ভেজাল ওষধ রোধ ও এন্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে সচেতনতা প্রয়োজন

1
220
বরুণ ব্যানার্জী :
আমাদের জনগণ নানাদিক থেকে সমৃদ্ধির পথে যেমন এগিয়ে যাচ্ছে তেমনি নানা দিকে তাদের জীবনে ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। আমাদের চিকিৎসা বিজ্ঞান অগ্রসর হচ্ছে, দেশে চিকিৎসা সেবা পাবার পরিধি বিস্তৃত হচ্ছে, আবার পাশাপাশি চিকিৎসা নিয়ে তুঘলকি কান্ড, ভেজাল, নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বেচাকেনাও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে মফস্বলের বাজারগুলোতে যথাযথ মনিটরিং না থাকায় সাধারণ মানুষের অজ্ঞতার সুযোগে একটা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজমান। এন্টিবায়োটিক যে কেবল মানুষ দোকান থেকে কিনে খাচ্ছে তা নয়। খাবারের মাধ্যমেও এন্টিবায়োটিক আমাদের শরীরে প্রবেশ করছে এবং এর ফলেও আমাদের দেহে এন্টিবায়োটিক বিরোধী প্রাচীর তৈরী হচ্ছে। এটা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে প্রয়োজনের সময় খেলেও এন্টিবায়োটিক আর কোন কাজে আসবে না।এন্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারের সমস্যাটা যে কেবল সাধারণ মানুষের মধ্যে তা নয়, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘এ ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাব সাধারণ মানুষ, নীতিনির্ধারক এবং চিকিৎসক – সবার মধ্যেই কমবেশি রয়েছে।’ সুতরাং সুস্থতার জন্য আমাদেরকে একটি হলিষ্টিক চিকিৎসা পদ্ধতি এবং পরিবেশসম্মত জীবনযাপনের দিকে মনযোগ দিতে হবে। আমরা কেবল হাসপাতালের সংখ্যা বা ডাক্তারের সংখ্যা বাড়িয়ে সমস্যার ‘টেকসই মোকাবেলা’ করতে পারব না। এর জন্য প্রয়োজন অসুস্থ হওয়ার কারণগুলোর উপর নজর দেয়া এবং বিরাজমান অব্যবস্থাপনাগুলো অপসারণ করা। বিশেষ করে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ, পুষ্টি বিভাগ, কৃষি ও প্রাণী সম্পদ বিভাগের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা দরকার। প্রাচীন এক প্রবাদে রয়েছে, ‘খাবার যদি সঠিক না হয় তাহলে ওষুধ কোন কাজ করে না, আর খাবার যখন সঠিক হয় তখন ওষুধের প্রয়োজন হয় না’। সুতরাং মানুষকে খাদ্য নিরাপদতা সম্পর্কে বোঝাতে হবে। নিরাপদ খাদ্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য সর্বস্তরের জনগণকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে।

1 COMMENT