ব্রহ্মরাজপুরে ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছে স্কুল পড়ুয়া ছাত্রীরা : অভিভাবক মহল উদ্বিগ্ন

0
422

নিজস্ব প্রতিনিধি :

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুরে স্কুল পড়ুয়া ছাত্রীরা স্কুলে ও প্রাইভেটে যাতায়াতের পথে বহিরাগত ও বখাটে যুবকদের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছে। এ নিয়ে অভিভাবক মহল দারুনভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। রোববার সন্ধ্যায় ইভটিজিংয়ের একটি ঘটনায় সদর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। জানা যায়, ব্রহ্মরাজপুর বাজার সংলগ্ন ডিবি ইউনাইটেড হাইস্কুল ও ডিবি গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রীদের স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে বহিরাগত ও বখাটে যুবকরা বিভিন্ন কায়দায় ও অঙ্গ-ভঙ্গিতে উত্যক্ত করছে। কেউ প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে তাকে মারধর করার হুমকি-ধামকি ও অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করা হচ্ছে। স্কুল শুরু হওয়ার আগে, টিফিনের সময় ও স্কুল ছুটির পর যাতায়াতের সময় এই ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছে ছাত্রীরা। এসব ছাত্রীরা প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময়ও তাদের পিছু ছাড়ে না বখাটেরা। বিশেষ করে ৪ যুবক এই ইভটিজিংয়ের ঘটনা বেশি করে ঘটাচ্ছে। এরা হলো ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের কালেরডাঙ্গা গ্রামের মোঃ আব্দুর রহিম মাষ্টারের ছেলে জি.এম আব্দুল্লাহ আল-গালিব (২৫), একই গ্রামের মোঃ আব্দুস সালাম গাজীর ছেলে মোঃ আনিছুর রহমান সাজু (২৮)  ও একই গ্রামের মোঃ আব্দুর রশিদ সরদারের ছেলে আল-আমিন (২৩) এবং আশাশুনি উপজেলার কুল্যা গ্রামের মোঃ আনারুল ইসলামের ছেলে মোঃ আরিফ হোসেন (২২)। এদের বিরুদ্ধে এলাকায় অভিযোগের কোন অন্ত নেই। আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে রামচন্দ্রপুর গ্রামের একটি মেয়েকে মারধর ও ইভটিজিং করার অপরাধে ডিবি ইউনাইটেড হাইস্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া সপ্তাহ খানেক পূর্বে ব্রহ্মরাজপুর মানিকতলা গ্রামের এক ব্যবসায়ীর মেয়েকে রাতের বেলায় তার সাথে অশোভনীয় আচরণ ও মেয়ের মাকে অকথ্যভাষায় গালি-গালাজ ও হুমকি ধামকি দেয় আব্দুল্লাহ আল-গালিব, আনিছুর রহমান সাজু ও আল-আমিন। এ ঘটনায় সে যাত্রাই এই ৩ জন ক্ষমা চেয়ে রেহাই পায়। ৪ বখাটের দাপটে স্কুল পড়ুয়া ছাত্রীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। পথে-ঘাটে ছাত্রীদের চলাচলের সময় পিছু নেওয়া এসব বখাটেদের কাজ। এক কথায় তাদের প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখান করলেই বিভিন্নভাবে নির্যাতনের খড়গ নামতে শুরু করে।  অনেক সময় ছাত্রীদের বাড়ির ফোন নাম্বার যোগাড় করে তাতেও আপত্তিকর কথা বলা হচ্ছে। এদের অত্যাচারে স্কুলগামী অনেক ছাত্রীর লেখা-পড়া বন্ধের উপক্রম হয়েছে। জি.এম আব্দুল্লাহ আল-গালিব এই বখাটে দলের লিডার। সকল বখাটেরা মাদকাসক্ত বলে জানা গেছে। বখাটেদের হাতে ইভটিজিংয়ের শিকার অনেক ছাত্রীরাই লোক-লজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারে না। অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের কাছেও বিষয়টি এড়িয়ে যায়। এদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করারও সাহস পায় না। আবার কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে হেনস্তার শিকার হতে হয়। এসব ভয়ে কেউ এগিয়ে আসে না। রোববার সন্ধ্যায় ব্রহ্মরাজপুর চেয়ারম্যান বাড়ী এলাকার একটি মেয়ে ও ডিবি ইউনাইটেড হাইস্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী আব্দুল্লাহ আল-গালিব, আনিছুর রহমান সাজু ও আল-আমিন এর হাতে ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েছে। মেয়েটির বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রাইভেট পড়ে বাড়ি যাওয়ার সময় মেয়েটির পিছু নেয় এ বখাটেরা। একপর্যায়ে মেয়েটি বাড়ির সামনে পৌছালে তাদের কথায় কোন সাড়া না দেয়ায় তারা তাকে টানা-হেঁচড়ে লাঞ্চিত করে। এ সময় মেয়েটির বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা এগিয়ে আসলে তাদেরকে গালি-গালাজ ও হুমকি-ধামকি দিয়ে চলে যায় এবং আগামী এক মাসের মধ্যে দেখে নেয়ার কথা বলে। এতে করে মেয়েটির পরিবার ভীত-সন্ত্রস্ত্র হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় রোববার রাতে ওই ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখ করে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ হোসেন মোল্যা অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, ইতিমধ্যে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এস,আই নাসির উদ্দিনকে তদন্ত করে আসামী গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইভটিজিংকারীদের কোন ছাড় দেয়া হবে না। এস,আই নাসির উদ্দিন জানান, অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পেয়েছি। এদের বিরুদ্ধে এ ধরনের বহু অভিযোগ পাওয়া গেছে। আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

LEAVE A REPLY