শিশুশ্রম বন্ধে চাই সম্মিলিত প্রচেষ্টা

0
89

বরুণ ব্যানার্জী: শিশুশ্রম বন্ধের জন্য আমাদের দেশে আইন আছে। কিন্তু আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় দেশে শিশুশ্রমের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। স্মরণ রাখতে হবে, শিশুরা শ্রমের হাতিয়ার নয়, জাতির ভবিষ্যৎ; শিশুদের হাতে ভিক্ষার থলে নয়, চাই বই ও কলম এ কথাগুলো আজ শুধুই বইয়ের পাতায় লিপিবদ্ধ। তারা আজ বিভিন্ন কাজে শ্রম বিক্রি করেও প্রকৃত মজুরি থেকে বঞ্চিত। শিশুদের অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে আসছে। বিদ্যালয়ে না গিয়ে জীবিকা নির্বাহের কাজ করছে। অল্প বয়সেই অভাব-অনটনে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে তারা। যে বয়সে তাদের স্কুলে গিয়ে হাসি-আনন্দে বেড়ে ওঠার কথা, সেই বয়স থেকে ধরতে হচ্ছে তাদের অভাবী সংসারের হাল। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাসমান অধিকাংশ শিশু অভিভাবকের কাজে সহযোগিতা করা ছাড়াও মোটর, রিকশা ও সাইকেল নির্মাণের কাজ, বিদ্যুৎ, ইটভাটা, চায়ের দোকান, হোটেল-রেস্টুরেন্টে কাজ, রাজমিস্ত্রির সাহায্যকারী, ওয়েল্ডিং কারখানা, গার্মেন্ট, জুট মিল এবং কৃষিসহ বিভিন্ন কাজ করে থাকে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করার ফলে ওদের শারীরিক গঠন বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। অনেক সময় মারাত্মক দুর্ঘটনাও ঘটে। আবার তারা অনেক সময় পঙ্গুও হয়ে থাকে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরা যদি পথশিশুসহ কর্মরত শিশুদের কল্যাণে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে কারিগরি ও কৃষিশিক্ষা প্রদান করতে হবে, তাহলে এসব শিশু অল্প মজুরিতে শ্রম বিক্রি না করে স্বাবলম্বী হতে পারবে। শিশু অধিকার সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তেমনি দারিদ্র্য দূরীকরণে আরো মনোযোগী হতে হবে। সবাই মিলে শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হলে একটি সুন্দর দেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন সফল হবে। দেশ এবং জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছতে পারবে এবং শিশুশ্রমের অভিশাপ থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হবে। আমাদের দেশে শিশুশ্রম বন্ধের যে আইন আছে, তার সঠিক প্রয়োগ করলে এবং শিশুশ্রম বন্ধের জন্য ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালালে দেশের শিশুশ্রমের পরিমাণ অনেকটা কমে আসবে। তাছাড়া যেসব মিল-ফ্যাক্টরি এবং ব্যক্তি শিশুদেরকে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে থাকে, তাদের ব্যাপারে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নিলেও শিশুশ্রম অনেকটা হ্রাস পেতে পারে। আইন করে আমাদের দেশের শিশুদের শ্রম বন্ধ করার পাশাপাশি দেশের সব অভিভাবককে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য শিশুশ্রম বন্ধ করে লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে। শিশুরা লেখাপড়া শিখে সঠিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠলে তারা দেশের জাতীয় সম্পদে পরিণত হবে। শিশুদের অভিভাবকদের সারা জীবনের পরিশ্রম কিছুটা হলেও সার্থক হবে।

LEAVE A REPLY