সরকারি ওষুধ ভাসছে মেডিকেলের পুকুরে

0
141

অনলাইন ডেস্ক:

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির স্টাফ কোয়ার্টারের পুকুরে ভাসছে রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের লক্ষাধিক টাকার সরকারি ওষুধ। শুক্রবার সকালে চতুর্থ শ্রেণির স্টাফ কোয়ার্টারের ৩ নম্বর পুকুর ছাড়াও এক নারী কর্মচারীর বাসা থেকে রোগীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী শেফালী আক্তার ও তার ছেলে মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

মেয়াদ সম্পন্ন এসব ওষুধ রোগীদের মাঝে বিতরণ না করে ফেলে দিয়ে নস্ট করায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের সেকেন্ড অফিসার এসআই আবু তাহের জানান, শুক্রবার সকালে তারা কোয়ার্টারের লোকজনের কাছ থেকে খবর পান যে, সেখানকার একটি পুকুরে বিপুল পরিমাণ ওষুধ ভাসছে। সকাল ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে ওষুধগুলো উদ্ধার করেন।

তিনি আরও জানান, ওষুধের মোড়কের গায়ে লাল-সবুজ এবং সরকারি ছাপ থাকায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে সেগুলো সরকারি হাসপাতালে রোগীদের মধ্যে বিনামূল্যে সরবরাহের ওষুধ। সবগুলো ওষুধ মেয়াদ সম্পন্ন। ওষুধগুলোর কোনটি ২০১৮ এবং কোনটি ২০১৯ সাল পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে। এ পর্যন্ত ১৩ ধরনের ওষুধ চিহ্নিত করা হয়েছে। জব্দ করা ওষুধের মধ্যে রয়েছে- সেফট্রিয়াক্সোন ইনজেকশন, জেএমআই সিরিঞ্জ, ডেস্কামেটথাসন সোডিয়াম, লার্ব ৫০+, লুমনা-১০, ডমপেরিডন, ভ্যাসোপিস্ক, থিওফাইনিল, জ্যাসোকাইন জেল, ডাইক্লোফেন ইনজেকশন, এনক্লোগ প্লাস, সালবুটামল, এজিথ্রোমাইসিন ৫০০।

এসআই আবু তাহের জানান, স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পারেন যে কোয়াটারের বাসিন্দা চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী শেফালী আক্তারের ছেলে মামুন বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই ওষুধগুলো পুকুরে ফেলেছেন। তার আগে বাসার সামনে কিছু ওষুধ আগুনে পুড়িয়েছেন মামুন। এ তথ্যের ভিত্তিতে শেফালী আক্তারের বাসায় অভিযান চালিয়ে তার বাসা থেকে আরও কিছু ওষুধ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শেফালী আক্তার ও মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মামুন মাদকাসক্ত। গত দুইদিন ধরে মায়ের সঙ্গে তার ঝগড়া চলছে। মায়ের সঙ্গে রাগ করে মামুন বাসায় মজুদ থাকা ওষুধ পুকুরে ফেলে দেয় ও কিছু আগুনে পুড়িয়েছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে শেবাচিম হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার (মেডিসিন) ডা. মাহমুদ হাসান বলেন, উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলো সরকারি। এর মূল্য লক্ষাধিক টাকা। ওষুধগুলো শেবাচিম হাসপাতালের কি না জানতে চাওয়া হলে স্টোর অফিসার বলেন, স্টোরের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, শের-ই- বাংলা মেডিকেলের কোনো ওষুধ চুরি হয়নি। তবে ওষুধগুলো কোথা থেকে কিভাবে এসেছে তা তদন্ত করে দেখা হবে।