রোজায় ব্লাড সুগার কখন মাপা উচিৎ?

0
35

অনলাইন ডেস্কঃ

ডায়াবেটিক রোগীর সুস্থতার চাবিকাঠি হলো নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, সময়মত ওষুধ এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন। রক্তের শর্করা থাকে নিরাপদ মাত্রায়, অতিরিক্ত কম বা বেশী যে কোনটিই ক্ষতিকর। এজন্য ডায়াবেটিস হলে নিয়মিত ব্লাড সুগার মাপা এবং সে অনুযায়ী খাবার ও ওষুধের মাত্রা নির্ধারণ করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। রোজার মাসে খাদ্যগ্রহণের সময় ও খাবারের ধরণ পাল্টে যায়, ডায়াবেটিক রোগীরা চিন্তায় পড়েন তাদের ব্লাড সুগার টেস্ট নিয়ে। রক্ত পরীক্ষায় রোজা ভেঙে যায় না, তবে প্রশ্ন হচ্ছে পরীক্ষা কখন করবেন এবং পরীক্ষায় শর্করার মাত্রা কেমন আসা উচিত। রমজান মাস শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা এবং ওষুধের মাত্রা নির্ধারণ করে নেয়া উচিত। এরপর কয়েকটি রোজা পার হয়ে গেলে ব্লাড সুগার টেস্ট করে ওষুধের ডোজ ঠিক আছে কিনা দেখতে হবে। রোজার সময় কয়েকবার করে রক্তের শর্করা মেপে দেখা দরকার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হচ্ছে সেহরীর দুই ঘন্টা পরে এবং ইফতারের এক ঘন্টা আগে। এছাড়াও অন্য সময় প্রয়োজনবোধে পরীক্ষা করা যেতে পারে। ডায়াবেটিক রোগীদের ব্লাড সুগার অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া (হাইপারগ্লাইসেমিয়া) এবং কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) দুটোরই ঝুঁকি থাকে যা রোজা অবস্থায় আরো বেশী। তাই অসুস্থ বোধ করলে সঙ্গে সঙ্গে ব্লাড সুগার মাপুন।

যে কোন সময় রক্তে শর্করার মাত্রা ৩.৩ মিলিমোল/লিটার (৬০ মি.গ্রা/ডে.লি) এর কম হলে তা আশঙ্কাজনক। আর সেহরীর পর কয়েক ঘন্টার মধ্যে এই মাত্রা ৩.৯ মিলিমোল/লিটার (৭০ মি.গ্রা/ডে.লি) এর কম হলেই তা হাইপোগ্লাইসেমিয়া নির্দেশ করে। অন্যদিকে রক্তের শর্করা ১৬.৭ মিলিমোল/লিটার (৩০০ মি.গ্রা/ডে.লি) এর বেশী হওয়ার অর্থ হাইপারগ্লাইসেমিয়া। হাইপো বা হাইপারগ্লাইসেমিয়া যাই হোক না কেন এক্ষেত্রে রোজা রাখা নিরাপদ হবে না। ডায়াবেটিস রোগ স্বাভাবিক জীবনযাপনে কোন বাধা নয়। শুধু প্রয়োজন একটু বাড়তি সাবধানতা। রোজার সময় রক্তের সুগার পরীক্ষা সেই সাবধানতারই অংশ মাত্র।

LEAVE A REPLY