যে কারণে হোয়াইট হাউসে জায়গা পেলেন না হিলারি

0
280

অনলাইন ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করে হোয়াইট হাউসে জায়গা করে নিলেন মার্কিন ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নির্বাচনপূর্ব নানা জরিপে স্পষ্টই এগিয়ে ছিলেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি। তবে ইংরেজিতে ‘সিজ দ্য ডে’ বলে যে প্রবাদ আছে, তাকে কাজে লাগিয়ে জিতে গেলেন রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ‘সোনার চাবি’ অধরাই রয়ে গেল হিলারির কাছে।
এত পূর্বানুমান, এত জল্পনা-কল্পনা সত্ত্বেও কী কারণে পরাজিত হলেন হিলারি? তবে কী নারী হওয়ার কারণেই প্রেসিডেন্ট হতে পারলেন না তিনি?  হিলারির পরাজয়ের কারণ হিসেবে এই প্রশ্নটি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কেননা আমেরিকানরা যতই আধুনিক হোন না কেন, তাদের ভেতর এখনো লিঙ্গ বৈষম্য প্রবল। একজন নারী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হবেন, এটি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না অনেক মার্কিনী। তাই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে অনেক ডেমোক্র্যাটও ভোট দিয়েছেন ট্রাম্পের পক্ষে। এটি নিঃসন্দেহে হিলারির পরাজয় তরান্বিত করেছে।
হিলারির পরাজয়ের পেছনে আরো একটি বড় কারণ তার ই-মেইল কেলেঙ্কারি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহারের অভিযোগে এফবিআইয়ের তদন্ত হিলারির নির্বাচনে ‘কলঙ্ক লেপন’ করে। তা ছাড়া, নির্বাচনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে এফবিআই প্রধান জেমস কোমে যখন ঘোষণা দেন, হিলারির ই-মেইল কেলেঙ্কারির তদন্ত নতুন করে করা হচ্ছে, সেটি হিলারির নির্বাচনে প্রবলভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ইতিহাসে আলোকপাত করলে দেখা যায়, পরপর তিন দফায় একই দল থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা দুষ্কর। ১৯৮৮ সাল থেকে কখনোই এরকম ঘটনা ঘটেনি। গত দুই ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থীরা। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নাগরিকই এবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীকে দেখতে চেয়েছিলেন।
এবারের নির্বাচনে ট্রাম্পের স্লোগান ছিল ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ অর্থাৎ ‘আমেরিকাকে আবারও মহান করো’। ট্রাম্পের এই স্লোগান ২০০৮ সালের বারাক ওবামার স্লোগান ‘চেঞ্জ, উই ওয়ান্ট’ এর মতোই ভোটারদের অনুপ্রাণিত করেছে। অনেকেই মনে করেছেন, রিপাবলিকান ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে ডেমোক্রেটিক হিলারির চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বেশি ভাল রাখবেন। তাই তারা হিলারিকে ভোট না দিয়ে ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে গোঁড়াপন্থি লোকের সংখ্যা নেহাত কম নয়। ২০০০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে জর্জ ডব্লিউ বুশ মধ্যপ্রাচ্য ও আফগানিস্তানে হামলা চালিয়েছিলেন। এরপর ২০০৪ সালের নির্বাচনে অনেকেই ভেবেছিলেন, বুশ হয়তো ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী মিট রমনির কাছে পরাজিত হবেন। তবে সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছিল নির্বাচনে। আমেরিকানরা ঠিকই ‘যুদ্ধবাজ’, ‘মুসলিমবিদ্বেষী’ হিসেবে পরিচিত বুশকে ক্ষমতায় এনেছিলেন। এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প তার মুসলিমবিদ্বেষ মনোভাব দেখিয়েছেন। এটিকে মানবতাবাদী মার্কিনিরা ধিক্কার জানালেও কট্টরপন্থি অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন। তা ছাড়া, ট্রাম্প মেক্সিকো সীমান্ত বন্ধ ও অভিবাসীদের বের করে দেওয়ার মতো কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। এগুলো নির্বাচনে তার পক্ষেই কাজ করেছে।
নির্বাচনপূর্ব জরিপে বরাবরই প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন হিলারি ক্লিনটন। এক মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিউ ইয়র্ক টাইমসে এক মন্তব্য প্রতিবেদনে বলেছিলেন, ‘এটি হিলারি জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। কারণ নির্বাচনে হিলারি জিতবেন এমনটি ধরে নিয়ে তার অনেক ভোটার হয়তো ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন না।’ শেষ পর্যন্ত সেই বিশ্লেষকের কথাই সত্য হলো। নির্বাচনে হিলারির পক্ষে যেমন ভোট পড়ার কথা ছিল তার কাছাকাছিও পড়েনি। ফ্লোরিডা, টেক্সাস, নর্থ ক্যারোলিনায় জয় পাবার কথা ছিল হিলারি ক্লিনটনের। অথচ তাকে হটিয়ে সেখানে স্পষ্ট ব্যবধানে জয় পেয়েছেন ট্রাম্প। জর্জিয়া, ওহাইও, মিশিগান, নিউ হ্যাম্পশায়ার, অ্যারিজোনা, উইসকনসিল এমনকি পেনসিলভানিয়ায়ও হিলারি তার কাঙ্ক্ষিত ভোট পাননি।
আর এসব কিছুর সম্মিলিত যোগফল হিলারির অপ্রত্যাশিত পরাজয়। যে কারণে হোয়াইট হাউসের চাবি হিলারি ক্লিনটনের হাত ফসকে চলে গেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে।