সাইফুল্লাহ’র মানবতায় সন্তানকে ফিরে পেল আরেক মা

0
135

স্টাফ রিপোটার: মানব সেবায় নিযুক্ত এক উজ্বল দৃষ্টান্ত সাইফুল্লাহ। মস্তিক বিকৃতিহীনদের আপন ঠিকানা সাইফুল্লাহ’র নিজ বাসস্থান।‘সত্যেন সেনের’ সেই অমর বানীর মতো“ মানুষের লাগি করে যাব দান,মানুষের দেওয়া প্রাণ”। মস্তিস্ক বিকৃতিহীনদের জন্য কিছু করতে পারলে ভালো লাগে এবং নিজেকে ধন্য মনে করেন সাইফুল্লাহ। মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য এই স্লোগানকে বুকে লালন করে এক ব্যাতিক্রমধর্মী স্বপ্নদ্রষ্ঠা সাইফুল্লাহ। শ্যামনগর উপজেলার কালিন্দি নদীর কোলঘেষে অবস্থিত নৈকাঠি গ্রামের গ্রাম্য ডাক্তার মোঃ সাইফুল ইসলাম। তিনি ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন পাগলদের আশ্রম তৈরি করা। পাগলদের নিয়ে দিনকাল চলে সাইফুল্লাহ’র। গত এক মাস পূর্বে স্থানীয় বাজারের একজন ব্যবসায়ী একজন মস্তিস্ক বিকৃতিহীন ব্যক্তিকে নিয়ে আসেন গ্রাম্য ডাক্তার সাইফুল্লাহ’র কাছে। পাগল প্রেমিক সাইফুল ইসলাম মস্তিস্ক বিকৃতিহীন ব্যক্তিকে পেয়ে আনন্দিত হন এবং ব্যবসায়ীকে ধন্যবাদ জানান। মস্তিস্ক বিকৃতিহীন ব্যক্তিকে সেবা শুশ্রসা করার পরে পাগলটি কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং পাগলটির দেওয়া কিছু তথ্যমতে সাইফুল্লাহ রংপুরের বিভিন্ন স্থানে খোজ করতে থাকেন। ভাগ্যক্রমে সাইফুল্লাহ দূরমুজখালী ক্যাম্পের একজন বিজিবি সদস্যর মাধ্যমে রংপুরের পীরগঞ্জে  মস্তিস্ক বিকৃতিহীন ব্যক্তির বাড়ির সন্ধান লাভ করেন। তিনি জানতে পারেন মস্তিস্ক বিকৃতিহীন ব্যক্তিটি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মৃত রুস্তুম মন্ডলের পুত্র মোঃ জাহিদুল ইসলাম। মস্তিস্ক বিকৃতিহীন অবস্থায় জাহিদুল মন্ডল বিগত ৫ বছর পূর্বে বাড়ি থেকে হারিয়ে যান। দীর্ঘদিন তার পরিবারের লোকজন খোজাখুজি করার পর তাকে খুঁজে না পেয়ে তাকে পাওয়ার আশা ছেড়ে দেন। তার বড় ভাই রাসেল  তার ভাইকে নিতে  এসে জানান “আমার ভাইকে খুজে পাবো বলে আমরা আশা করিনি, আমরা তার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম, গত ৬ মাস পূর্বে আমার পিতা মারা যাওয়ার পূর্বে আমার ভাইকে দেখার জন্য অনেক কান্নাকাটি করেছিলো কিন্তু আমার পিতার কথা আমরা রাখতে পারিনি আমার বৃদ্ধ মাতা আমার ছোট ভাই জাহিদুলের জন্য পাগল প্রায়।সাইফুল্লাহ’র যোগাযোগের ভিত্তিতে সোমবার সকালে রংপুর থেকে শ্যামনগর উপজেলার ধুরমজখালী গ্রামে আসেন মস্তিস্ক বিকৃতিহীন জাহিদুল মন্ডলের বড় ভাই রাসেল।ভাইকে দেখে আবেগফøুত হয়ে পড়েন জাহিদুলের বড় ভাই, কান্নাই ভেঙে পড়েন তিনি। এলাকার উৎসুক জনতা ভিড় জমান সাইফুলের বাড়িতে তারাও ধন্যবাদ দেন সাইফুল্লাহকে। স্যালুট জানান, সাইফুল্লাহ’র মানবতাকে। সাইফুল তার চলার পথে যেখানে পাগল দেখেন সেখান থেকেই তিনি পাগলটিকে সাথে নিয়ে তার বাড়িতে আসেন এবং তাকে নিজহাতে নোখ কাটা,চুল কাটা,সবান মাখিয়ে গোসল করানো সব কিছুই করেন এবং তাদের সাথেই খাওয়া দাওয়া করেন সাইফুল্লাহ।সাইফুল্লাহ পাগলদের ভাষা,আকার সব কিছুই বুঝতে পারেন। সাইফুল্লাহ জানান“মস্তিষ্ক বিকৃতিহীনদের নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে আমি অনেক আনন্দ পাই, এদের নিয়েই আমার কাজ এদের নিয়েই আমার সংসার”। এদের নিয়ে কাজ করতে সমাস্যা হয় কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান “ এদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে সামাজিক,মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিভিন্ন সমাস্যাই পড়তে হয় এদের নিয়ে কাজ করতে হলে এরকম বহু সমাস্যা আসবেই। তাই বলে মানুষের কল্যাণে কাজ করা থেকে বিরত থাকা কি সম্ভব? পাগলদের প্রতি ভালবাসা আর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি এদের কল্যানে কাজ করে যাবেন বলে তিনি জানান। তিনি আরো জানান যত দিন বেঁচে থাকবো ততদিন এদের জন্য কাজ করে যাব।গত এক বছর চার মাস পূর্বে সাইফুল্লাহ নিকটস্থ একটি বাজার থেকে একটি পাগল সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন। দীর্ঘদিন সেবা করার পরে পাগলটি তার সাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং পাগলটির দেওয়া কিছু তথ্যমতে সাইফুল পাগলটকে নিয়ে তার বাড়ি ঢাকা নবাবগঞ্জে যান। দীর্ঘ সাত বছর পরে ছেলেকে পেয়ে তার পিতা আবেগফ্লুত হয়ে পড়েন।এলাকার হাজার হাজার মানুষ ঐ পাগলটির বাড়িতে হাজির হন এবং সাইফুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানান।পাগলটির পিতা সাইফুল ইসলামকে খুশি হয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিলেও সাইফুল সে টাকা গ্রহণ করেনি। তিনি বলেন মানুষ হিসাবে একজন মানুষকে সাহায্য করা এটা আমার দায়িত্ব, ধর্ম। সাইফুল ইসলাম প্রত্যেক বছর দুবার বিভিন্ন জায়গা থেকে পাগল নিয়ে এসে তার বাড়িতে পাগলদের জন্য খাওয়ার ব্যবস্থ্যা করেন।এবং তিনি নিজহাতে সকল পাগলদের পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে গোসল করান এবং পোষাকের ব্যবস্থ্যা করেন। এলাকার জনগন সাইফুল ইসলামের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে।এবং সাথে সাথে সাইফুলের সাথে থাকা পাগলগুলিকে এলাকার মানুষেরাও ভালবাসতে শুরু করেছেন।তারা পাগলগুলিকে দেখলে বিভিন্ন ভাবে আপ্যায়ন করান। এবং সাইফুল্লাহ’র কাছে নিযে আসেন। আমাদের পরিবার ও সমাজে অনেকে মানসিক ভারসাম্যহীন আছে। কিন্তু দেখা যায় ঐ সমস্ত মানুষেরা নানাভাবে অত্যাচারিত নির্যাতন ও অবহেলার শিকার। আতœার ও রক্ত সম্পর্কের হলেও কাছের মানুষেরা তাদেরকে ঘৃণা ও অবজ্ঞার চোখে দেখে। সেক্ষেত্রে সাইফুল্লা’হ এক বিরল দৃষ্টান্ত। কোন প্রকার আতœার, রক্তের সম্পর্কের বন্ধন না থাকলেও শুধুমাত্র মানবতার আদর্শ বুকে ধারণ করে মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষকে সেবা করে চলেছেন।

LEAVE A REPLY