‘বই পড়ি’ বিশ্লেষণী শক্তি বৃদ্ধিতে

0
56

বরুণ ব্যানার্জীঃ

কেবল ভবিষ্যৎ জানা, জ্ঞানের আকর কিংবা সম্পদ-শালী হওয়ার জন্য নয়, নির্মল আনন্দ পাওয়া কিংবা বিনোদিত হওয়ার আশ্চর্য মাধ্যম বই ছাড়া আর কিইবা আছে?
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, ব্যায়াম যেমন শরীর ভালো রাখার জন্য দরকার, তেমনি বই পড়াটা হল মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অতি দরকারি। গবেষকেরা বই পড়ার গোটা বিশেক সুফল তুলে ধরেন। এর মধ্যে কয়েকটা তো খুবই দরকারি।
বই পড়ার সময় আমাদের চোখ আর মন যে কেবল কাজ করে তা নয়, বরং কল্পনাশক্তিরও একটি চর্চা হয়। মস্তিষ্ক থাকে সচল। ফলে বই পড়া হয়ে পড়ে মানসিক উদ্দীপনার একটি নিয়ামক।
মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার একটা উপায় হচ্ছে বইয়ের মধ্যে ডুবে যাওয়া। বই দিয়ে নিজের একটা জগৎ গড়ে তুললে দরকার মত সেখানে ডুব দেওয়া যায়। জ্ঞান কিংবা শব্দভান্ডারের বৃদ্ধি, নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে জানা। এসব সুফলের কথা তো আমরা সবাই জানি। তবে বই পড়লে সবচেয়ে বেশি বাড়ে বিশ্লেষণী শক্তি। বেড়ে যায় সমস্যা সমাধানের দক্ষতা। বেড়ে যায় স্বপ্ন দেখার শক্তিও। যত পড়া হয় তত লেখার দক্ষতা বাড়ে, নিজেকে মেলে ধরার ক্ষমতা বিকশিত হয়।
বই পড়তে হয় মনোযোগ দিয়ে। কখনো কখনো কল্পনাকে ছেড়ে দিলে ফোকাস হওয়ার এক আশ্চর্য ক্ষমতা তৈরি হয় নিজের মধ্যে। এই যে পড়ার এক জাদুকরি সুফল, সেটি কেমন করে পাওয়া যাবে? সহজ উত্তর : পড়ো, পড়ো, পড়ো। অনেকেই বলেন, পড়ার সময় পাই না। কাজের মধ্যে ডুবে থাকি। তাই পড়তে পারি না। আসলে এটি একটি অজুহাত। ১৬-১৮ ঘন্টা কাজের জগতে ডুবে থাকেন এমন মানুষেরা কিন্তু পড়তে থাকেন ফাঁক পেলে। কারণ পড়াটা হয়ে পড়েছে তাঁদের প্রাত্যহিকতার অংশ। আপনি যদি ভালো পড়ুয়া হতে চান তাহলে ‘পড়া’ কে আপনার জীবনের অংশ করে ফেলতে হবে।
সারাদিন যাপিত জীবনের একটা বড় অংশ কেটে যায় রাস্তায়, যানজটে। সেই সময়টাই বই পড়ায় দিয়ে দিন। প্রতিদিন পড়ার অভ্যাস জিইয়ে রাখার একটা ভাল উপায় হল-দৈনিক পত্রিকা পড়া।
ছোট সন্তানদের বই পড়ে শোনান। হালকা মেজাজের, কৌতুক কিংবা মজার বইও পড়ুন।
পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠলে আপনি হয়ে যাবেন একজন সর্বভুক পড়ুয়া। আপনার বই পড়ার জগৎ হয়ে উঠুক আনন্দময়। কাগজে ছাপা বই হাতে নিয়ে পড়ার মজাটাই আলাদা। বই পড়াকে করে ফেলুন প্রাত্যহিকতার একটি অংশ যা নিজেকে সমৃদ্ধ করবে।