ভেঙে যাচ্ছে পারিবারিক বন্ধন

0
106

বরুন ব্যানার্জী : সামান্য ভুল বোঝাবুঝিতে সুখের ঘরে ঢুকে পড়ছে দুঃখের আগুন। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা। ভেঙে যাচ্ছে পারিবারিক বন্ধন। আর এর অন্যতম কারণ হিসেবে প্রথমে ধরা হয় পরকীয়ার বিষয়টি। এ ঘটনায় একের পর এক তছনছ হচ্ছে সাজানো সংসার। বাড়ছে খুনোখুনির ঘটনাও। বাবা-মায়ের দাম্পত্য কলহের জেরে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে নিষ্পাপ শিশু-সন্তানরা। পরবর্তীতে এ শিশুরা জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধে। শিশুকাল থেকে পিতৃ-মাতৃহীনতার কারণে ঢুকে যাচ্ছে অন্ধকার জগতে। তারা আক্রান্ত হচ্ছে নানা মানসিক রোগে এবং ঝরে পড়ছে বিদ্যাপীঠ থেকে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়, রাজধানীর দুটি সিটি করপোরেশনে প্রতিদিন অস্বাভাবিক হারে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। তালাক দেওয়ার দিক থেকে এগিয়ে নারীরা। মোট তালাকের ৬৮ দশমিক ১৯ শতাংশ স্ত্রী এবং ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশ স্বামীর পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে। গত ছয় বছরে ঢাকা মহানগরীতে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে ৩০ হাজার ৮৫৫টি। দৈনিক হিসাবে প্রতিদিন রাজধানীতে প্রায় ১৪ দম্পতির মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। মহানগরের ১০টি আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে এমন চিত্র পাওয়া যায়। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়া অবস্থায় অনেকেই প্রেমে জড়িয়ে পড়ে গোপনে বিয়ে সেরে ফেলছে। এরপর কয়েক বছর যেতে না যেতেই পরিবারের মনরক্ষা অথবা নানা দৈন্যদশায় পড়ে তারা তালাকের দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরায় ধনাঢ্য পরিবারে সবচেয়ে বেশি বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। বাদ পড়ছে না মডেল-তারকা পরিবারও। কিন্তু সম্মান বাঁচাতে উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে তা গোপন রাখা হয়।

মূলত শহরকেন্দ্রিক বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনাই বেশি। শহরের তুলনায় গ্রামে এই ঘটনা কম। গ্রামের মানুষ শহরের মতো এতটা প্রযুক্তিনির্ভর নয়। টেলিভিশন, ফেসবুক কিংবা ডিজে পার্টি গ্রামে নেই বললেই চলে। যৌথ পরিবারের সবাইকে নিজেদের মধ্যেই আনন্দগুলো ভাগ করে নিতে হয়। তুলনামূলক বিচারে এদের বন্ধন শহরের থেকে আলাদা। অন্যের সঙ্গে রাতে ঘুরে বেড়ানো কিংবা নিজের ব্যক্তিগত ছবি অন্যের সঙ্গে শেয়ার করার চিন্তা খুব কমই আসে। তারপরও শহরের ছোঁয়া গ্রামে লাগাতে এখন গ্রামেও বিচ্ছিন্নভাবে অনেক ঘটনাই ঘটছে। তবে সার্বিকভাবে বলতে গেলে, এভাবে আমরা যদি আমাদের বন্ধনগুলো হারিয়ে ফেলি তাহলে আমাদের মানবিক বোধেরা নিজেদের বিকলাঙ্গ ঘোষণা করে চলে যাবে মহাকালের অতল গহ্বরে। যেখান থেকে আর কোনো দিন ফেরার কোনো সম্ভাবনাই থাকবে না। সুতরাং সময় থাকতে সাবধান হওয়াই হবে ।