সাংবাদিক শিমুল মামলা হামলা উপেক্ষা করে পেশাগত দায়িত্ব চালিয়ে যাচ্ছে

0
168

স্টাফ রিপোটার:

পেশাগত দায়িত্ব পালনে নানা ভাবে নির্যাতনের স্বীকার সাংবাদিকরা। রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা  ও ব্যবসায়ীদের অপকর্মের দুর্নীতি যখন কোন সাংবাদিক ফাঁস করে দেয় তখন সংশ্লিষ্ট সেই সাংবাদিকের উপর হামলা চালায়। তাতে অনেক সাংবাদিকের জীবন যায়। প্রাণে বেঁচে থাকলেও পরিকল্পিত ভাবে মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করে। সাংবাদিকদের উপর অযাচিত হামলা, সহিংসতা ও বিচারিক তদন্তে সময়ক্ষেপনসহ নানাবিধ কারণে সাংবাদিকদের হামলা, মামলা ও হয়রানি কমছেনা বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। মফস্বলে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে নিগৃহিত হয়েছে এমন সাংবাদিক কম নয়। প্রতিনিয়ত যারা রক্তচক্ষু, মামলা, হামলা উপেক্ষা করে সাংবাদিকতা করেন, তাদের মধ্যে অন্যতম কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক এম হাফিজুর রহমান শিমুল। তিনি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মুকুন্দমধুসূদনপুর গ্রামে বসবাস করেন। ইতিমধ্যে তিনি ১০টি মামলার ক্ষত নিয়ে হাজারও প্রতিকুলতার মধ্যে সাংবাদিকতা চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতির বিবেক হিসেবে ১৯৯৬ সালে দৈনিক অর্ণিবান, দৈনিক পত্রদুতের কালিগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে তার দক্ষতার কারণে তিনি সাতক্ষীরা থেকে বহুল প্রচারিত দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকায় টানা ৪ বছর কাজ করেন অতি সুনামের সাথে। এরপর দৈনিক জন্মভুমি ও দৈনিক গ্রামের কাগজের কালিগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে আরও ৪ বছর অতিবাহিত করেন তিনি। ২০১১ সাল থেকে আজ অবধি সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক যুগের বার্তা পত্রিকার কালিগঞ্জ প্রতিনিধি, জাতীয় দৈনিক ভোরের পাতা, দৈনিক দেশ সংযোগ পত্রিকার নিয়মিত কালিগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে দক্ষতার সাথে কাজ করছেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত আছেন। কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের ২বারের জয়েন্ট সেক্রেটারী, ২ বার তিনি সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর কালিগঞ্জ কমিটির যুগ্ন সম্পাদক, নাগরিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক, কালিগঞ্জ কবিতা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার উপজেলা কমিটির সভাপতি, চিত্র নায়ক মান্না স্মৃতি পরিষদের কালিগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি। আর বর্তমানে তিনি কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতির বিবেক হিসেবে যখন তিনি সন্ত্রাস, মাদক, জুলুম, নির্যাতন, অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লিখেছেন তখনই তিনি হামলা, মামলার স্বীকার হয়েছেন। কতিপয় স্বার্থান্বেষীদের ষড়যন্ত্রের কারণে জি আর ৩৩৯/১৩, ৩৪৩/১৩, ৩৪৪/১৩, ৩৪১/১৩, ৩৪২/১৩, ১২/১৩, সি আর পি ১৫০/১৪, ৮৬/১৪ মামলা মোকাবেলা করতে হয়েছে। নির্দোষ থাকার কারণে ইতিপূর্বে পুলিশ কর্মকর্তাদের তদন্তে জি আর ৮টি মামলা থেকে ফাইনাল পেয়েছেন। তার পরেও আজ অবধি ২টি মামলা মাথার উপর ঝুলে আছে। অথচ কালিগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করায় ২০১৩ সালের জানুয়ারী মাসের ১ তারিখে প্রকাশ্য দিনের বেলা কর্মকালীন সময় কালিগঞ্জের প্রত্যাশা কম্পিউটার থেকে তাকে টেনে হেছড়ে রাস্তায় বের করে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা মারপিট করে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা করলে প্রকাশ্য হুমকীর ফলে সে মামলা আর আলোর মুখ দেখেনি। পরে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ী ফেরার পথে কালিগঞ্জ বাঁশতলা সড়কের টেওরপাড়া নামক স্থানে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রাতের বেলা হামলা চালায়। সেই যাত্রায় সে প্রাণে রক্ষা পেলেও তার দুঃসহ শারিরিক যন্ত্রণা এখনও তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। একের পর এক হামলা আর মামলার স্বীকার সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শিমুল এখনও তার কলম ঠিকঠাক চালালেও উদ্বিগ্ন তার পরিবার। সব সময় তার পিতা মাতা দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকেন। তাদের মধ্যে ভীতি কাজ করে। ২টি পুত্র সন্তান নিয়ে সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শিমুল এর স্ত্রী সাহিদা পারভিন মুন্নি থাকেন উদ্বিগ্ন। ইতিমধ্যে তিনি যে খারাব সময় পার করেছেন তার বর্ণনা করতে আঁতকে উঠেন। সে কথা তিনি আর মনে করতে চান না। একজন সাংবাদিক হিসেবে দেশ ও জাতি গঠনে তার ভুমিকা অনস্বীকার্য। প্রতিদিন নতুন নতুন সংবাদ নিয়ে হাজির হন সংবাদ পিপাসুদের দ্বারে। চায়ের দোকানে ঘরে বাইরে তুমুল আলোচনা সমালোচনায় সুফল পেতে শুরু করে সাধারণ মানুষ। সে কারণে স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ হলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে তার ভুমিকা আরও গতিশীল হবে। সাথে সাথে তার নামে চলমান মামলা থেকে অব্যহতি হলে তিনি আরও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবেন। সাংবাদিক হিসেবে হাফিজুর রহমান শিমুল নিজে যদি নির্যাতনের স্বীকারহন তাহলে কীভাবে তিনি লিখবেন সুবিধা বঞ্চিত মানুষের হাসি, কাঁন্না, সুখ দুঃখের কথা?