সংবাদ সম্মেলনে সাতক্ষীরার ঘোনা ইউপি চেয়ারম্যানকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষনা করলেন আওয়ামী লীগ নেতারা

0
235

শহর প্রতিনিধি :

আমাদের চেয়ারম্যান সাতক্ষীরার গরু চোরাচালানের ঘোনা ও গাজিপুর ঘাট নিজেই দখল করে নিয়েছেন। এলাকায় পুলিশ পাঠিয়ে নিরীহ লোকদের ধরে বানিজ্য করছেন তিনি। দাঁতভাঙ্গা বিলের ১০০ একর জমি তিনি কেড়ে নিয়ে সেখানে মাছ চাষ শুরু করেছেন। এছাড়া ঘোনা এলাকায় কলেজ ছাত্র গৌতম ও মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম হত্যার সাথে জড়িতরা সবাই চেয়ারম্যানের পেটুয়া বাহিনীর সদস্য’।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান মোশার বিরুদ্ধে এলাকার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এই অভিযোগ এনে  দল থেকে তার বহিস্কার দাবি করেছেন। একই সাথে তারা তাকে ঘোনা এলাকায়  অবাঞ্ছিত ঘোষনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানিয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সরদার রহিল উদ্দিন ও সাধারন সম্পাদক আবুবকর সিদ্দিকসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
তবে চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান  এসব বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন সব অভিযোগ মিথ্যা। দলের কাউন্সিলর হতে না পেরে একটি মহল এই প্রচার দিচ্ছে। আমি আমার এলাকায় একটি সমাবেশ ডেকে এর জবাব দেবো।
সংবাদ সম্মেলনে ৯ দফার বিভিন্ন অভিযোগ এনে বলা হয় ইউপি সদস্য গনেশ সরকারের ছেলে গৌতম ও  মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম হত্যার সাথে তার বাহিনীর সদস্যরা যুক্ত। এসব মামলার আসামিদের রক্ষার চেষ্টা করছেন চেয়ারম্যান।  তার বাহিনীর সদস্যরা লিয়াকত আলিকে বেধড়ক মারপিট করেছে। দাঁতভাঙ্গা বিলের মোনায়েম সরদারের ১০০ একর চিংড়ি ঘের চেয়ারম্যান দখল করে নিয়েছেন। ছনকা গ্রামের পংকজ ঘোষের তিন একর জমিও দখল করেছেন তিনি। দাঁতভাঙ্গা বিলপাড়ের ১০ গ্রামের মানুষের চাষাবাদ বন্ধ করতে পানি নিষ্কাশন পথ আটকে  দিয়েছেন চেয়ারম্যান। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি রহিল উদ্দিনের ছেলে কামাল হোসেনকে বিজিবি সদস্য দিয়ে পিটিয়েছেন মিথ্যা তথ্য দিয়ে।  প্রতি রাতে এলাকায় পুলিশ পাঠিয়ে নিরীহ মানুষদের ধরে টাকা আদায় করে চেয়ারম্যান তার ভাগ নিচ্ছেন। তারা এলাকার আহারুল, মজিবর ও ইসলামসহ তিনটি নাম তুলে ধরে বলেন তাদের কাছ থেকে একই কায়দায় প্রায় এক লাখ টাকা আদায় করে হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন চেয়ারম্যান আগে জাতীয় পার্টি করতেন। ২০০৩ সালে তিনি জামায়াতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একজন সাধারন সদস্যও নন উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন ‘তিনি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য। আমরা এটা মানিনা। তাকে বহিস্কার করতে হবে। তাকে আমরা অবাঞ্ছিত ঘোষনা করলাম।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তুলে তারা আরও বলেন তিনি টাকার বিনিময়ে ঘোনা স্কুলে বিধি না মেনেই গোপনে একজন পিয়ন নিয়োগ করিয়েছেন। বিদেশ ফেরত এক ব্যক্তিকে তিনি ১০ টাকা মূল্যের  চাল দেওয়ার কার্ড দিয়েছেন।  জানতে চাইলে চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান মোশা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি সমাবেশ করে এর জবাব দেবেন বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি ও সম্পাদক হিসাবে মো. হযরত আলি, জিয়াউর রহমান, আবদুল গফফার, মো. আসাদুল ইসলাম, গোবিন্দ পাল, আবদুল জব্বার, নিমাই সরকার, মো. শাহিনুজ্জামান ডালিম, আবদুর রহমান, ইউনুস আলি, আলমগীর ঢালি, আদর আলি, মিজানুর রহমান মুকুল, রাজিব হায়দর, বদরুদ্দোজা শাহিন, আনন্দকুমার, সাজেদুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর, কামাল হোসেন, মেহেদি হাসান প্রমুখ  উপস্থিত ছিলেন  ।

এস এম পলাশ