শিবপুরে বালুর ট্রাকের হাত থেকে রাস্তা রক্ষা করতে যাওয়ায় বিভিন্নভাবে এলাকাবাসীকে হয়রানি করার অভিযোগ

0
351

স্টাফ রিপোর্টার:

‘শিবপুরে বালুর ট্রাকে নষ্ট করছে একাধিক রাস্তা’ শিরোনামে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় বালু ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারের  গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। তারা সদরের শিবপুরের ভঙ্গুর ওই সকল সড়ক দিয়ে ট্রাকের মাধ্যমে বালু বহনের জন্য উঠে পড়ে লেগে গেছেন। এ দিকে রাস্তা নষ্ট হওয়ার বিষয়টি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলম স্থনীয়ভাবে বন্ধ করার পরামর্শ প্রদান করেন। সে মোতাবেক এলাকাবাসী রাস্তার মাঝখানে গাছের খোটা পুতে ট্রাক যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনার পর স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী সাবেক চেয়ারম্যান রজব আলীর দুই ছেলে ওবায়দুল হোসেন মানি ও আনারুল ইসলামের ইন্ধনে আবু মুসা নামের একজন ঠিকাদার বিভিন্নভাবে এলাকাবাসীকে হুমকি ধামকি দেওয়া শুরু করেছেন। এ ছাড়া পুলিশ দিয়ে নানা ভাবে হয়রাণি শুরু করেছেন বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। শিবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠণিক সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, হঠাৎ করে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ৪ জন দারোগা সিম্পল ড্রেস আমার বাড়িতে যায়। এস আই পাইক দেলওয়ার আমার গেটে ধাক্কাধাক্কি করে। শব্দ শুনতে পেয়ে আমার বাড়ি ওয়ালা উঠে বলে আপনি কে? তখন এস আই পাইক দেলওয়ার বলে, ‘আমি থানা থেকে এসেছি। সালাম ভাই বাড়ি আছে’? দারোগা পরিচয় দিলে আমার স্ত্রী ভয়ে বলে, ‘না বাড়ি নেই, আমার শ্বশুর অসুস্থ্য তাই তিনি হাসপাতালে’। এর পর আমার ঘরের গেটে আরো বেশি করে ধাক্কা দিতে থাকলে আমি উঠে বলি, ‘আমি বাড়িতে আছি, আপনি কে’? তখন এসআই পাইক দেলোওয়ার বলে, ‘আমি এস আই পাইক দেলোওয়ার’। তখন আমি বলি, ‘ভাই সমস্যা কী’? তখন তিনি বলেন, ‘আপনাদের নামে কমপ্লেন আছে’। আমি বললাম, ‘কী কমপ্লেন’? তখন তিনি বললেন, ‘মানি আপনাদের বিরুদ্ধে থানায় কমপ্লেন করেছে, আপনারা রাস্তায় গাছ পুতেছেন’। তখন আমি বললাম, ‘ভাই এটাতো আমি করিনি, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি, স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সহ এলাকাবাসী সবাই মিলে করেছে। এলাকার সমস্ত লোকজন এই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করে, রাস্তাটি বালুর ট্রাকে প্রচন্ড নষ্ট করে দিয়েছে। তবে আপনারা এখন রাত সাড়ে ১২টার দিকে না এসে সকালে আসলে সরেজমিনে রাস্তাটি দেখতে পেতেন আর এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানতে পারতেন আসল ঘটনাটি কী? এছাড়া যদি আপনারা এখন দেখতে চান তবে রাস্তায় চলেন বিস্তারিত বুঝতে পারবেন’। তখন এস আই পাইক দেলওয়ার বলেন, ‘না এখন দেখতে যাবোনা, আসাদ স্যার সামনে দাঁড়িয়ে আছে আপনি ওই খানে চলেন। তখন আমি এস আই পাইক দেলওয়ারের সাথে এস আই আসাদ ভাইয়ের ওখানে যায়। তখন এস আই আসাদ ভাই আমাকে বলে, ‘আপনি রাস্তা বন্ধ করেছেন কেন’? তখন আমি তাকে বলি, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতিসহ এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে বন্ধ করে দিয়েছে’। তখন তিনি বলেন, ‘আপনারা বন্ধ করার কে’? আপনাদের কে বন্ধ করতে বলেছে? এমন কথা বলার পর তিনি আমার হাতে হ্যান্ডকাফ দেওয়ার জন্য এস আই দেলওয়ার ভাইকে নির্দেশ দেন। তখন এসআই দেলওয়ারভাই বলেন, ‘স্যার ও দলের ছেলে ওকে নিয়ে যাওয়া ঠিক হবেনা। ওদের টাইম দেন ওরা সেই টাইমের মধ্যে সমস্যার সমাধান করবে’। শনিবার দুপুর ১টার মধ্যে থানায় যেয়ে ওসি স্যারের সাথে আমাদেরকে দেখা করার কথা বলে আমাকে ছেড়ে দিয়ে তখন তারা চলে যায়। শিবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শওকাত আলী বলেন, বালুর ট্রাকে আমাদের এলাকার রাস্তাগুলো শেষ করে দিয়েছে। আমরা স্থানীয়ভাবে শিয়ালডাঙ্গার রাস্তার উপর কাঠ পুতে বালুর ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিলাম কিন্তু শুক্রবার দিবাগত রাতে সদর থানার পুলিশ এসে সে কাঠ তুলে দিয়ে গেছে। আবার সেই রাস্তা দিয়ে বালুর ট্রাক প্রবেশ করছে। এভাবে ট্রাক চললে রাস্তা গুলো একেবারে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এছাড়া  আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি প্রদান করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সদর থানার এস আই আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বাইপাস সড়কে যারা বালু ফেলার কন্ট্রাক্ট নিয়েছে তারা অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা রাত্রে সেখানে গিয়েছিলাম। খোটা দেখেছি। খোটা কারা দিয়েছে, কেন দিয়েছে এ ব্যাপারে লোকজনের কাছে শুনেছি? তারপর বিস্তারিত ওসি স্যারের সাথে বলেছি। পরবর্তীতে কী হবে আর কী না হবে সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এর বেশি কিছু আমি জানিনা। আর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কালামকে এস আই পাইক দেলওয়ার ডেকে নিয়ে এসেছিল, আমি তখন তাকে থানায় নিয়ে আসার জন্য বলি। ‘তখন সে বলে, আমার বাবা স্ট্রোক করেছে, তিনি হাসপাতালে’। তারপর অভিযুক্তদের শনিবারের মধ্যে থানায় আসার কথা বলে আমরা তাকে ছেড়ে দিয়ে আসি।
এ ব্যাপারে বালু ব্যবসায়ী ওবায়দুল হোসেন মানি বলেন, শিয়ালডাঙ্গার শওকাতের নেতৃত্বে ৫/৭ জন আমার কাছে মসজিদের নামে চাঁদা দাবি করে। তাই তাদের বিরুদ্ধে আমি সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর হোসেন সজল বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রসঙ্গত, সদরের শিবপুর ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম্য রাস্তা দিয়ে বালু বহনের কারণে রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। প্রতিদিন এই সকল রাস্তা দিয়ে ১৫ থেকে ২০ টা ট্রাকের মাধ্যমে বালু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আবাদের হাট হতে শিয়ালডাঙ্গা পর্যন্ত ১ কিঃ মিঃ, আবাদের হাট হতে তেতুলতলা পর্যন্ত ৬ কিঃমিঃ, তেতুলতলা হতে পরানদহা পর্যন্ত ২কিঃমিঃ রাস্তা একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। বালুভর্তি ট্রাক প্রবেশের কারণে রাস্তার উপরে পিচের কোন চিহ্ন নেই। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে । সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বারোপোতা হাইস্কুলের পিছনের রাস্তা ও তেতুলতলার মোড়ের রাস্তা। কোথাও কোথাও আবার বালু ব্যবসায়ীরা ও ঠিকাদারেরা নিজেদের স্বার্থে রাস্তায়  পিকেট ইট দিয়ে রাস্তার উপরের গর্ত ভরাট করেছে।

LEAVE A REPLY