রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিকতা জাগ্রত হোক

0
243

বরুণ ব্যানার্জী:

পৃথিবীর সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠী নাম রোহিঙ্গা। জীবনের অথৈ সাগরে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ভাসমান শ্যাওলার মতো তাদের জীবন। তারা কারো কেউ নয় এবং কোনো স্থানের অধিবাসী নয়। তারা রোহিঙ্গা। নিজ বাসভূমে পরবাসী। মিয়ানমারে বংশ পরম্পরায় বাস করেও তারা মিয়েনমারের নাগরিক নয়। তাড়া খেয়ে বাংলাদেশে, ইন্দোনেশিয়ায়, মালয়েশিয়ায় , থাইল্যান্ডে বা ভারতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা সেসব দেশেরও নাগরিক নয়। সব দেশেই তারা শরণার্থী। অনাকাঙ্ক্ষিত শরণার্থী। মিয়ানমারের একক নাগরিকত্ব পলিসির ছত্রছায়ায় অন্যান্য সকল নৃগোষ্ঠীর ঠাঁই মিললেও রোহিঙ্গাদের কেনো মিলছে না তাই ভাববারই বিষয়। মিয়ানমারে গত ২৫ বছরের মধ্যে অনুষ্ঠিত কোন সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সূচি’র দল ক্ষমতায় আসে। কিন্তু  তাতে রোহিঙ্গাদের ভাগ্যে কোন পরিবর্তন আসেনি। বরং রাষ্ট্র তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না এবং সংখ্যাগুরু বৌদ্ধরা তাদের অবহেলার দৃষ্টিতে দেখে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন এখন বিশ্ব সংবাদ মাধ্যমগুলোর শিরোনাম। রোহিঙ্গারা জীবন বাঁচাতে পালাচ্ছিল মিয়ানমার থেকে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল সমুদ্রে নৌকো ভাসিয়ে দিয়ে যেদিকেই যাচ্ছিলো, সেদিকেই পাড় ছিল কিন্তু অনুমতি ছিল না নৌকো ভেড়াবার। আর মিয়ানমারে যদি রোহিঙ্গারা নিরাপদ বোধ না করে, তবে যে দেশে তাদের যেতে ইচ্ছে হয়, বাস করতে ইচ্ছে হয়, সে দেশেই যেন তাদের যাওয়ার, এবং বাস করার অধিকার থাকে। জগতের সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠীকে জীবন বাঁচাতে সাহায্য না ক’রে যেন কোনও দেশ বড়াই না করে যে তারা গণতন্ত্রে বা মানবাধিকারে বিশ্বাস করে। এবং আমরা মনে করি, বার্মায় মুসলিম নির্যাতনকে কোনো বিবেকবান বৌদ্ধ সমর্থন করতে পারে না। অন্যদিকে একটি অন্যায়ের মোকাবিলায় আরেকটি অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া কোনোমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা যেকোনো সংখ্যালঘু নির্যাতনের নিন্দা জানাই।