সমুদ্র নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন

0
99

বরুণ ব্যানার্জী:

সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষ সম্মেলন। ভারত মহাসাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলোর সংগঠন আইওআরএ বা ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের সর্বশেষ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারত মহাসাগর রিম অ্যাসোসিয়েশন সামিট শীর্ষক উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এই সংস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে সমুদ্র সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ভারত মহাসাগরীয় দেশগুলোর ঐক্য সংহতি জোরদারের আহ্বান জানান। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থানও পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করেন তিনি। প্রতিবেশী দুই দেশের সঙ্গে সমুদ্র সীমানা-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদের সম্প্রসারণ ঘটেছে। এই সম্পদ সুরক্ষা ও সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এদিকে লক্ষ্য রেখেই প্রধানমন্ত্রী ব্লু ইকোনমির প্রতি তার সরকারের দৃঢ় মনোসংযোগের কথা উপস্থিত বিশ্ব নেতাদের স্মরণ করিয়ে দেন। আবার নৌদস্যু, নাবিক অধিকার সংরক্ষণ, পরিবেশ দূষণের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট সাধারণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই প্লাটফর্ম কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে সেদিকে সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেন। আঞ্চলিক সমৃদ্ধির সেতুবন্ধ হিসেবে সদস্য দেশগুলোর অভিন্ন স্বার্থ সুরক্ষায় সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে সমুদ্র সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তায় জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। এরই অংশ হিসেবে তিনি বাংলাদেশের একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। সমুদ্র নিরাপত্তা সংক্রান্ত সদূরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে এ ধরনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের জন্য খুবই প্রয়োজন। বাংলাদেশের স্থল আয়তনের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বড় জাতীয় জলসীমা। অথচ দেশের সমুদ্রবিষয়ক জ্ঞান চর্চার একাডেমিক সীমাবদ্ধতা প্রকট। যতদূর জানা যায়, মাত্র কিছুদিন আগে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্রবিষয়ক একটি বিভাগ খোলা হয়েছে। আবার এই বিভাগ চলছে সম্পূর্ণ বিদেশি শিক্ষক দিয়েই। যে কারণে আন্তর্জাতিক সহায়তা নিয়ে দেশে একটি সমুদ্রবিষয়ক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা গেলে বাংলাদেশসহ সদস্য দেশগুলো বিশেষ উপকৃত হবে। ফলে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ ভারত মহাসাগরের দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে। সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ, কৌশলগত ঐক্য জোরদারের পথ বিস্তৃত হবে।

আঞ্চলিক ও বিশ্বশক্তির সঙ্গে চীন এখানে প্রায় যুদ্ধের মুখোমুখি অবস্থানে আছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভারত মহাসাগরীয় রণ স্থিতিশীলতা ভারতের প্রয়োজন। এই জলরাশিতে দিল্লির স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা যেন বিপন্ন না হয় সেদিকে গুরুত্ব দিয়েই এই সংস্থায় ভারত নেতৃস্থানীয় ভূমিকায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। আর সে কারণেই আন্তর্জাতিক পর্যালোচনায় ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনকে ভারতের জাতীয় আকাক্সক্ষার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্ব মনে করে, এই সংস্থা ভারতের স্বপ্ন। সব মিলিয়ে এই সংস্থার সর্বশেষ সম্মেলন সদস্য দেশসমূহের মধ্যে সৌহার্দ্য সম্প্রীতির বিস্তার ঘটিয়ে সমৃদ্ধির পথে এক ধাপ এগিয়ে গেছে। এর মাধ্যমে ভারত মহাসাগরীয় সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে নিঃসন্দেহে।

LEAVE A REPLY