শেয়ার কেলেঙ্কারি : কোনো অপরাধ করেননি দাবি সাঈদ চৌধুরীর

0
44

অনলাইন ডেস্ক :

শেয়ারবাজারে ১৯৯৬ সালে ঘটে যাওয়া শেয়ার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজ মামলায় আসামি সাঈদ এইচ চৌধুরী। মঙ্গলবার (২১ মার্চ) শেয়ারবাজার-সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তিতে গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সাফাই সাক্ষী দেয়ার সময় তিনি এ দাবি করেন। সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর ভাই সাঈদ এইচ চৌধুরী আদালতকে জানান, তিনি কোনো অপরাধ করেননি এবং কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। সাফাই সাক্ষী শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারক আকবর আলী শেখ প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজ মামলায় যুক্তিতর্ক গ্রহণের জন্য আগামী ১০ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করেছেন। এ মামলার আসামিরা হলেন- প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম এ রউফ চৌধুরী, পরিচালক সাঈদ এইচ চৌধুরী ও আনু জায়গীরদার এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান।

এর আগে, গত ৮ মার্চ আত্মপক্ষ সমর্থনের সময়ও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন সাঈদ এইচ চৌধুরী। ওইদিন এই মামলার আর এক আসামি এম এ রউফ চৌধুরী আত্মপক্ষ সমর্থনের পাশাপাশি নিজেই সাফাই সাক্ষী প্রদান করেছিলেন। আত্মপক্ষ সমর্থ ও সাফাই সাক্ষী দেয়ার সময় এম এ রউফ চৌধুরীও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। বিএসইসির প্যানেল আইনজীবী মাসুদ রানা খান বলেন, ‘মঙ্গলবার প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজের মামলায় আসামি সাঈদ এইচ চৌধুরীর সাফাই সাক্ষী প্রদানের জন্য পূর্বনির্ধারিত ছিল। তার সাফাই সাক্ষী শেষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামি ১০ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইবুন্যালের বিচারক।’ এদিন আসামি এম এ রউফ চৌধুরীর আইনজীবী শেখ বাহারুল ইসলাম ও আব্দুস সালাম খান এবং আসামি সাঈদ এইচ চৌধুরীর আইনজীবী আলহাজ মো. বোরহান উদ্দিন ট্রাইবুন্যালে উপস্থিত ছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামিরা প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজের নামে ১৯৯৬ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার লেনদেন করেছেন। এ সময়ে তারা মিতা টেক্সটাইল, প্রাইম টেক্সটাইল, বাটা সুজ ও বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার লেনদেন করেন। প্রতিষ্ঠানটি ওই সময়ে মোট ১২৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা লেনদেন করে। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি শুধু ফরেন ডেলিভারি ভার্সেস পেমেন্টের (ডিভিপি) মাধ্যমে ৮৫ লাখ টাকা লেনদেন করে। ওই সময় এক নম্বর আসামি প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজ ২১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৩টি শেয়ার বিক্রি করে, যার মূল্য ছিল ৬৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা। স্টক এক্সচেঞ্জের রেকর্ড মোতাবেক আসামিরা এসিআই লিমিটেডের এক লাখ ৬৪ হাজার ৮১৯টি শেয়ার বিক্রি করেন। অথচ ব্যাংক রেকর্ড অনুযায়ী শেয়ার বিক্রির পরিমাণ দুই লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৮টি, যার মধ্যে ফরেন ডিভিপির মাধ্যমে লেনদেন অনিষ্পত্তি হওয়া শেয়ারের পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

একইভাবে আসামিরা ডিভিপির মাধ্যম ছাড়াও স্থানীয়ভাবে শেয়ারের অন্যতম ক্রেতা-বিক্রেতা ছিলেন। আসামিরা ওই সময়ের মধ্যে বেক্সিমকো ফার্মার ১৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৯৫টি শেয়ার বিক্রি করেন। এর মধ্যে ডিভিপির মাধ্যমে ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭০০টি শেয়ার বিক্রি করেন। এখানেও অনিষ্পত্তি হওয়া শেয়ার ছিল এক লাখ এক হাজার ৫০০টি। এসব ফরেন ডিভিপির মাধ্যমে লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য প্রতিষ্ঠানটি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও ইন্দোসুয়েজ ব্যাংক ব্যবহার করত। আসামিদের এ ধরনের কার্যকলাপ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি, অপকার ও অনিষ্ট করেছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ-১৯৬৯ এর ২১ ধারা বলে গঠিত তদন্ত কমিটি ১৯৯৭ সালের ২৭ মার্চ একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে আসামিরা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ-১৯৬৯ এর ১৭ ধারার ই(২) বিধান লঙ্ঘন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জানুয়ারি এ মামলার চারজন সাক্ষীর মধ্যে ডিএসইর মহা-ব্যবস্থাপক রুহুল খালেক, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ দেলোয়ার হোসেন ও বিএসইসির সহকারী পরিচালক এনামুল হককে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন। আর ১ মার্চ অপর সাক্ষী মনিরউদ্দিন আহমেদকে জেরা করা হয়। এদিকে একই মামলায় আসামি মশিউর রহমান ও আনু জায়গীরদারের বিচারকাজ বন্ধ রয়েছে। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে এই আসামিদের বিচারকাজ বন্ধ রয়েছে। যা আগামি ২ মে পর্যন্ত কার্যকরি। আসামিদের এই মামলায় দুই দফায় ৬ মাস করে এক বছরের স্থগিতাদেশ দেন উচ্চ আদালত। প্রথমবার ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল এ বিচারকাজে ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দেয়া হয়। স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষে ২৯ নভেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দেন আদালত।

এস এম পলাশ

LEAVE A REPLY