‘ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব অস্ত্র কাড়ার চেষ্টা করেন’ সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান গনি

0
440

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
হঠাৎ মিটিংয়ে ঢুকে কোন কারণ ছাড়াই ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব আলম আমার সাথে অসদাচরণ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এমনকি আমার গায়ে হাত তুলবার মতো স্পর্ধাও দেখান তিনি। একই সময় টেবিলে রাখা বন্দুকটি নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব আলম। এসময় প্রতিবাদী লোকজন তাকে ধরে কিলচড় থাপ্পড় মেরেছেন। অথচ এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে এর দায় দেবহাটা উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গনির ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। তিনি বলেন মাহবুব একজন মিথ্যাবাদী ও চতুর লোক।  বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে এভাবে মঙ্গলবারের ঘটনাবলী তুলে ধরেন দেবহাটা উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গনি। তিনি বলেন, মাহবুব আলম শুধু এবারই নয়, এ ধরনের অনেক অঘটনের নায়ক তিনি। তিনি পারুলিয়া ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানকে মাইক্রোফোন ছুড়ে মারেন। এমনকি এক মাস আগে উপজেলা পরিষদের সভা চলাকালে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নোয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মুজিবুর রহমানকে গালিগালাজ করে মারধর করতে উদ্যত হন ভাইস চেয়ারম্যান। আব্দুল গনি তার পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানের এ ধরনের আচরণকে ধিক্কার জানিয়ে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।  চেয়ারম্যান আব্দুল গনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২০ জুন মঙ্গলবার তার অফিস কক্ষে টিআর ও কাবিটা প্রকল্প বিষয়ক এক সভা চলছিল। সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, টিআর ও কাবিটার প্রথম পর্যায়ের কাজে নোয়াপাড়া ও পারুলিয়া ইউনিয়নে ৩০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এজন্য তিনি মূল কাজের শতকরা ৫০ শতাংশ টাকা ছাড় দেন এবং বাকি কাজ সম্পন্ন করার আহবান জানান। তিনি বলেন, এ নিয়ে নোয়াপাড়া, সখিপুর ও পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যানরা দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ না করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে আলোচনার মাধ্যমে সকল চেয়ারম্যান দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ করতে সম্মতি জানান। এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যানগণ ও উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যে কিছু বাদানুবাদ হলেও তা ছিল আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ। ঠিক এমন অবস্থায় কোনকিছু না জেনে না বুঝে ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব আলম সভায় হাজির হন। সেখানে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে ঔদ্ধত্যমূলক আচরণ করে মাস্তানি দেখিয়ে তার টেবিলে রাখা লাইসেন্স করা বন্দুকটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে সভায় উপস্থিত থাকা লোকজন ছাড়াও বাইরে থাকা অনেকেই তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং কয়েক মিনিট ধরে তাদের সাথে তার ধস্তাধস্তি হয়। এর কিছু সময় পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান এ ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, পরে সবাই মিলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয় এবং পরস্পরের প্রতি অনাকাঙ্খিত ঘটনার ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। অথচ ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব আলম বুধবার বিভিন্ন সংবাদপত্রে পরিবেশনের জন্য যে তথ্য দিয়েছেন তা সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি বলেন, আমিনুর রহমান বাবুকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা বা এক লক্ষ টাকা জরিমানা করার কোন ঘটনা ঘটেনি। ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব আলম নিজেকে রক্ষা করার জন্য মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, মাহবুব আলম কখন যে আওয়ামী লীগ আর কখন যে তিনি বিএনপি জামায়াতের লোক তা তিনি নিজেই জানেন না। তিনি ২০০১ সালে জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরই পারুলিয়ায় শহীদ কাশেম পার্ক নাম পাল্টে জিয়া চত্বর নাম দিয়ে হইচই তুলেছিলেন। তিনি ও তার গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী উল্লেখ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, অচিরেই ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে মানব বন্ধন করে তার অসদাচরণেরও জবাব দেওয়া হবে। তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোশারফ হোসেন মশু, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি আবু রায়হান তিতু, সাধরণ সম্পাদক লায়লা পারভিন সেঁজুতি, মুক্তিযোদ্ধা সাবুর আলী, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ, মোঃ আবু সাইদ এবং মিজানুর রহমান ও আমিনুর রহমান বাবু।