শীতকালীন গ্রামীণ মেলায় লিয়াকতের ঝাঁল মুড়ি!

0
190

মুনসুর রহমান: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আবাদের হাট গ্রামে লিয়াকত (৩৫) বসবাস। মা-বাবা ও স্ত্রী পরিজন নিয়ে সংসার। সংসারের অভাব অনটনের কারণে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত গিয়ে তার পরাশোনা বন্ধ হয়ে যায়। জীবিকা অর্জনের জন্য প্রথমে দিনমজুরের কাজ করে। সেখান থেকে যা আয় করেন তা দিয়ে তাঁর সংসার চলে না। সংসারের চাকাকে গতিশীল করার জন্য গত এক যুগ তিনি ঝাঁল চানাচুর নিয়ে স্কুলে তথা বিভিন্ন মেলায় বিক্রি করতে শুরু  করেন। তিনি পরিস্কার পরিচ্ছন্নভাবে চানাচুর বিক্রি করেন। এজন্য অনেকেই তার ঝালমুড়ি ও চানাচুর কিনে খান। এভাবে দিনে দিনে তাঁর বিক্রি বেড়ে যায়; আয়ও ভালো হয়। ঝালুমড়ি বিক্রির সফলতার ধারাবাহিকতায় তিনি আবাদের হাট বাজারে একটি দোকান দেন। ঝালুমড়ি বিক্রির আয় থেকে লিয়াকত সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনেন। আর দোকানের জন্য একটি কাঠের বাকস্ তৈরি করে তাঁর ভেতরে মুড়ি, চানাচুর, ছোলা, বুট, তেল, ধনেপাতা, আদা, মরিচ, পেঁয়াজ, বাড়িতে তৈরি করা মসলাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রতিদিন ভোরে স্কুলের দিকে রওয়ানা দেন। তিনি জানান, গড়ে দৈনিক ১২০০ টাকার ঝাঁল মুড়ি বিক্রি হয়। খরচ বাদ দিয়ে তিনি দিনে ৫০০ টাকা আয় করেন। বিকালে আবাদের হাট বাজারে নিজ দোকানে তিনি মুড়ি বিক্রি করেন। এভাবে লিয়াকতের দিন কেটে যায়। লিয়াকতের সাথে কথা বলে জানা যায়, “শীতকালীন গ্রামীণ মেলায় চানাচুর ও ঝাঁল মুড়ি বিক্রি করতে পেরে লাভ বেশি হচেছ পরিশ্রম কম হচ্ছে।” মেলার ভিতরের স্টলে চানাচুর বিক্রি এই মেলায় এটাই প্রথম। জীবিকা অর্জনের তাগিদে মানুষ কত কিছুই না করার সাধ্য রাখেন। কারও ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য লিয়াকতের মতো বাংলাদেশে অনেক সংগ্রামী ও উদ্যমী মানুষ রয়েছেন যারা আত্ম সম্মানের সাথে জীবন পথে এগিয়ে চলেন। চানাচুর বা ঝালমুড়ি বিক্রি করা একটি ছোট পেশা হতে পারে তবে এই পেশার মাধ্যমে সৎভাবে উপার্জন করা যায়; কাউকে প্রতারণা না করেও বেঁচে থাকা যায়। এটাই লিয়াকতকে গর্বিত করে। কারণ তিনি তাঁর জীবিকা অর্জনের জন্য কাউকে প্রতারণা করেননি এবং কারও বোঝা হিসেবে দাঁড়াননি।