মাছ টাকা দুইই নিয়েছে পুলিশ সংবাদ সম্মেলনে নাজিমউদ্দিন

0
137

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
কালিগঞ্জের বৃদ্ধ নাজিমউদ্দিন আহমেদ তার ঘের জমি থেকে লুট হওয়া মাছের টাকা ফেরত চেয়েছেন। পুলিশের উপস্থিতিতে আমার ঘের লুট হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন এ নিয়ে আমি খুলনার ডিআইজি ও সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার  বরাবর অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোনো ফল পাইনি। এ জন্য সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সবাইকে বিষয়টি জানিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করতে চাই।
কালিগঞ্জ উপজেলা সদরের বাজার গ্রামের বৃদ্ধ নাজিমউদ্দিন আহমেদ শনিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে বলেন উপজেলার হোসেনপুর গ্রামে তার ভাই সোহেলউদ্দিন ও দুই ভাতিজা তৌহিদ ও সাঈদের  ৫১ শতক জমি বন্দোবস্ত নিয়ে মাছ চাষ করতেন নাজমুল ইসলাম বাবু। কিন্তু ঠিকমতো বন্দোবস্তের টাকা না দেওয়ায় বাবুর কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ওই জমি তারা বিক্রি করে দেন নাজিমউদ্দিনের তিন ছেলে কুতুবউদ্দিন, শাহাবুদ্দিন ও রহিমউদ্দিনের কাছে। নাজিমউদ্দন তার ছেলেদের নিয়ে ২০১৫ সাল থেকে  সেখানে ঘের করছেন বলে জানান। সেখানে তার মাছের ঘের ছাড়াও রয়েছে একটি ইটভাটা। তিনি বলেন নাজমুল এ ব্যাপারে আইনের আশ্রয় নিলে আদালত বলেছেন যে যার অবস্থানে থাকতে।
নাজিমউদ্দিন আরও বলেন কালিগঞ্জ থানার পুলিশ  নাজমুল হোসেন বাবুর পক্ষ নিয়েছে। অথচ তার পক্ষে থাকবার কথা বলে নাজিমউদ্দিনের কাছ থেকে তার ছেলে শাহাবুদ্দিন ও মোটর সাইকেল চালক সোহেলের মাধ্যমে ওসি তিন দফায় ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এরপরও তাকে টেলিফোনে থানায় ডেকে নিয়ে ওসি বলেছেন নাজমুল ইসলাম বাবু ঘেরের মাছ ধরবেন। তাকে বাধা দিলে আপনার ছেলে কুতুবউদ্দিনকে চুরি মামলায় ঢুকাবো।
নাজিমউদ্দিন আরও অভিযোগ করে বলেন পরদিন ৩ ফেব্রুয়ারি সকালে নাজমুল ও ফিরোজ কবির কাজলের নেতৃত্বে রোকন, কচি, বাবলু ও মহিউদ্দিনসহ ২০ /৩০ জন লোক তার ঘেরের সব মাছ প্রকাশ্যে   লুট করে নিয়ে যায়। সেখানে উপস্থিত থেকে তাদেরকে সহায়তা করেন কালিগঞ্জ থানার সহকারি উপরিদর্শক বাবুল হোসেন। তার অভিযোগ স্বয়ং ওসি এই মাছ  লুটে সহযোগিতা দিয়েছেন। ওসি এই মাছের সিংহভাগ হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন ও খুলনার ডিআইজির  কাছে অভিযোগ করে ওসির শাস্তি দাবি করেন।
বিষয়টি সম্পর্কে এএসআই বাবুল হোসেন বলেন আমি সকালে ওসির ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে আইনশৃংখলার অবনতি যাতে না ঘটে সেজন্য যাই। সেখানে যেয়ে দেখতে পাই দুই পক্ষ একমত  হয়ে মাছ ধরে তা ফিরোজ কবির কাজলের  হেফাজতে রাখছে।  পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে দেখে আমি চলে আসি ফোর্স নিয়ে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কালিগঞ্জ থানার ওসি লস্কার জায়েদুল হক বলেন, নাজমুলের জমির অনেকটাই দখল করে রেখেছেন নাজিমউদ্দিন। আমি নাজিমউদ্দিকে থানায় ডেকে এনে শান্তি রক্ষার কথা বলেছিলাম। পরদিন তারা দুই পক্ষ উপস্থিত থেকে ঘের থেকে মাছ ধরেছে। এতে ওসির দোষ কোথায়। আমি টাকা নিলে তো তার পক্ষেই থাকবো। টাকা নেওয়া এবং ঘেরের মাছ লুটে সহায়তার অভিযোগ মিথ্যা বলে জানান তিনি।

LEAVE A REPLY