ত্রিশ হাজার টাকা নিয়ে আসামী ছাড়লো এসআই আশরাফুল

0
2116

আব্দুল মতিন, বিশেষ প্রতিনিধি :
পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ এক জোড়া কপোত-কপোতি ধরে ৩০ হাজার টাকা দেনদরবার করে ছেড়ে দেওয়ায় এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনায় থানায় কোন মামলা হয়নি। ঘটনার বিষয়ে সত্যতা জানতে গেলে পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে সংশ্লিষ্ট দারোগা অসৌজন্যমূলক আচারন করায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন সাংবাদিকরা। তারা এঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং সংশ্লিষ্ট দারোগার দৃষ্ঠান্ত মূলক শান্তির দাবী জানিয়েছেন।
ঘটনার বিবারনে জানা যায়, পাটকেলঘাটা থানার ছোটকাশিপুর গ্রামের শেখ আরিজুল ইসলামের ছেলে বিবাহিত জাহাঙ্গীর হোসেন (২২) কয়েক মাস ধরে মোবাইল ও ফেসবুকে প্রেম করে আসছিল গাইবান্ধার ইন্টার মিডিয়েড পড়–য়া ছাত্রী মুসলিমা খাতুন (১৬)র সাথে। এক পর্যায়ে গত রবিবার জাহাঙ্গীর মেয়েটিকে ঢাকায় আসতে বলে। পরে জাহাঙ্গীর ঢাকায় যেয়ে সোমবার মেয়েটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে এসে থানার নগরঘাটা গ্রামের জাহাঙ্গীরের মামাতো বোনাই মিজানুরের বাড়ীতে ওঠে। সেখানে লোক জানাজানি হলে জাহাঙ্গীরের স্ত্রী কেশবপুর থানার হাসানপুর গ্রামের আঃ সালামের মেয়ে সেলিনা খাতুন জানতে পেরে তারা কয়েকজন মিলে গত বুধবার দুপুরে মেয়েটিকে নিয়ে এসে ছোট কাশীপুর গ্রামের শেখ মোক্তার আলীর বাড়ীতে ওঠায়। গোপন খবর পেয়ে পাটকেলঘাটা থানার এস আই আশরাফুল ও বকসি প্রনব কুমার দাশ দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থলে যেয়ে তাদেরকে আটক করলেও কৌশলে জাহাঙ্গীর কে পালিয়ে যেতে সহযোগীতা করেন। পরে তারা মেয়ে মুসলিমা ও মোক্তারের স্ত্রী কে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। মোক্তারের স্ত্রী হাসিনা (৫০) কে ছেড়ে দেওয়া হলেও আটক রাখে মেয়েটিকে। ঐদিন রাত ৯টার দিকে দারোগা আশরাফুল ও বকশি প্রনব আবারো মোক্তারের বাড়ীতে যেয়ে তাদের কে কেচ-কামে ফেলে জেল খাটাবে বলে হুমকি ধামকি দিয়ে থানায় দেখা করতে বলে আসেন।  রাত ১১টার দিকে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার শেখ সিরাজুল ইসলাম, আরিজুল ইসলাম ও মোকাম আলি থানায় এসে ব্যাপক দেন-দরবার করে মামলা থেকে বাঁচার জন্য। দারোগা তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাইলেও শেষমেষ ঐ রাতেই নগদ ৭ হাজার টাকা ও সকাল ৮টার দিকে ২৩ হাজার টাকা দিয়ে তারা এ যাত্রায় রেহায় পায়। আর মেয়েটির পিতা-মাতা গাইবান্ধা থেকে এসে থানা পুলিশকে নগদ নারায়নে ম্যানেজ করে একটি মুচলেকা দিয়ে মেয়েটিকে নিয়ে গাইবান্ধায় চলে যান। এদিকে সাংবাদিকরা রাতেই ঘটনাটি জানতে পারলে থানায় দায়িত্বরত অফিসার ইনচার্জ এস আই বুলবুল জিজ্ঞাসা করলে তিনি কিছু জানেন না বলে এড়িয়ে যান। সকালে সাংবাদিকরা আবারোও থানায় যেয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে দারোগা বুলবুল বলেন, আমি কিছুই জানিনা, সব জানে দারোগা আশরাফুল। কিন্তু আশরাফুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ ঘটনার কিছুই জানেন না বললে সাংবাদিকরা ঘটনার সত্যতা চ্যালেঞ্জ করে। এসময় দারোগা সাংবাদিকদের কে বলেন, কি হয়েছে না হয়েছে তা আপনারদের আমার কৈয়ফিয়ত দিতে হবে ? এছাড়াও নানা ভাবে তিনি সাংবাদিকেদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচারন করেছেন। এদিকে ঘটনাস্থল ছোট কাশীপুর গ্রামে গিয়ে ঘটনার সম্পূর্ণ সত্যতা পাওয়া যায়। যারা হাতে করে দারোগাকে টাকা দিয়েছেন, তারাই সব স্বীকার করেন বলে সাংবাদিকদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমান রয়েছে।