যৌন নিপিড়ন ও আত্মহত্যার প্ররোচণাকারীরা যেন রেহায় না পায়

4
649

বরুণ ব্যানার্জী :
এক মাস না ঘুরতেই কয়েকটি যৌন নির্যাতন ও আত্মহত্যার ঘটনায় একদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরেকদিকে নারীদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বেড়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর দেবহাটায় কোমল পানির সাথে চেতনাশক ঔষধ খাইয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে কলেজ ছাত্রী ধর্ষণের চেষ্টায় রবিউল ইসলাম রবির ছেলে রানা ও তার সহযোগী গৌতম ঘোষকে প্রাইভেটকারসহ আটক করেছে দেবহাটা থানা পুলিশ। ওইদিন বিকাল ৫ টার দিকে রানা তার নিজ মোটর সাইকেলে সু-কৌশলে বিভিন্ন স্থানে ঘুরানোর নাম করে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে কোমল পানীয় টাইগারের সাথে চেতনাশক ঔষধ মিশিয়ে তাকে খাইয়ে দেয়। মেয়েটি কে চিনেডাঙ্গা কেওড়া তলায় নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এবং মেয়েটির অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে কিছু দুর নেওয়ার পর অবচেতন অবস্থায় মেয়েটিকে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাদেরকে হাতে নাতে ধরে ফেলে। পরে পুলিশ এসে অচেতন অবস্থায় মেয়েটি উদ্ধার করে সখিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে ।
অপরদিকে, শ্যামনগর উপেজেলার আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার শম্পা রাণীর বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ এনে পুলিশ তাকে আটক করে। রাতে থানায় নিয়ে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। ২১ জানুয়ারি মেডিকেল অফিসার থেকে (আরএমও) পদোন্নতি হওয়ার দিন থেকে শুরু হয় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। সবশেষ ২৮ আগষ্ট হাসপাতালে ভর্তি হয় তাহেরা নামের চার বছরের একটি শিশু। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেন। অবস্থার অবনতি ঘটলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন ডাক্তার দিপঙ্কর মন্ডল। সেখনেই মারা রায় শিশুটি। এই ঘটনার পর উপোজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ডাক্তার শম্পা রানীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মধ্যযুগের কায়দায় কিল ঘুসি মেরে কাপড় চোপড় টানা হেচড়া করে। এই ঘটনার পর শ্যামনগর থানার ওসি ডাক্তার পলাশ ও শম্পা রাণীকে ডেকে নিয়ে নানা ভাবে হেনস্ত করেছে। পরে ওসি ইনামুল হককে প্রত্যাহার করা হয়।
কপালে কয়েক ফোঁটা ঘাম। নিরীহ চেহারা। দেখে মনে হয়, সেলফিটি বিষন্ন কোনো কিশোরীর।  গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টায় ঘরের আড়ায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেন জান্নাতুল মাওয়া মাহি নামের ওই কলেজছাত্রী। জান্নাতুল মাওয়া শহরের কাশেমপুরের মো. গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে। সে ঢাকার একটি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিল।
এসব যৌন নির্যাতন ও আত্মহত্যার ঘটনা দ্রুত ও যথাযথ তদন্ত শেষে আদালতে যাতে চার্জশিট দাখিল করা হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। এসবের পাশাপাশি নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে সমাজ থেকে এসব যৌন নির্যাতন ও আত্মহত্যার ঘটনা বাড়তেই থাকবে।

4 COMMENTS