শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব

1
1596

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি :
বছর ঘুরে আবার এলো মহাশক্তি-মহামায়া দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাস। সাদা কাশফুলের সমারোহ আর ফুটে ওঠা শিউলি ফুলের ঘ্রাণকে সঙ্গী করে ভক্ত অনুরাগীদের মাঝে আসছেন দুর্গতিনাশিনী দশভূজা দেবী দুর্গা। মহাষষ্ঠী আজ। দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস। ষষ্ঠী পুজার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রধান ধমীর্য় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসব। আগামী মঙ্গলবার বাংলা ২৪ শে আশ্বিন ১১ অক্টোবর দশমী বিহিত পুজা দর্পণ, বিসর্জন এবং শান্তিজল গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ৬ দিন ব্যাপী শারদোৎসব। এবার দেবীর আগমন ঘোড়ায় যাবেনও ঘোড়ায় চড়ে। শাস্ত্রমতে এর অর্থ ঝড় ঝাঞ্জা কিংবা খরার সম্ভাবনা। আয়োজক কমিটি এরই মধ্যে পুজাকে উৎসব মুখর ও শান্তিপুর্ণ অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। হিন্দু শাস্ত্রমতে মা দেবী দুর্গা ঋতুর রাণী শরতের এই ¯িœগ্ধ সময়ে স্বর্গালোকের কৈলাশে স্বামীগৃহ হতে মর্ত্যে পিতৃলোকে কন্যা স্বরস্বতী লক্ষী এবং পুত্র গণেশ ও কার্তিক কে সঙ্গে নিয়ে বেড়াতে আসেন। এ পুজা মুলত প্রথমে বসন্তে রাজা সুরথ দেবী দুর্গাপুজার আয়োজন করেছিলেন। সেজন্য এ পুজাকে বাসন্তী পুজা বলে আখ্যায়িত করা হতো। কিন্তু রাবণের হাত থেকে স্ত্রী সীতাকে উদ্ধার করতে যাওয়ার আগে শ্রী রামচন্দ্র দেবীর পুজার আয়োজন করেছিলেন শরৎকালের আমাবস্যার তিথিতে। এজন্য শরৎকালের এ পুজাকে সনাতন শাস্ত্রমতে অকাল বোধনও বলা হয়। এক কথায় শারদীয় দুর্গাপুজা। শরতের প্রাতঃকালে তৃণপল্লবে নব শিশিরের আলিম্পন, নদীতীরে কাশফুলের শুভ্র সমারোহ আর জোৎনাকান্তি রাত্রি হরিকেল বাংলার পথে প্রান্তরে রুপসী রুপমঞ্চে শরতের আনন্দময় আর্বিভাবে রুপ বৈভবের মাঝখানে বেজে ওঠে বাঙ্গালির প্রাণের বাঁশির সুর। এ ঋতুতে ঘরের বন্ধন ছিন্ন করে অফুরন্ত সৌন্দর্যের জোয়ারে ভেসে যেতে চায় সকলের মন। এমনিতেই ছুটির এক অবগাহনের ঋতু শরৎ। রুপে রসে বৈচিত্রে পরিপূর্ণ জননী জন্মভূমির রুপসী মানস কন্যা যেন বাংলা প্রাণের প্রতিমা প্রতীম। আজ সেজে উঠেছেন অপরুপ সাজে। হাজার বছরের ঐতিহ্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে সারাদেশের ন্যায় তালা উপজেলায়ও উৎসবে মেতে উঠেছে সকলের মন। মা দেবী দুর্গা যেমন দুষ্টের দমনকারীনি তেমনি শিষ্টের পালনকারীনিও। তিনি মহাশক্তি মহামায়া দুর্গতিনাশিনী যার কাছে শত্রু দমনে চায় শক্তি, বিপদে অভয়, সম্পদের জন্য বর আর মরণে চায় মোক্ষ। সেই মহিদর্শিনী বিপদনাশিনী রুপসী মানস কন্যা বাংলা প্রাণের প্রতিমা প্রতীম দশভূজা দেবীকে আজ ষষ্ঠীর দিন সাজিয়ে তোলা হয়েছে জীবন্ত রুপে। দশ প্রহার দায়িনী দেবী দুর্গার আগমনে এ যেন নান্দিমুখ। আজ পূর্বাহ্ন ৯। ২৮ মিঃ মধ্যে ষষ্ঠাদিকল্পারম্ভ স্বায়ংকালে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস। ভক্ত অনুরাগীরা শঙ্খ উলুধ্বনি নৃত্য ও মঙ্গলাসঙ্গীতের মধ্যদিয়ে মহামায়া দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিবেন। যুগ-যুগান্তর ধরে সনাতন ধর্মালম্বী মানুষ সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য লাভের আশায় মহামায়ার আরাধনা উপাসনা ভক্তি আর শ্রদ্ধাভরে পুজা অর্চনা পালন করে আসছেন। কাঁদামাটির প্রলেপ ও রংতুলির আঁচড়ে গড়ে তোলা মুর্তিকে দেবতা মনে করে চারপাশে শুধু প্রাণের ঠাকুর দেখতে পান। সকল পাপাচার থেকে মুক্তি পেতে মা দেবী দুর্গার পায়ের নিচে প্রার্থনা করতে করতে অসংখ্য ভক্ত অনুরাগীরা ব্যাকুল হয়ে পড়েন। তালা উপজেলা পুজা আয়োজক কমিটি সকল প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন করেছে। মন্ডপগুলোকে রং বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন, বর্ণিল তোরণ, অত্যাধুনিক লাইট শো, ডিজিটাল সাউন্ড স্থাপনের পাশাপাশি সাজিয়ে তোলা হয়েছে অপরুপ সাজে। উৎসবকে শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসনের উদ্যোগে ৪ স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এবছর দুর্গাপুজা উপলক্ষে তালা উপজেলায় সরকারীভাবে ১৭৮ টি পুজা মন্ডপে জিআর খাত হতে ৮৯.৫০ মেট্রিকটন চাউল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এস.এম মফিদুল ইসলাম/একে/আই।

1 COMMENT