মৃত যুবককে ভর্তি করা হলো হাসপাতালে

0
178
ডি এস ডেস্ক:
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মৃত ঘোষণার প্রায় এক ঘন্টা পর নাহিদ (২০) নামের এক যুবককে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি নেয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে খুমেক হাসপাতালের দেয়া মৃত্যু সনদকে ভুল বলে দাবি করেছেন গাজী হাসপাতালের জরুরী বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডাঃ হালিম। তিনি বলেন, রোগীর স্বজনরা বলেননি যে সে বিষ পান করেছে। তারা বলেছিলেন মাথা ব্যথা ও বমি হয়েছে। এ কারণে তাকে মেডিসিন ওয়ার্ডের ৪১০ নম্বর বেডে ভর্তি করা হয়েছিল।
পারিবারিক সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পারিবারিক কলহের জের ধরে দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে নাহিদ (২০) বিষপান করে। তাকে উদ্ধার করে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ১টা ২০ মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এদিকে নাহিদের মৃত্যুকে মেনে নিতে না পেরে স্বজনরা একটি এ্যাম্বুলেন্সে করে সোনাডাঙ্গাস্থ গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে। সে সময় জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত ছিলেন মেডিকেল অফিসার (ইএমও) ডাঃ হালিম। তিনি মৃত যুবক নাহিদকে গাজী মেডিকেলের মেডিসিন ওয়ার্ডের ৪১০ নম্বর বেডে ভর্তি করেন। কিছুক্ষণ পর এ নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হলে পৌনে ৩টার দিকে নাহিদকে দ্বিতীয় দফায় গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজী মেডিকেলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ এহসানুল কবির বলেন, রোগী জীবিত না মৃত ছিলো তা চিকিৎসকরা ভালো জানেন। ওটা আমার দেখার বিষয় না।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে গতকাল রাত ৭টা ৪০ মিনিটে গাজী মেডিকেলে জরুরী বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডাঃ হালিম বলেন, আমার কাজ শুধু জরুরী বিভাগে কোন রোগী আসলে তাকে ভর্তি নেয়া। এক ঘন্টা আগে খুমেক হাসপাতালের মৃত যুবককে কেন ভর্তি নেয়া হলো এ জবাবে তিনি বলেন, ওই সময় সে জীবিত ছিলো। এছাড়া খুমেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা ভুল করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে গাজী মেডিকেলের এমডি ডাঃ গাজী মিজানুর রহমান মুঠোফোনে বলেন,  রোগী ভর্তির পূর্বেই মৃত ছিল এটা সত্য, তবে রোগীর স্বজনদের অনুরোধে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছিল মাত্র।
খুমেক হাসপাতালের সুপার ডাঃ আনন্দ মোহন সাহা বলেন, হাসপাতালটি এ অঞ্চলে সরকারি পর্যায়ে সর্ববৃহৎ চিকিৎসাসেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান। এখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী রোগীর বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে সনদ দেয়া হয় না। কেননা এখানকার চিকিৎসকরা সরকারিভাবে ফ্রি চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। এটা কোন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান না।
দৈনিক সাতক্ষীরা/জেড এইচ