শ্যামনগর রমজাননগর মোঃ আকবর আলী সংবাদ সম্মেলন

0
73

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ৬নং রমজাননগর ইউনিয়নে গত ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পূর্ব রমজাননগর প্রাইমারি স্কুল কেন্দ্রে প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের বিরুদ্ধে ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচনী ফলাফল প্রত্যাখান করেছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোঃ আকবর আলী। বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই কেন্দ্রের ভোট পুনঃ গণনার দাবি জানিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ২২ শে মার্চ অনুষ্ঠিত চেয়ারম্যান পদের নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডে ঘোড়া প্রতিকের প্রার্থী শেখ আল মামুনের চেয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ১৮ভোট বেশী পেয়ে আমি নির্বাচিত হই। কিন্তু শেখ আল মামুনের নিজ গ্রামের বাড়ি ৪নং ওয়ার্ডের কেন্দ্রের রেজাল্ট শীটে ফ্লুইড মেরে ফলাফল পাল্টে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে দরখাস্ত করলে তদন্ত সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশন ওই কেন্দ্রে পুনঃ ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুসারে গত ১৬ এপ্রিল উক্ত ৪ নং ওয়ার্ডে পুনঃ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, পুনঃ নির্বাচনী তপশীল ঘোষনার পরে শেখ আল মামুন ও তার লোকজনের বাধার মুখে আমি রমজাননগর গ্রামে একদিনও গণসংযোগ করিতে পারিনি। তাছাড়া ভোটের আগের রাতে কতক সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার প্রার্থী মামুনের বাড়ীতে রাত যাপন করে ভোট কারচুপি ও গণনার বিষয়ে গোপন ষড়যন্ত্র করে। সে কারনে কেন্দ্রের বুথের গোপনিয়তা নষ্ট করে ভীতির মধ্যে ফেলে আমার ভোটারদেরকে ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়। এব্যপারে আমার এজেন্টের পক্ষ থেকে ও আমি নিজে লিখিত আপত্তি দিলেও প্রজাইডিং অফিসার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে আমার প্রতিপক্ষকে সুযোগ দানে অব্যাহত রাখে। এর পরও সাহসী ভোটাররা ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল পরিমান ভোট প্রদান করে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারগণ ভোট গণনার শুরুতে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচনী এজেন্টগণের কাছ থেকে ফরম “ঞ”-তে স্বাক্ষর করে নেয়। যা বে-আইনী হওয়ায় আমার এজেন্ট স্বাক্ষর করেনি। সে কারণে ভোট গণনার সময় তাকে বাইরে রেব করে দেওয়া হয়। সে সময় আমার এজেন্টেদের মাধ্যমে ভোট পুনঃ গণনার আবেদন দিলেও প্রিজাইডিং অফিসার তা গ্রহণ করেননি। ভোট গণানা শেষে কেন্দ্রে আমার এজেন্টের কাছে কোন কপি প্রদান করেনি। সন্ধ্যায় উপজেলা সদরে গিয়ে রির্টানিং অফিসারের কাছে রেজাল্ট শীটের কপি চাইলে, তিনি বলেন সকল ভোট যোগ করে আপনি ৩৪ ভোটে হেরে গেছেন। পর দিন অফিস থেকে আমাকে যে রোজাল্ট শীট দেয়া হয় তাতে আমার এজেন্টের জড়ানো একটি সহি দেখানো হয়। এছাড়া কেন্দ্রে ২২২০টি ভোট কাস্ট হওয়ার কথা শুনলেও রেজাল্ট শীটে ২২৫৯টি ভোট কাস্ট দেখানো হয়েছে। আমি বিশ্বস্থ সুত্রে জানিতে পারি যে, প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার পরস্পর সহযোগীতায় দুপুরে লাঞ্চের সময় প্রায় ২০০ ব্যালট কেটে ঘোড়া প্রতীকে সীল মেরে বাক্সে ঢুকিয়েছিল।এছাড়া ভোটের ফলাফল ঘোষনার পরেই ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী ও কমীরা ধানের শীষ প্রতীকের ভোটার ও কর্মীদের বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ঘর-বাড়ী ভাংচুর ও শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত করে এবং নারী সদস্যদের শ্লীতহানি ঘটনায়। বর্তমানে তারা আমার কর্মীদের মারপিট ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে। আমাকেও অপমান অপদস্থ এমনকি জীবনানাশের হুমকি দিচ্ছে তারা। বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছি।এতদস্বত্বেও আমার প্রতিদ্বন্ধী ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী আল মামুন গত ২৪ এপ্রিল বিকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নিজের কৃত অপকর্ম ঢাকতে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্যে  উপস্থাপন করেছেন। আমি এর জোর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি উল্লেখিত ভোটের ফলাফল প্রত্যাখানসহ পুনঃ গণনার জন্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে জোর দাবি জানান। একই সাথে তিনি নিজের ও কর্মী, সমর্থক এবং ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।