সাতক্ষীরার এক নারীকে গণধর্ষণের ঘটনায় -আটক ১

0
124

স্টাফ রিপোর্টার:
অবশেষে মালয়েশিয়ায় চাকরি দেওয়ার নামে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে ঢাকার একটি বাড়িতে আটকে রেখে টানা ১২ দিন গণধর্ষনের শিকার সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামের এক নারীর মামলা নিয়েছে পুলিশ। ঘটনার চার দিন পর মঙ্গলবার সাতক্ষীরা সদর থানায় অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা রেকর্ড হলো।মামলা নং ১৩। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা ও ২২ ধারা জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। মামলায় আসামি করা হয়েছে, একই এলাকার গাঙনিয়া কাহারপাড়ার বাবুর আলী গাজীর ছেলে নূর ইসলাম গাজী (৪০) গাঙনিয়া গ্রামের নবাব আলীর ছেলে আবু বক্কর গাজী ও ঢাকার জনৈক হাসানুর রহমান।
মামলার বিবরনে জানা যায়, স্বামী পরিত্যক্তা দুই সন্তানের জননী নির্যাতিত ওই নারী (২৫) আট বছর আগে তার সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙা ইউনিয়নের চুপড়িয়া গ্রামে বিয়ে হয়। দুই সন্তার হওয়ার পর স্বামী তাকে বাপের বাড়িতে রেখে ঢাকায় চলে যান। এরপর থেকে তার সাথে কোন যোগাযোগ না থাকায় মায়ের কাছে থেকে দিনমজুর খেটে দুই সন্তানের ভরণপোষন চালাতে হয় তার। তিনি জানান, আলীপুর ইউনিয়নের তার এলাকার গাঙনিয়া কাহারপাড়ার বাবুর আলী গাজীর ছেলে নূর ইসলাম গাজী (৪০) তাকে সরকারি খরচে মালয়েশিয়ায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। নিরক্ষর হওয়ায় প্রথমে তিনি রাজী হননি। পরে মায়ের চাপে তিনি রাজী হন। সে অনুযায়ি নূর ইসলামের সহযোগি গাঙনিয়া গ্রামের নবাব আলীর ছেলে আবু বক্কর গাজী তাকে সাতক্ষীরা হয়ে ঢাকায় যাওয়ার জন্য গত ১৮ মার্চ রাত সাড়ে সাতটার দিকে ভোমরা -সাতক্ষীরা সড়কের বাদামতলা মোড় থেকে একটি গ্রাম বাংলা গাড়িতে তুলে দেয়। তাকে সাতক্ষীরা সঙ্গীতা সিনেমা হল মোড়ে নামিয়ে দেওয়ার পর নুর ইসলাম তাকে ঢাকাগামি একটি পরিবহনে তোলে। ১৯ মার্চ সকালে নূর ইসলামসহ তিনি ঢাকার গাবতলী বাসস্টান্ড এলাকায় নামেন। সেখান থেকে তাকে গাবতলী এলাকার জনৈক হাসানুর রহমানের মালিকানাধীন পাঁচতলা বাড়িতে তোলা হয়। সেখানে পাচারের জন্য নিয়ে আসা ফরিদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন নারীকে তিনি দেখতে পান। ওই বাড়ির মালিকের ৪০/৩, নয়া পল্টন (২য় তলা), ঢাকা- ১০০০ এ বিদেশে লোক নিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত অফিস রয়েছে।
নির্যাতিত ওই নারী জানান, গাবতলীর পাঁচতলা বাড়ির একটি ঘরে তাকে আটক রেখে পরপর তিনদিন ধর্ষণ করে নূর ইসলাম। তারপর তাকে পাচারের জন্য এক ব্যক্তির কাছে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে নুর ইসলাম সাতক্ষীরায় চলে আসে। এর পর থেকে অজ্ঞাত পরিচয় চার থেকে পাঁচজন তাকে দিন রাত পালাক্রমে ধর্ষণ করতো। দিনে বেলায় তাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হতো। সারা দিনে দু’বার ডাল ভাত দেওয়া হতো। একপর্যায়ে ৩০ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই বাড়ির এক দারোয়ানের সহযোগিতায় রিক্সায় গাবতলী চলে আসেন। সেখান থেকে একটি পরিবহনে ৩১ মার্চ সকালে বাড়ি ফেরেন তিনি।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন জানান, ভিকটিমের অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। ইতি মধ্যে এই মামলার প্রধান আসামি নূর ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । অন্য আসামীদের কে দ্রুত ধরতে চেষ্টো করা হচ্ছে । এবং ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা ও ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।

এম,এম,রায়হান

LEAVE A REPLY