মুফতি হান্নানকে ফাঁসিতে ঝোলানোর আদেশ রিভিউয়েও বহাল

0
170

অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি মো. হান্নানসহ তিনজনের রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। এখন রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনের সুযোগই কেবল বাকি আছে এই জঙ্গি নেতার।রবিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ তিন বিচারপতির আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।মুফতি আবদুল হান্নান ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন- শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপন।২০০৪ সালের ২১ মে হামলার ঘটনায় করা মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর এই তিন জনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ এবং মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় মৃত্যুদণ্ড দেয় সিলেটের একটি আদালত।নিয়ম অনুসারে মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন করতে প্রয়োজনীয় নথি হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি ২০০৯ সালে আসামিরা জেল আপিলও করেন। প্রায় সাত বছর পর ২০০৬ সালের ৬ জানুয়ারি এ মামলায় হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে এ মামলার শুনানি শেষ হয়। ২০১৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি এই রায় বহাল রাখে  হাইকোর্ট। হাইকোর্টের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি গত ২৮ এপ্রিল প্রকাশ করা হয়। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৬৭ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করে। গত ১৪ জুলাই হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল করেন মুফতি আবদুল হান্নান ও শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল।পেরে গত ৭ ডিসেম্বর এই আবেদন খারিজ করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ আপিল বিভাগগত ১৮ জানুয়ারি ৬৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এ রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেন মুফতি হান্নান।

আইনজীবীরা জানান, রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে গেলে আসামিদের ফাঁসি কার্যকরের দিনক্ষণ গণনা শুরু হবে। আদেশের কপি হাতে পেয়ে জেল কোড অনুযায়ী আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করার ক্ষেত্রে ‘২১ দিনের আগে নয় এবং ২৮ দিনের পরে নয়’ বলে যে বিধান রয়েছে তা অনুসরণ করবে জেল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি এ সময়ের মধ্যে আসামিরা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগও নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করলে তারপর আসামিদের ফাঁসি কার্যকর হবে।

২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এ হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রশাসকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন। ঘটনার দিন অজ্ঞাতপরিচয় আসামির বিরুদ্ধে মামলা করে কোতয়ালি থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ৩১ জুলাই মুফতি হান্নানসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এর পর সম্পূরক অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালের নাম অন্তর্ভুক্ত করে অভিযোগ গঠন করা হয়।

এস,এম, হাবিবুল