শ্যামনগরের নুরনগরের আসমা খাতুন পৈতৃক জমি রক্ষায় হিমসিম খাচ্ছেন

0
124

শহর প্রতিনিধি:
আমাদের পৈত্রিক জমি গফফার ও তার বাহিনী জোর করে দখল করে নিচ্ছে। হুমকি দিয়ে বলেছে দুই লাখ টাকা দিবি না হয় ঘের ছেড়ে চলে যাবি। দুর্ধর্ষ এই গফফারের দাপটে আমরা টিকতে পারছি না।
বুধবার সকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে একথা বলেন শ্যামনগরের নুরনগর ইউনিয়নের পাইকামারি গ্রামের মুজিবর রহমানের মেয়ে কলেজ ছাত্রী আসমা উল হুসনা। তিনি বলেন, আমরা ৫ বোন ও ১ ভাই হয়ে পিতৃহীন অবস্থায় অভিভাবকহারা হয়েছি। আর এই সুযোগে দুর্ধর্ষ আব্দুল গফফার আমাদের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। এই গফফার নিজে একজন পেশাদার ভাড়াটে সাক্ষী। এখনও কমপক্ষে একশটি কেসের মিথ্যা সাক্ষী তিনি। শুধু তাই নয়, অন্তত ২০টি মামলার আসামীও এই গফফার। তার বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, ভুমি জবর দখল ও পুলিশ লাঞ্ছিতের মামলাও।
সংবাদ সম্মেলনে আসমা উল হুসনা জানান, দাসকাটী গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মন্ডলের কাছ থেকে ৭ বিঘা ৫ কাঠা জমি কিনে তার বাবা মুজিবর রহমান ১৯৮৬ সাল থেকে ধান ও মাছ চাষ করে আসছেন। বাবার মৃত্যুর পর এখন হঠাৎ নূরনগর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বর ছোট শ্যামনগর গ্রামের মনতেজ এর ছেলে আবদুল গফফার হাজির হয়ে আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে সে জানিয়ে দিয়েছে ঘেরে থাকতে হলে তাকে ২ লাখ টাকা চাঁদা দিয়ে আসতে হবে। এর অন্যথা হলে হাত পা ভেঙে দেওয়া হবে। আসমা আরও জানান, টাকার বিনিময়ে গফফার বিভিন্ন স্থানে ভূমি দখল করে। এ ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হয়ে আমার বাবা মুজিবর রহমান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এই সুযোগে গফফার ও তার বাহিনীর সদস্যরা আমাদের বাড়িঘরে এমনকি হাটবাজারে যেয়ে হুমকি দিচ্ছে। আমরা এখন একদিকে যেমন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, অপরদিকে তেমনি পৈতৃক জমি রক্ষায় অসহায় হয়ে পড়েছি। সম্প্রতি তার হুমকি পেয়ে আমার একমাত্র ভাই ওমর আল মামুন গফফারের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় একটি জিডি করেছে।তিনি বলেন, আমরা গফফার বাহিনীর কবল থেকে মুক্তি চাই। এ ব্যাপারে খুলনার ডিআইজি, সাতক্ষীরার এসপি, কালিগঞ্জ সার্কেলের এএসপি এবং শ্যামনগরের ওসি সহ পুলিশ কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করছি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আসমার মা মমতাজ বেগম এবং ৫ বোন রতনপুর গ্রামের সালমা খাতুন, মাজাট গ্রামের তাজিনা পারভিন, সুয়ারিয়া গ্রামের শাহিনা পারভিন এবং কাশিমারীর নাজমা খাতুন। এসময় রতনপুরের সোবহান গাজী ও সাতক্ষীরা হাসপাতাল মোড়ের অনিক মাহমুদ সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।