শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট করেছে মালয়েশিয়ার সরকার

1
151

অনলাইন ডেস্কঃ

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট বাংলাদেশ সরকার করেনি। করেছে মালয়েশিয়ার সরকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়ায় প্রায় ১,১০০ এজেন্সির তালিকা পাঠিয়েছে। কিন্তু তারা সেখানে মাত্র ১০টি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে কাজ করার অনুমোদন দিয়েছে। ১০টিতে রাজি না হলে তারা মালয়েশিয়ার বাজার আবারো বন্ধ করে দিতে পারতো। তাই আমরা এ নিয়ে আর কোন কথা বলিনি। রোববার ‘মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য শ্রম বাজার পরিস্থিতি’ বিষয়ক সেমিনারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি এসব কথা বলেন। জনশক্তি রপ্তানিখাতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফর বাংলাদেশী মাইগ্র্যান্টস (আরবিএম) ‘মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে মন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ায় অবৈধ বাংলাদেশী প্রবাসীদের বিরুদ্ধে দেশটির সরকার অভিযান বন্ধ করেছে। কারণ, তাদের দেওয়া সময় অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত অবৈধদের বৈধতার জন্য সময় রয়েছে। কিন্তু তারা হঠাৎ করেই অভিযান শুরু করেছে। এরপরই সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জানানো হলে, তারা অভিযান বন্ধ করে। তিনি আরো বলেন, আমাদের পদে পদে সমস্যা রয়েছে। কিন্তু এসব সমস্যা হঠাৎ করেই সমাধান করা সম্ভব হবে না। তবে এসব সমস্যা সমাধানে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। সরকার জাপান ও রাশিয়াসহ আরো বেশ কিছু নতুন শ্রমবাজার খোলার ব্যাপারে কাজ করছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব জাবেদ আহমেদ বলেন, অভিবাসন ব্যয় ও মালয়েশিয়ার সিন্ডিকেট নিয়ে সরকার বিব্রতকর অবস্থায় আছে। এ নিয়ে আমরা কাজ করছি। তবে অনেক সমস্যার সমাধান একদিনে করা যাবে না। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। তাই আমরা কোন পদক্ষেপ নিতে পারছি না। যেসব বিষয়ে কোন মামলা নেই, আমরা সেসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি। অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় প্রসঙ্গে সচিব বলেন, সরকার অভিবাসন ব্যয় নিয়ে কাজ করছে। আমাদের অভিবাসন ব্যয় অনেক বেশি। পৃথিবীর অনেক দেশেই অভিবাসন ব্যয় এত বেশি নয়। তারা যতদূর সম্ভব অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে কর্মী পাঠাতে চেষ্টা করে। যে কারণে নেপালের শ্রমিক এখন বিভিন্ন দেশে বাড়ছে। আমাদেরও এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশের শ্রমবাজার সংকুচিত হয়ে পড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন জনশক্তি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক সেলিম রেজা বলেন, বাংলাদেশের শ্রমবাজার সংকুচিত হচ্ছে না, বরং কর্মী প্রেরণের পরিমান বাড়ছে। এরআগে একবছরে আমরা সর্বোচ্চ ৮.৭৫ লাখ কর্মী পাঠাতে পেরেছি। কিন্তু চলতি বছরের প্রথম সাড়ে ছয় মাসে এখন পর্যন্ত কর্মী পাঠানো হয়েছে ৫.৫৪ লাখ। যা বছর শেষে অতীতের রেকর্ড ভেঙ্গে ১০ লাখ অতিক্রম করবে। নারী পাসপোর্ট না থাকলে পুরুষদের ভিসা পাওয়ার জটিলতা প্রসঙ্গে বায়রার যুগ্ম-মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, সৌদি আরবে পুরুষ কর্মীদের পাঠানোর জন্য নারী পাসপোর্ট বাধ্যতামূলক করে বিদ্যমান নির্দেশনা ইতোমধ্যেই স্থগিত করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে নারী পাসপোর্ট ছাড়াই পুরুষদের ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা দেওয়া যাবে। এতে দেশটিতে ভবিষ্যতে পুরুষ কর্মীর পাঠানোর সংখ্যা আরো বেড়ে যাবে। অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট ব্যবস্থাকে অভিবাসন খাতের বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে রামরুর নির্বাহী পরিচালক সিআর আবরার বলেন এ ধরনের অবস্থা কাঙ্খিত নয়। দেশের শ্রমবাজার বাঁচাতে এ ধরণের সিন্ডিকেট ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে। অভিবাসন ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় শ্রমিকরা গিয়ে বেকার হয়ে পড়ছে। এসব কর্মীদের দুতাবাসের মাধ্যমে সুরক্ষা দিতে হবে। বিভিন্ন দেশের শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময়সীমা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত, ফিলিপিন, শ্রীলংকা ও নেপালে যেখানে ১৫ দিন থেকে ২৮ দিনের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া শেষ হয়, সেখানে বাংলাদেশে লাগে আড়াইমাস। এ অবস্থা দূর করতে পারলে শ্রমিকদের দূর্ভোগ কমে আসবে। ব্রাক-এর হেড অব মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম শরীফুল হাসান বলেন, মালয়েশিয়ার নতুন করে শ্রমিক পাঠানোর চেয়ে অবৈধ বাংলাদেশীদের বৈধতা দেওয়া এবং অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণই এই মুহূর্তে শ্রমখাতের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে পারে। ইউরোপে অবৈধ অভিবাসী যাওয়ার বন্ধ না করলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। আরবিএম সভাপতি ফিরোজ মান্নার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন নির্বাহী সদস্য মহসীনুল করিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রিপোর্টার্স ফর বাংলাদেশী মাইগ্র্যান্টস (আরবিএম)-এর সদস্যরা।

1 COMMENT