যৌন হয়রানিবিরোধী আইন দ্রুত প্রণয়নের দাবি

0
110

অনলাইন ডেস্ক:

ইভটিজিং বা উত্ত্যক্তকরণকে যৌন হয়রানি স্বীকৃতি দিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় প্রক্রিয়াধীন আইনটি দ্রুত প্রণয়ন করার দাবি উঠছে। ইভটিজিং প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে উইমেন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের (ডব্লিউজেএনবি) উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘উত্ত্যক্তকরণের নানা রূপ : প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এই দাবি জানান।

তারা বলছেন, উত্ত্যক্তকরণকে হালকা করে দেখার অবকাশ নেই। এটি যৌন হয়রানি এবং সামাজিক অপরাধও। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন। ডব্লিউজেএনবি’র সমন্বয়কারী আঙ্গুর নাহার মন্টির সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার, জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ফৌজিয়া খোন্দকার ইভা, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের ক্যান্সার ইপিডেমিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং প্রজন্ম একাত্তরের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ডা. নুজহাত চৌধুরী শম্পা, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, অনলাইন এক্টিভিস্ট লীনা পারভীন, নিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রধান বার্তা সম্পাদক শাহনাজ মুন্নী, নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেন্ডার বিশেষজ্ঞ লাভলী ইয়াসমিন জেবা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরিদা ইয়াসমিন দিবসটি নিয়মিত পালনের উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধের শিক্ষা পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে। ছেলে শিশুদের পরিবারের নারী সদস্যদের সম্মান করার শিক্ষা দিতে হবে। আর মেয়ে শিশুকে বোঝাতে হবে সে মোটেও দুর্বল নয়। রঞ্জন কর্মকার উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় প্রক্রিয়াধীন যৌন হয়রানিবিরোধী আইনটি দ্রুত প্রণয়নের দাবি জানিয়ে বলেন, উত্ত্যক্তকরণের কুফল ও ভয়াবহতা উপলব্ধি করে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় দিবসটি ঘোষণা করলেও একবারই জাতীয়ভাবে পালন করেছে। অথচ প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিবসটি নিয়মিত পালনের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সম্ভব।

ফৌজিয়া খোন্দকার ইভা উত্ত্যক্তকরণকে প্রাথমিক পর্যায়ের নির্যাতন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মেয়ে শিশুকে সাহসী করে গড়ে তুলতে হবে। যাতে সে মাথা উচুঁ করে প্রতিবাদ করতে শেখে। হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে প্রতিবাদ করা শেখাতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজেও সেই প্রতিবাদ সমর্থন করার চর্চা করতে হবে। নুজহাত চৌধুরী শম্পা যৌন শিক্ষাকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করে বলেন, ঘরের শিক্ষায় আমরা আসলে ছেলে শিশুটিকে যতটা না বোনকে সম্মান করা শেখাই, তার চেয়ে বেশি শেখাই বোনের উপর নজরদারি করা। পরিবারে, স্কুলে মানবিক শিক্ষা দিতে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার।

শামসুন্নাহার চাপা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। কিন্তু সবকিছু সরকারের উপর চাপিয়ে দিলে হবে না। আমরা কী দায়িত্ব পালন করছি সেটিও বিবেচনা করতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সবাইকে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে হবে। লীনা পারভীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উত্ত্যক্ততা, হয়রানি বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, উত্ত্যক্তকরণকে হালকাভাবে দেখা হয় বলেই এটি অপরাধ মনে করা হয় না। তাই আজ আমাদের ৮ মাসের শিশু থেকে বয়স্ক নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। উত্ত্যক্তকরণের চূড়ান্ত রূপই যে ধর্ষণ, সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না। শাহনাজ মুন্নী উত্ত্যক্তকরণের নতুন নতুন রূপ ও ভয়াবহতার মাত্রার উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সাইবার আক্রমণের শিকার হচ্ছে নারী। অনলাইনে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ভয়াবহ অবস্থায় গিয়েছে। এখনই প্রতিরোধে জোর দিতে হবে। এ ব্যাপারে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সবাইকে সচেতন হতে হবে।

মূল প্রবন্ধে জেন্ডার বিশেষজ্ঞ লাভলী ইয়াসমিন জেবা যৌন হয়রানি প্রতিরোধের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে বলেন, আমাদের পরিবারগুলোতে ছেলেরা নারীর প্রতি একটি হেয় ধারণা নিয়ে বেড়ে উঠে। নারীদের দুর্বল হিসেবে দেখে বেড়ে উঠে। আর নারীর প্রতি সহিংসতা ও নারীকে হয়রানি করাকে তারা পৌরুষ বা শক্তির অংশ হিসেবে দেখে। এই অবস্থার পরিবর্তনে মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। উল্লেখ্য, ইভটিজিং প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী ১৩ জুন ‘ইভটিজিং প্রতিরোধ দিবস’। ২০১০ সালের প্রথমবারের মতো দিবসটি জাতীয়ভাবে পালনও করা হয়েছিল। বিশেষ করে স্কুল ছাত্রীদের প্রতি বখাটেদের উত্ত্যক্তকরণ বন্ধে তাগিদ দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছিল। এরপর ইভটিজিং দিবস নিয়ে তেমন কথা শোনা যায়নি, যদিও বিক্ষিপ্তভাবে দিবসটি পালিত হয়।

এস এম পলাশ