শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন না শিক্ষকরা

0
42

এমপিওভুক্তর দাবিতে শিক্ষকদের অনশনের তৃতীয় দিনে তাদের কাছে গিয়ে দাবি পূরণে আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।  তবে তাতে কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।  অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।

শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের বলেছেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে এমপিওভুক্তি নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।  আর অর্থমন্ত্রী বলেছেন, টাকার সংস্থান হবে।  আর নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওভুক্তি চলবে।

তবে শিক্ষক নেতারা বলছেন, এই ধরনের আশ্বাস এর আগেও শুনেছেন তারা।  এবার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা চান তারা।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার পর শিক্ষামন্ত্রী জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষকদের মাঝে যান।  সেখানে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শিক্ষকদের দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে তা বাস্তবায়নে নিজ মন্ত্রণালয়ের নানা প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন নাহিদ।  এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সোহরাব হোসাইনসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রী আজ দেশের বাইরে যাচ্ছেন।  তার আগেই তার সঙ্গে কথা বলতে তিনি প্রতিনিধি দল নিয়ে সকালে তার বাসায় বসেছিলেন।  আর অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি দেশে ফিরেই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী সঙ্গে আমরা কথা পর্যন্ত আমি কথা বলেছি।  তিনি সম্মতি দিয়েছেন, যারা এমপিওভুক্ত হননি, তাদের এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা নেবেন তিনি।  অর্থমন্ত্রী আজ দেশের বাইরে গেছেন।  আমরা এখন তাকে বিমানবন্দরে বিদায় জানিয়ে আপনাদের কাছে এসেছি। ’

মন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।  তিনি বলেন, ‘আমরা কাজ শুরু করেছি এবং এটা বাস্তবায়ন হবে। ’

তবে শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য চলাকালে শিক্ষকরা প্রতিবাদ জানান।  তারা জানান, ইতোমধ্যে ২৬ বার তারা আন্দোলন করেছেন এবং বিভিন্ন সময় আশ্বাসও পেয়েছেন।  কিন্তু কোনো আশ্বাসেই কাজ হয়নি।  তাই এবার তারা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আশ্বাস বা ঘোষণা না পেলে অনশন ভাঙবেন না।  পরে পরে শিক্ষামন্ত্রী কিছুটা রাগ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

নন-এমপিও শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী (ডলার) ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা মন্ত্রীর আশ্বাস প্রত্যাখ্যান করেছি।  এই আশ্বাসে আমরা রাস্তা থেকে উঠব না।  প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিলে ভেবে দেখতে পারি। ’ এদিকে টানা তিন দিন ধরে চলা অনশনে শিক্ষকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

গত রবিবার থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেছেন নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা।  এর আগে একই এলাকায় পাঁচ দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।  শিক্ষকদের মধ্যে এমনও আছেন যারা গত ১৮ বছর ধরে শিক্ষা দিচ্ছেন, কিন্তু কোনো বেতন পাচ্ছেন না।

গত ২০১০ সালে সরকার এক হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তি করে।  কিন্তু এর পর আর কোনো প্রতিষ্ঠানকে এর আওতায় আনা হয়নি।  আর এখন দেশে ছয় হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওর বাইরে রয়ে গেছে।

এমপিওভুক্ত হলে শিক্ষকদের মূল বেতনের শতভাগ সরকার দিয়ে থাকে।  এর বাইরে কিছু ভাতাও পান তারা।  কিন্তু এই সুবিধা না পেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অল্প কিছু টাকা পান শিক্ষকরা।  এই টাকায় সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।  টিউশনি বা অন্য খাত থেকে আসা আয়ই তাদের ভরসা।

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনিও শিক্ষকদেরকে এমপিওভুক্ত করতে চান।  কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো বরাদ্দ দেয়নি এতদিন।