবে ওই জমির মধ্যে পাঁচ শতক বন্দোবস্ত নিয়ে সম্প্রতি দখলে যাওয়ার চেষ্টা করে। প্রতিবাদ করায় ৩ জুন দুপুরে মন্দির কমিটি, বাজার কমিটি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সদর সহকারী ভূমি কমিশনারের এক জরুরী বৈঠক হয়। সরকার পক্ষের আইনজীবী ও বন্দোবস্ত গ্রহীতারা  তথ্য গোপন করে এ কাজ সম্পন্ন করেছে বলে প্রতীয়মান হওয়ায় মন্দির কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ জুন আরডিসি মঈনুল ইসলাম এক আদেশে বন্দোবস্ত কার্যক্রম স্থগিত করেন। অপরদিকে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর ব্যক্তিগত সহকারী পশুপতি গাইন জানান, আশাশুনি উপজেলার  কুল্ল্যা ইউনিয়নের গাবতলা মৌজায় এলএ কেস ৫৪-৬৪/৬৫ নম্বর কেসের আওতায় ২০০৩ সাল থেকে সুফলভোগী সমিতি ও ব্যক্তিগতভাবে ওই এলাকার কালিপদ দাস, নারায়ণ সরকারসহ কয়েকজন পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ইজারা নিয়ে সাড়ে সাত বিঘা জমি মাছ চাষ করে আসছিল। ২০১৫-২০১৬ সালে নবায়ণের জন্য পাউবো’র হিসাব নম্বরে টাকা জমা দিয়ে ও চুক্তি সম্পাদক করে কালিপদ দাস ও তার সহযোগিরা। সূত্রটি আরো জানায়, দূর্ণীতিবাজ প্রসেস সার্ভেয়র বিমল গাইন ও সেকশান অফিসার খায়রুল ইসলাম ওই জায়গা কৌশলে একটি কুচক্রি মহলের কাছে ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনা করলে তারা আশাশুনি সহকারী জর্জ আদালতে মামলা করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তপক্ষের আইনজীবী এজিপি অ্যাড. শম্ভুনাথ সিংহ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কারণ দর্শানোর জবাব না দিলে আদালত আগামি ১৯ জুন একতরফা শুনানীর দিন ধার্য করে। এরই মধ্যে ওই আইনজীবীর মতামত অনুযায়ি ওই জমি দেবব্রত সরকারসহ ১১ জনের দখল দেখিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড গত ৭ মার্চ ইজারা দেয়। জেলা ও উপজেলা মৎস্যজীবী টেণ্ডার কমিটির সিদ্ধান্তে গত ১৬ মে উপজেলা মৎস্যজীবী সমিতির সঙ্গে গাবতলা সুফলভোগী মৎস্যজীবী  সমিতির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। গাবতলা কালিমন্দির কমিটির অনুমতি সাপেক্ষে দেবব্রত সরকার দলপতি সেজে ওই ইজারা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে। যদিও গাবতলা মন্দির কমিটির সভাপতি ওই ধরনের কোন আলোচনা সম্পর্কে তারা জানেন না বলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। ১৭ মে ওই সমিতির পক্ষে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫০ বিঘার বেশি জমি যুগযুগ ধরে ইজারা না নিয়ে ভোগদখলকারি  ইউপি সদস্য উত্তম দাস নেতৃত্ব দিয়ে ওই জমি জবরদখলের চেষ্টা করলে কালিপদ দাস অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে উপপরিদর্শক আলীম হোসেন উভয়পক্ষকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নোটিশ করতে গেলে তিনি উত্তম দাসের লোকজনের ক্ষোভের মুখে পড়েন। তিনি কালিপদ দাস ও তার সহযাগিদের দখলীয় জমিতে আগামি ধার্য দিন পর্যন্ত না যাওয়ার জন্য  দেবব্রত সরকার পক্ষদের নিষেধ করেন। একপর্যায়ে ২৭ মে আশাশুনি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুল ইসলাম শাহীন বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তির লক্ষে কালিপদ দাসপক্ষকে অযৌক্তিকভাবে আগামি ১১ জুনের মধ্যে সকল মাছ ধরে নেওয়ার কথা বলেন। নতুবা চুক্তির উপর স্থগিতাদেশ নিয়ে আসতে বলেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সাতক্ষীরার এক উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়। গত ৭ জুন কালিপদ দাস ও তার চার সহযোগির আবেদন(মামলা নং- ৪৩/২০১৭) শুনানী শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল লতিফ খান বন্দোবস্ত সংক্রান্ত চুক্তির কার্যক্রম স্থগিত করে নথি তলবের আদেশ দিয়ে আগামি ২ আগষ্ট আদালতের পরবর্তী দিন ধার্য করেন। এ সংক্রান্ত অদেশের কপি গত গত বৃহষ্পতিবার পানি উন্নয়ন বোর্ড, সাতক্ষীরা- ২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও আশাশুনি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরাবর পাঠানো হয়েছে।