ভোগের মানসিকাতা থেকে বের হতে হবে

0
90

বরুণ ব্যানার্জী:

ত্যাগ করার জন্য ওদের জন্ম হয়নি, ওরা জন্মেছেন ভোগের জন্য। অন্তত আমাদের দেশের ক্ষেত্রে কথাটা শতভাগ সত্য। যুদ্ধ করে যারা এ দেশ স্বাধীন করেছেন তারা খুবই সাধারণ। ভোগের জন্য ওদের জন্ম হয়নি। ত্যাগের মাহাত্ম্যে ওরা বলিয়ান। আর সেই ত্যাগের মাহাত্ম্যের ওপর দাঁড়িয়ে থাকার ফলেই আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ। এ ত্যাগের সঙ্গে কোনো কিছুরই তুলনা চলে না। ৩০ লাখ জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছে। অস্ত্র হাতে শত্রুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রণাঙ্গনে তারা শহীদ হয়েছেন। তারা কেউই ভোগ বিলাসে ডুবে থাকার স্বপ্নে বিভোর হয়ে থাকার জন্য যুদ্ধ করেননি। আর সে কারণেই তারা এ মাটির শ্রেষ্ঠ সন্তান। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, যে স্বপ্নকে সামনে রেখে তারা উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন তার তিলেক নমুনাও আজ আর খুঁজে পাওয়া যায় না। যা পাওয়া যায়, তা হলো-ভোগবাদের নামে অনৈতিকতা। বড় বড় খেলাপির জন্য বড় বড় সুবিধা থাকবে আর ছোটদের জন্য কাঁচকলা। এ বৈষম্য মেনে নিতে পারেননি ছোট খেলাপিরা। তারা গেছেন আদালতে। আদালত কী করবেন বা কী রায় দেবেন তা বলা যাচ্ছে না। তবে এটুকু বলা যায় যে, এই খেলাপিরা কেউই ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরি হতে পারেননি। এদেরকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠির উত্তরসূরি বললে বেশি বলা হবে না। কেননা, লুণ্ঠনের ক্ষেত্রে এরা এক ও অভিন্ন। আমরা মনে করি, এতদিন যা করেছেন অনেক করেছেন। এখন থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে পথচলার অভ্যাস করুন। তাতে দেশ ও জাতির মঙ্গল হতে পারে।

LEAVE A REPLY