মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে মায়ের কোলে ফিরলো রবিউল

0
229

স্টাফ রিপোর্টার :
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বালাকাটি গ্রামের শোকর আলী গাজীর ছেলে রবিউল ইসলাম। শ্রম দিয়েই সংসার চলে তাদের। হঠাৎ একটি দূর্ঘটনা তাদের সংসারে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। গত ১০ সেপ্টেম্বর কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়ে রবিউল। শরীরের অর্ধেক অংশই ঝলসে যায়, ক্ষত হয় মাথায়। প্রথমে কালিগজ্ঞ সদর হাসপাতাল তারপর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ সেখান থেকে ডাক্তাররা পাঠিয়ে দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিট। এরই মধ্যে বাবার জমানো সব টাকা ছেলের চিকিৎসার পেছনে খরচ হয়ে যায়। নিজের থাকা ১৫ কাটা জমিও বিক্রি করে ফেলেন তখনো প্রয়োজন ছিল আরো টাকার। ছেলের ওষধ কিনতে পারছিল না পরিবার। নিরুপায় হয়ে মা রোকেয়া বেগম ও বাবা শোকর আলী গাজী মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান।

satkhira-dc
এমন সময় “টাকার অভাবে ওষধ কিনতে পারছে না রবিউলের পরিবার” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি জেলা প্রশাসনের দৃষ্টিতে আসে। জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দীন চিকিৎসার জন্য রবিউলের বাবা মায়ের হাতে সহায়তার চেক তুলে দেন। সহায়তা দেওয়া হয়েছে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও। সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন কালিগজ্ঞ থানার অফিসার ইনচার্জ।
অবশেষে গত রবিবার রবিউলের মাথায় সফল অস্ত্রপাচার হয়। পর্যাবেক্ষণ শেষে মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিট থেকে রবিউলকে ছাড়পত্র দেন কর্তব্যরত ডাক্তার। প্রেসক্রিপশন দিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন, বাড়িতে নিয়ে ঠিকমত ওষধ খেলে সুস্থ হয়ে যাবে রবিউল। অবশেষে টানা দুই মাস ৭ দিন পর বৃহস্পতিবার সকালে রবিউল তার মায়ের কোলে ফিরেছে। হাঁসি ফুটেছে পরিবারটির মুখে।
রবিউলের মা রোকেয়া বেগম সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, রবিউলের বাবাও প্রতিবন্ধি এক চোঁখে দেখতে পায় না। দুই মাস ৭দিন পর নিজের ছেলেকে দেখলাম। ডিসি স্যারসহ যারা বিপদের সময় রবিউলের চিকিৎসার জন্য টাকা দিয়েছেন তাদের সকলের জন্য দোয়া করি।
বাবা শোকর আলী গাজী হাঁসি মুখে বলেন, সকলের দোয়া ও সহযোগিতায় রবিউল এখন অনেকটা সুস্থ। দোয়া করবেন যেন সম্পূর্ণরুপে সুস্থ হয়ে উঠে।