ব্যারাক, প্রাচীর ও টয়লেটসহ বিভিন্ন সমস্যায় পাটকেলঘাটা থানা

0
115
বিশেষ প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার করুণ দশায় পুলিশ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রশ্নবিদ্ধ। নেই ব্যারাক, সীমানা প্রাচীর ও টয়লেট। এমনকি জমিটিও থানার নয় বরং সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতাধীন। ফলে থানার উন্নয়নকল্পে কোনো বরাদ্দও পাওয়া যায় না।
পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন জানান, ২০০৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর ২ একর ৪ শতক জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয় পাটকেলঘাটা থানা। তালা উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন থেকে ৫টি ইউনিয়ন আনা হয় এই থানার আওতায়। ৫টি ইউনিয়নে প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। থানাটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। সীমানা প্রাচীর না থাকায় থানার দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরাই নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। ২ একর ৪ শতক জমির উপর প্রতিষ্ঠিত থানাটি বর্তমানে অরক্ষিত ও নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। চিঠি চালাচালিতে ১৩ বছর পার হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। বাড়েনি নাগরিক কোনো সুবিধা।ddddddddd
স্থানীয় বাসিন্দা ইন্দ্রজিৎ সাধু বলেন, পাটকেলঘাটা থানায় একটি ভালো অফিস নেই, ব্যারাক নেই। কাজকর্ম করতে গিয়ে তাদের নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হয়। একটি সীমানা প্রাচীরও নেই। পুলিশই যেখানে অরক্ষিত সেখানে সাধারণ মানুষ কিভাবে রক্ষিত থাকবে?
পাটকেলঘাটা থানার এএসআই শাহাদাৎ হোসেন জানান, পাটকেলঘাটা থানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছে কিন্তু অবকাঠামোগত অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। এখানে অফিসারদের কোনো কোয়ার্টার নেই এমনকি অফিসেও বসার ঠিকমত জায়গা নেই। টয়লেট নেই, বিল্ডিংটাও ভেঙে পড়ছে।
এ বিষয়ে পাটকেলঘাটা থানার ওসি মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, এখানে ৪ একর ৬৭ শতক জমি রয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগের। যদিও বিভিন্ন সময় আমাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা এর মধ্যে ২ একর ৪ শতক জমি আমাদের থানার জন্য দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।ssssss
সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রকৌশলী মুহাম্মদ মঞ্জুরুল করিম বলেন, পাটকেলঘাটা থানা ভবন ও আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়। সে প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা মোতাবেক পুলিশ বিভাগ ও সড়ক জনপদ বিভাগ যৌথভাবে স্থানটি পরিদর্শন করে। পরিদর্শন শেষে পুলিশ বিভাগের বিস্তারিত তথ্য পাঠানো হয়। ভূমি অধিগ্রহণের বিধি মোতাবেক বর্তমানে ওই দফতরের উদ্যোগে কোনো প্রকার কার্যক্রম গ্রহণের সুযোগ নেই।
এদিকে জমিটি পুলিশ বিভাগের আওতায় আনতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মো. সাজাদ্দুর রহমান বলেন, ২ একর ৭ শতক জমি নিয়ে ২০০৫ সালে থানার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কিন্তু এখনও এই দুই একর ৭ শতক জমি পুলিশের নামে রেকর্ড হয়নি। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সড়ক ও জনপদ বিভাগের এই জায়গাটা পুলিশের আওতায় আনতে কার্যক্রম চলছে।