মিরপুরের ‘জঙ্গি আস্তানার’ দগ্ধ ৩ লাশ

0
35

ঢাকার মিরপুরে ঘিরে রাখা ‘জঙ্গি আস্তানায়’ বিস্ফোরণের ঘটনার পর সকাল থেকে তল্লাশি চালিয়ে এ পর্যন্ত তিনজনের পোড়া লাশ পাওয়ার কথা জানিয়েছে র‌্যাব। এ বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ছয়তলা ভবনটির নিচ থেকে তল্লাশি চালিয়ে পঞ্চম তলায় পৌঁছেছি। জঙ্গি আবদুল্লাহ যে বাসায় ছিল তার একটি কক্ষ আমরা খুলেছি। সেখানে তিনটি পোড়া লাশ দেখা গেছে। নারী না পুরুষ তা বোঝা যাচ্ছে না।”আবদুল্লাহ নামের সন্দেহভাজন ওই জঙ্গির সঙ্গে পরিবারের সদস্যসহ মোট সাতজন পঞ্চম তলার ওই ফ্ল্যাটে ছিলেন বলে আগের দিন র‌্যাবের পক্ষ থেকে ধারণা দেওয়া হয়েছিল। মুফতি মাহমুদ বলেন, “বাকি কক্ষগুলোতেও আমরা তল্লাশি চালাবো। পরে আপনাদের আপডেট জানাতে পারব।”টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় সোমবার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ‘জেএমবির জঙ্গি’ দুই ভাইকে ড্রোন ও দেশীয় অস্ত্রসহ আটকের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেদিন মধ্যরাতে মিরপুরে এই অভিযান শুরু করে র‌্যাব।মাজার রোডের পাশে বর্ধনবাড়ি ভাঙ্গা ওয়ালের গলির ২/৩-বি হোল্ডিংয়ে ছয় তলা ওই ভবনের ২৪টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ২৩টি থেকে ৬৫ জনকে সরিয়ে নেয় র‌্যাব। মঙ্গলবার ভোরেই ভবনের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।ভবনের পঞ্চম তলায় আবদুল্লাহ নামের এক ‘দুর্ধর্ষ জঙ্গি’, তার দুই স্ত্রী, দুই সন্তান ও দুই সহযোগীসহ মোট সাতজন অবস্থান করছিলেন বলে মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ জানান।র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, আবদুল্লাহ ২০০৫ সাল থেকে জঙ্গিবাদে জড়িত। মিরপুর মাজার রোডের দীর্ঘদিনের এই বাসিন্দা ইলেকট্রনিক সামগ্রী মেরামতের কাজ করতেন।মঙ্গলবার সারাদিন র‌্যাবের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে আবদুল্লাহকে আত্মসমর্পণে রাজি করানোর চেষ্টা চলে। সন্ধ্যায় জানানো হয়, আবদুল্লাহ রাজি হয়েছেন এবং রাত সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে আত্মসমর্পণ করবেন বলেছেন।কিন্তু সন্দেহভাজন ওই জঙ্গি র‌্যাব সদস্যদের আরও আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখেন এবং রাত পৌনে ১০টার দিকে ভবনটিতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঢাকার মিরপুরে ঘিরে রাখা বাড়িতে মঙ্গলবার রাতে কয়েক দফা বিস্ফোরণে আলোকিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।এতে ছয়তলা ভবনের পঞ্চম তলায় ‘জঙ্গিদের’ ফ্ল্যাটে আগুন ধরে যায়। আগুনের কুণ্ডলিতে আশপাশের এলাকা আলোকিত হয়ে ওঠে। এরপর সেখানে কয়েক দফা গুলির শব্দ শোনা যায়। এ সময় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।বিস্ফোরণের কিছু সময় পর মুফতি মাহমুদ খান সাংবাদিকদের বলেন, “ভিতরে যারা ছিল তারাই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তিনটি বড় বড় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে আরও কিছু বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিস্ফোরণে পাঁচতলায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। কেমিক্যাল ফায়ারের মতো হবে।”বিস্ফোরণের ঘটনায় র‌্যাবের চারজন সদস্য স্প্লিন্টার বিদ্ধ হন। তবে তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে রাতেই জানান মুফতি মাহমুদ।

LEAVE A REPLY