শৈশব কেন পিছু ডাকে

0
45

ওয়েব ডেস্কঃ

শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন

কেউ কেউ নিজ সন্তানদের ছোটবেলায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে থাকেন৷ তাঁরা হয়ত ভাবতেই পারেন না যে, এতে করে পরবর্তীতে শিশুর কতটা ক্ষতি হতে পারে৷ শিশু বয়সের অতিরিক্ত মারধোর বা মানসিক কষ্টের কথা অনেকে কোনোদিনই ভুলতে পারে না৷ পরবর্তীতে যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে নিজের সন্তান বা পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপর৷

মা-বাবার ঝগড়া বা ডিভোর্স

অনেক শিশু জন্মের পর থেকেই মা-বাবার ঝগড়া দেখতে দেখতে বড় হয়৷ আবার অনেক সময় তারা বড় হওয়ার আগেই বাবা-মায়ের ছাড়াছাড়ি কিংবা ডিভোর্স হয়ে যায়৷ যে কারণে অনেকে সংসারের প্রতি মায়া-মমতা আর আস্থা হারিয়ে ফেলে৷ কেউ কেউ আবার বিপথেও চলে যায়৷

বাবার আধিপত্যSymbolbild Passivrauchen Kinder (Fotolia/Kitty)

আজকের দিনেও এমন অনেক পরিবার আছে, যেখানে শুধু বাবার মতে সংসারের সব কিছু চলে৷ তিনি কোনো অন্যায় বা অপরাধ দেখলে বাচ্চাদের ওপর, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ওপর, এমনকি স্ত্রীকেও মারধোর করেন৷ যা কিনা সকলে মেনে নিতে বাধ্য হয়৷ এমন পরিবেশে বড় হওয়া শিশুর কাছে এমনটাই স্বাভাবিক বলে মনে হয়৷ তবে সমস্যা দেখা দেয়, সেই শিশুটি যখন বড় হয়ে নিজে স্বামী বা বাবা হন৷

পরিবার বা স্কুলে অবহেলা

কোনো কোনো শিশু ছোটবেলায় পরিবার বা স্কুলে ভীষণভাবে অবহেলিত হয়৷ ছোটবেলায় রাগ, দুঃখ-কষ্ট বলতে বা বোঝাতে না পারার কারণে মনের ভেতরে সব ‘চাপা’ থাকে তাদের৷ অনেকক্ষেত্রেই যার প্রকাশ ঘটে বন্ধুত্ব গড়ার সময় বা চাকরির ক্ষেত্রে৷ বিশেষ করে তাদের পক্ষে ‘টিম প্লেয়ার’ বা দলের সাথে মিলেমিশে কাজ করা খুবই কষ্টকর হয়৷ এ কথা জানান জার্মান মনরোগ বিশেষজ্ঞ হাইকে স্ট্যুভেল৷

ট্রমার আঘাত যত বড়, ক্ষতি তত বেশি

ছোটবেলায় পরিবার বা সমাজ থেকে পাওয়া শারীরিক বা মানসিক ‘ট্রমা’ বা আঘাতের মাত্রা যত বড় হয়, পুরোপুরি সুস্থ হওয়া ঠিক ততটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে৷ এ কথা জানান হাইকে স্ট্যুভেল৷

ছোটদেরও রাগ প্রকাশের অধিকার আছে!Sauer sein (Fotolia/Nicole Effinger)

ছোট হোক আর বড় হোক – যে কোনো মানুষেরই রাগ প্রকাশ করার অধিকার রয়েছে৷ কারণ ছোটবেলায় রাগকে নিয়মিত চেপে রাখার ফলে মানুষ দিনদিন ‘অ্যাগ্রেসিভ’ বা হিংস্র হয়ে ওঠে৷ তখন নিজের চারপাশের মানুষগুলোর সঙ্গে সহজ বা স্বাভাবিক আচরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে৷ তাই মাঝে মাঝে রাগকে বের হতে দেওয়াই স্রেয়৷

নানা অসুখের কারণ হতে পারে ‘ট্রমা’

হৃদরোগ, ক্যানসার, অ্যাজমার মতো অসুখের সাথে ছোটবেলার কোনো আঘাতের সম্পর্ক থাকতে পারে, জানান হাইকে স্ট্যুভেল৷ কারো কারো ক্ষেত্রে নাকি এ ধরনের ঘটনা চিরদিনের জন্য মস্তিষ্কে ঢুকে যায়৷ এমনকি কারু কারু ক্ষেত্রে ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির মতো ঘটনা ঘটলেও ভয়ে তারা কোনোদিন মুখ খোলে না৷ বরং ছোটবেলার সেই কষ্ট তারা বয়ে বেড়ায় সারাটা জীবন৷

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

শিশু বা ছোটদের সাথে মানুষের মতো আচরণ করুন৷ ছোটদের যতটা বোকা ভাবা হয় আসলে কিন্তু তারা মোটেই তা নয়৷ তাই বকা-ঝকা বা মারধোর নয়, সমস্যা হলে সুন্দর করে বুঝিয়ে বলুন৷ নিজের চাপ সন্তানের ওপর চাপিয়ে দেবেন না৷ মা-বাবা হয়ে সন্তানকে সঠিকভাবে সামাল দিতে না পারলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন৷ তা না হলে পরে সন্তানের দূরাবস্থা দেখে, নিজেদেরই কষ্ট পেতে হবে৷