সদর হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে মুক্ত সংলাপ

0
63

শহর প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা: তওহীদুর রহমান এর সভাপতিত্বে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, সেবাগ্রহীতা ও বিভিন্ন অংশীজনের সাথে মুক্ত সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সভা কক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর যৌথ আয়োজনে
মুক্ত সংলাপে বক্তা ও উপস্থিত সেকাগ্রহীতারা হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে হাসপাতালে যে সমস্ত পরীক্ষা করার ব্যবস্থা আছে সে পরীক্ষা করাতে সেবাগ্রহীতাদের হাসপাতালের বাইরে বিশেষ কোন ক্লিনিকে না পাঠানো, পরীক্ষার ফি আদায়ে অবশ্যই রশিদ প্রদান, সরকারি নীতিমালার বাইরে কোন অতিরিক্ত ফি আদায় না করা, পরীক্ষার রিপোর্টের বস্তুনিষ্টতা নিশ্চিত করা, জনবল ঘাটতি পুরণে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ, যথাসময়ে ডাক্তারদের উপস্থিতি, দৈনিক বিতরণকৃত ঔষধের তালিকা হাল নাগাদ রাখা, সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার দেয়া, সেবা সংক্রান্ত তথ্যের সহজলভ্যতা সৃষ্টি করা, টয়লেটের পরিচ্ছন্ন রাখা, দালালদের দৌরাতœ প্রতিরোধ, স্বেচ্ছা সেবকদের অনৈতিক কর্মকান্ড, মেডিক্যাল রিপ্রেজেটেটিভদের ডাক্তার ভিজিটের নির্দেশনা মানার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য পরামর্শ প্রদান করেন।
সদর হাসপাতালের আবাসক মেডিক্যার অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) জানান, জনবল ঘাটতির জন্য বর্হিবিভাগ ও ভর্তিকৃত সেবাগ্রহীতাদের আশানুরুপ সেবা সেবা প্রদান করা সম্বব হচ্ছে না। তাছাড়া হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ ২৫০ ভোল্ট হওয়ায় পরীক্ষার-নিরীক্ষার বিভিন্ন যন্ত্রাংশের যথাযথ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
মো. মহিবুল্লাহ সুন্দরবন ব্লাড ডোনেশন সোসাইটির পক্ষ থেকে জানান, রক্তদান করতে আসা ডোনারদেও জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যেন
খাবার স্যালাইন সরবরাহ করে। এছাড়া তিনি দরিদ্রদের বিনামূল্যে রক্তের ব্যাগ সরবরাহ করা সহ রক্ত দান করার ক্ষেত্রে হাসপাতালে সহায়ক পরিবেশ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
সুলতানপুর থেকে আসা সেবাগ্রহীতা নাছিমা জানান, আমি টিকিট নিয়া ডাক্তার দেখাইতে আসি। আমারে পরীক্ষা করতে বাইরে পাঠাইছিল। হাসপাতালের বাইরে ক্লিনিকে বেশী টাকা লাগে। পরে হাসপাতালে পরীক্ষা করতে আবার আসলাম। এখানেও সরকারের ফিসের বেশী চাইছিল। আমি বেশি টাকা দেইনাই। সরকারের যত ফিস তাই জমা দিয়া পরীক্ষা করলাম। কিন্তু কো রশিদ দেয় নাই।’
অ্যাডভোকেট ফাহিমুল হক কিসলু রাত ১২টার পর বা গভীর রাতে প্রায় সময় কোন ফার্মেসি খোলা না থাকায় জটিল ও জরুরী রোগীদের ঔষধ না পাওয়া দুর্ভোগ পোহাতে হয় বলে সরকারি নীতিমালায় কোন বাধা না থাকলে হাসপাতাল প্রাঙ্গনে ২৪ ঘন্টা চালু থাকবে এমন একটি ফার্মেসি চালুর উদ্যোগ গ্রহণের দাবী জানান।
গাভা আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ শিব পদ গাইন বলেন, ‘আমার নিকট আতœীয়কে নিয়ে বিগত সময়ে সদও হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসে রক্তের একটি পরীক্ষার হাতে লিখা রিপোর্ট দেয়া হয়। যাতে পরীক্ষার ফলাফল স্বাভাবিক রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়ার ৩ দিন পরও রোগীর জ্ঞান না ফিরায় খুলনায় রেফার করা হয়। সেখানে একই পরীক্ষা করার পর দেখায় স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে ১০গুন বেশী।’  তিনি হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের সচেতনতার সাথে পেশাদার হওয়ার আহ্বান জানান।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মো. আনিছুর রহিম উপস্থিত সেবাগ্রহীতা ও বক্তাদের উপস্থাপিত বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিয়ে হাসপাতালের মানোন্নয়নে সকল ডাক্তার ও সংশ্লিষ্টদের সেবার মানসিতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে জনবল সংকট বিগত সময়েও ছিল এখনও আছে। বিভিন্ন সেবা গ্রহীতা ও বিশিষ্টজনদের মতামত ও প্রস্তাবে দেখা যাচ্ছে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে সেবার মানোন্নয়নে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক একটি পরিকল্পনা গ্রহন করা খুব দরকার। এছাড়া হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সাতক্ষীরা সদরের সংসস্যের সহযোগিতা ও সুদৃষ্টি কামনা করেন।
সনাক সভাপতি কিশোরী মোহন সরকার বলেন, ‘ হাসপাতালের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে মানোন্নয়ন করতে হলে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কোন বিকল্প নেই। তাই সেবা সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করা ও অবৈধ আর্থিক লেনাদেনার বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে।’ তিনি কোন অনিয়ম হলে তা নিরসনে নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান।
অধ্যাপক ডা. কাজী হাবিবুর রহমান সাতক্ষীরা মেডিক্যার কলেজের অধ্যক্ষ, সেবাগ্রহীতা ও বক্তাদের উপস্থাপিত প্রশ্ন ও প্রস্তাবের বিষয়ে বলেন, উপস্থাপতি প্রতিটি বিষয় যেমন ঠিক তেমনি জনবল সংকটের ফলে হাসপাতালের দিক থেকে সীমাকদ্ধতাও রয়েছে, এটাও আমাদেও ভাবা উচিত। এজন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি আমাদের সকলের দায়িত্ব রয়েছে। আমরা যখন সেবা নিতে আসবো কোন ডাক্তার বা অন্য কেউ যদি প্রাইভেট ক্লিনিকে পরীক্ষা করতে পাঠায় তবে আমরা বলবো যে, ‘আমি হাসপাতালে পরীক্ষা করাবো’।
এছাড়াও একটি সরকারি হাসপাতালে রশিদ ব্যতীত কোন আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সিভিল সার্জন ও হাসপাতাল তত্বাবধায়ক ডা. তওহীদুর রহমান জানান, আমাদের ৫০ সজ্জা হাসপাতালের জনবল নিয়ে ভর্তিকৃত প্রায় ২৫০-৩০০ জনকে সেবা দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি বর্হিবিভাগে ৩ জন মেডিক্যাল অফিসার এর মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ১০০০ জনকে সেবা প্রদান করতে হয়। যা খুবই কষ্ট সাধ্য বিষয়। হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে আপনাদের উপস্থাপতি সমস্যা,এবং তা নিরসনে মতামত ও প্রস্তাবগুলো আমি বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আমি দায়িত্ব নিয়েছি কয়েক মাস আগে। তাই একটু সময় লাগবে। আপনার আমাকে সহযোগিতা করুন। আমার ইচ্ছা ও আন্তরিকতা দু’টোই আছে । মানুষের সেবা করতে চাই। আশা করি ভাল সেবা প্রদান করতে পারবো।
সংলাপে সনাকের পক্ষে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সনাক স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য কল্যাণ ব্যানার্জি। এড়াও বক্তব্য রাখেন সনাক স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ-কমিটির আহব্বায়ক ডা. সুশান্ত কুমার ঘোষ, সনাক সদস্য প্রফেসর আব্দুল হামিদ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সনাক সদস্য ড. দিলারা বেগম, মো. অলিউর রহমান, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা স্বদেশ এর নির্বাহি পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত,  বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী এম. এ জলিল, স্বজন সদমন্বয়ক মো. আবদুস সামাদ, বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত সেবাগ্রহীতা, হাসপাতালের চিকিৎসক, হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সংবাদকর্মি, স্বজন ও ইয়েস, সদস্য সহ বিভিন্ন শ্রেনিপেশার ব্যাক্তিবর্গ।