শুরু হচ্ছে খান আতিয়ূর রহমান (রহঃ) তিন দিন ব্যাপি পবিত্র ওরছ শরীফ

0
93

আশাশুনি প্রতিনিধি:

রোজ কত মানুষ মারা যায় আর কত মানুষ জন্ম গ্রহণ করে। কে তাদের কথা মনে রাখে? কিন্তু মাঝে মাঝে এমনও মহা মনিষী জন্মগ্রহণ করেন যাদের কথা মানুষ চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। এমনই একজন মহান শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি ছিলেন সুলতানুল আউলিয়া কুতুবুল আকতাব আরেফ বিল্লাহ হযরত শাহ সুফী খান আতিয়ূর রহমান (রহঃ)।
অবিভক্ত ভারতে যে কয়জন মহা মনিষী ইসলাম প্রচার ও প্রসারে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন তাদের মধ্যে খান আতিয়ূর রহমান (রহঃ) ছিলেন একজন। বাংলা ১৩১৬ সালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলর ফিংড়ী ইউনিয়নের গোবরদাড়ি জি.ফুলবাড়ী গ্রামে এই মহান মনিষী জম্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম নছিমুদ্দীন খান, মাতা ফাতেমা খাতুন। তিন ভাই আর দুই বোনের মধ্যে খান আতিয়ূর রহমান(রহঃ) ছিলেন সবার বড়। পিতার আর্থিক দৈন্যতার কারণে শিশু বয়সে তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পায়রাডাঙ্গা গ্রামে ফুফুর বাড়িতে থেকে লেখা পড়া করেন। এখানে থেকে তিনি স্থানীয় বাবুলিয়া হাইস্কুলে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত এবং পরবর্তীতে ভারতের চব্বিশ পরগনা জেলার হাকিমপুর হাইস্কুল থেকে ম্যাট্টিক পাশ করেন। অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতার কারণে খান আতিয়ূর রহমান (রহঃ) এর লেখাপড়া আর বেশিদুর এগুতে পারেনি। এরপর জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করতে যোগ দেন পিতার সাথে। পিতার কাপড়ের দোকানে তিনি কাজ করতে থাকেন।
এক পর্যায়ে কুল্যা ইউনিয়নে গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচিত হয়ে সুনামের সাথে কাজ করেন। শৈশব কাল থেকে খান আতিয়ূর রহমান (রহঃ) ছিলেন সত্যবাদী, ক্ষমাশীল, ধৈর্যশীল ও কর্তব্যনিষ্ঠ। তার জীবনধারণ পদ্ধতি ছিল খুবই সাধারণ। এমনিভাবে চলতে থাকে খান আতিয়ূর রহমান (রহঃ) এর জীবন। যৌবনের এক পর্যায়ে এসে তিনি নলতা শরীফের সুলতানুল আউলিয়া, কুতুবুল আকতাব, আরেফ বিল্লাহ, গাউছে জামান হযরত শাহ সুফী খান বাহাদুর আহছান উল্যাহ (রহঃ) এর সান্নিধ্য লাভ করেন, মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি নলতা শরীফের খতিব পদে অধিষ্ঠ ছিলেন। খান আতিয়ূর রহমান (রহঃ) ছিলেন স্বাধীনতা কামী একজন মহান পুরুষ। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি রাত জেগে ইবাদত করতেন, আর দেশের স্বাধীনতা কামনা করে দোয়া চাইতেন।
তার উৎকৃষ্ট উদাহরন, মুক্তিযদ্ধের নয়মাস তিনি রোজাব্রত পালন করেন। তিনি বলতেন, দেশ যতদিন স্বাধীন না হবে ততদিন তিনি রোজাব্রত পালন করবেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে খান আতিয়ূর রহমান (রহঃ) প্রচুর ধন সম্পত্তির মালিক হন। কিন্তু এ ধন সম্পত্তি তিনি নিজের কাজে ব্যয় করেন নি। তিনি জি.ফুলবাড়ি হাফিজিয়া মাদরাসা, আলিম মাদরাসা, পোস্ট অফিস, ব্যাংক, মসজিদ আহছানিয়া মিশন, এতিমখানাসহ বহু প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। খান আতিয়ূর রহমান (রহঃ) এর জীবনের ব্রত ও শিক্ষা ছিল স্রষ্টার ইবাদত ও সৃষ্টের সেবা। এই অসাম্প্রদায়িক মহান ব্রত দেশ কাল ছাপিয়ে গিয়েছিল। তিনি বনের পশু পাখিকে খুব পছন্দ করতেন। বনের পশুরাও তার অসাধারণ ব্যক্তিত্বকে অলৌকিকভাবে পছন্দ করতো।  খান আতিায়ূর রহমান (রহঃ) ছিলেন স্বল্পভাষী, অতিথিপরায়ন এবং মিতব্যয়ী ব্যক্তি। ১৯৮৯ সালের ৫ফেব্রুয়ারি তিনি ইন্তেকাল করেন।
বর্তমানে তার ৯ সন্তানের মধ্যে ৩ মেয়ে ও ৬ ছেলে। ছেলেদের মধ্যে প্রায় সবাই দেশে বিদেশে চাকরিরত। প্রতিবছর ইং ৪, ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলা- ২২,২৩ ও ২৪ মাঘে দরগাহ শরীফে ওরছ অনুষ্ঠিত হয়। এ ওরছে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভক্তরা ছুটে আসেন। খান আতিয়ূর রহমান (রহঃ) আজ আমাদের মাঝে নেই কিন্তু তার জীবনাদর্শ ও কীর্তি আমাদের মাঝে আজো স্মরনীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন।

মোঃ নুর আলম