মহান মে ‍দিবস আজ

1
157

বরুণ ব্যানার্জী :

কেন জানি ‘দিবসের’ মাঝেই আবর্তিত হচ্ছে দেশ-জাতি-রাষ্ট্র এবং বিশ্ব। এ যেন মুক্তবাজার ও করপোরেট বাণিজ্যবিতানে সাজিয়ে রাখা বিলাসী মোড়কে রাখা এক সাধারণ পণ্য। আজ পহেলা মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদাকে সমুন্নত রাখতে আজও দেশে দেশে দিবসটি পালিত হয়। আজ সরকারি-বেসরকারি সব ধরণের প্রতিষ্ঠানে ছুটি। কিন্তু যে লক্ষ্যকে সামনে রেখে দিবসটির জন্ম আজ তা অনেকটাই লক্ষ্যভ্রষ্ট। হয়তোবা সময়ের তালে তালে অনেক কিছু বদলে যাওয়ার মতো মে দিবসের চারিত্রিক গঠন ও মনন বদলে গেছে অনেকখানি। এ বদলের পেছনে দিবসটির কোনো হাত নেই। বদলে দেওয়ার পেছনে তাদেরই হাত আছে, যারা দিবসটিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে আগ্রহী এবং আগ্রহ পূরণে সক্ষম। শুধু মে দিবসকে নিয়েই নয়, প্রায় প্রতিটি দিবসকে নিয়েই চলছে এই ব্যবহারিক প্রক্রিয়া। যা এখন একটি সাধারণ পণ্য ছাড়া আর কিছুই নয়।

বিশ্বে আজ শ্রমিকদের আট ঘণ্টা শ্রমের দাবি প্রতিষ্ঠিত। হে মার্কেটের বিপ্লবী শ্রমিকদের কথা স্মরণ করে বিশ্বের ৮০টি দেশে আজ ছুটির দিন। যেসব দেশে ছুটির দিন নয়, সেসব দেশেও যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে (বাহ্যিকভাবে) দিবসটি পালিত হচ্ছে। মে দিবসকে উপলব্ধি করতে হলে বুঝতে হবে আদিকালের শ্রম ব্যবস্থা বা দাস প্রথাকে। খ্রিস্টপূর্ব ২০৫০ সাল, অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় ৪৩৬৭ বছর আগে যার শুরু। রোমান সা¤্রাজ্য ধ্বংসের মধ্য দিয়ে যার সমাপ্তি এবং ভূমিদাসের যাত্রা শুরু। মানুষ যেন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে। দাসেরা স্বাধীন হয়ে ভূমিদাস ও স্বাধীন প্রজায় পরিণত হয়। এরপর আসে শিল্প বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শিল্প-শ্রমিক পর্ব এবং আট ঘণ্টা কর্ম দিবসের দাবি আদায়। এত কিছুর পরও কি আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছি। এ প্রশ্নের জবাব একটিই এবং তা হলো না। কিন্তু কেন এই না! আমরা মনে করি, বণ্টন ব্যবস্থাকে সুবিন্যস্ত ও সুসংগঠিত করতে না পারলে ১৮৮৬ সালে হে মার্কেটে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের প্রতি প্রকৃত সম্মান দেখানো থেকে আমরা পিছিয়ে থাকব। আর লোক দেখানো উৎসব পালনের মধ্য দিয়ে প্রতিটি দিবসকে করপোরেট বাণিজ্যের শেকল দিয়ে বেঁধে রাখার চেষ্টায় লিপ্ত থাকব যা কখনই আমাদের প্রত্যাশিত নয়।