ভয়াবহ লোড শেডিংয়ে নাকাল সাতক্ষীরা বাসী

0
381
নিজস্ব প্রতিনিধি:
আবারও বিদ্যুতের ভয়াবহ লোড শেডিংয়ে নাকাল হয়ে পড়েছে সাতক্ষীরা জেলা বাসী। সকাল হতে না হতেই সূর্যের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর সময় গড়িয়ে দুপুর আসতে না আসতেই সেই তাপদাহ রীতিমত অসহনীয় হয়ে উঠছে। তীব্র তাপদাহে পথচারী থেকে শ্রমজীবী সকল মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার সাথে সাথে বিদ্যুৎ এর অব্যাহত লোড শেডিং এর কারনে সাতক্ষীরার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এদিকে, বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবৈধ সুযোগ সুবিধা নেয়ার কারনে লোডশেডিং আরো বেশী হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বিদ্যুতের লোড শের্ডিং এর কারণে সাতক্ষীরার জনসাধারণের মাঝে এক অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করছে। গরমের মধ্যে তৃষ্ণা নিবারনের জন্য শহরের বিভিন্ন জায়গায় ডাব-শরবত বিক্রি করতে দেখে গেছে। ডাব ২৫ তেকে ৩০ টাকা এবং শরবত ৫ টাকা থেকে শুরু করে ৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। গরমে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ ডাব ও শরবত খেয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করছেন। অপরদিকে, গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে লোডশেডিং হওয়ার কারণে ক্ষতি গ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। অব্যাহত লোডশেডিং-এর কারণে তাদের পড়াশুনায় চরম ভাবে বিঘœ ঘটছে। একইসাথে পল্লী বিদ্যুতের টানা লোডশেডিংয়ে নাকাল হয়ে পড়ছে জেলার ৭টি উপজেলার মানুষ। লোড শেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অবস্থা আরো করুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শহরের কলেজ রোড এলাকার ভ্যান চালক রফিকুল জানান, গরমে ঠিকমত ভ্যান চালাতে পারছিনা তার উপর বিদ্যাতের এই লোড শেডিং আর সহ্য করা যাচ্ছেনা।
জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ন সচিব ও গণফোরামের সাধারন সম্পাদক আলীনূর খান বাবুল জানান,  অসহ্য গরমের মধ্যে দিনে ও রাতে ঘন্টার পর ঘন্টা লোড শেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান অবৈধ সুযোগ সুবিধা ছাড়া কোন ফাইল সহি করেননা। তিনি অবৈধ সুযোগ নিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও এসি ব্যবহার করতে দেয়ার কারনে বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। আর এ জন্যই ঘনঘন লোডশেডিং হচ্ছে। তিনি আরো জানান, বিদ্যুতের এই লোডশেডিং সমস্যার সমধান দ্রুত না করা হলে সাধারন জনতাকে নিয়ে আগামীতে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষনা করা হবে।
এ ব্যাপারে ওয়েষ্ট পাওয়ার জোন ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সাতক্ষীরার আবাসিক নির্বাহি প্রকৌশলী মোঃ রোকনুজ্জামান জানান, সাতক্ষীরায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৫ মেগাওয়াট। সেখানে আমরা পাচ্ছি মাত্র ১১ মেগাওয়াট। তিনি এজন্য জাতীয় গ্রিডের কর্মকর্তা কর্মচারীদের দায়ী করে বলেন, তারা আমাদের বিদ্যুৎ কম সরবরাহ করছে। আর বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকার কারনে ঘন ঘন লোডশিডিং হচ্ছে।
দৈনিক সাতক্ষীরা/জেড এইচ