বিশুদ্ধ ভাষাচর্চা জরুরি

0
60

বরুণ ব্যানার্জী: আমরা মায়ের ভাষায় কথা বলি। আঞ্চলিক, গ্রাম্য বা মা-বাবা থেকে আমরা যে ভাষা শিখি, সেটাই মাতৃভাষা। মাতৃভাষার আলাদা একটা জগৎ আছে। তবে মৌলিকভাবে নিজ দেশের ভাষা সম্পর্কে ধারণা থাকা একান্ত আবশ্যক। মানুষের অনেকগুলো শক্তির মধ্যে একটি হলো ভাষা। বাকশক্তিতে অক্ষমতা থাকলে জীবনে বিজয়ী হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একজন স্পষ্টভাষী মানুষ সবর্ত্রই আলাদা গুরুত্ব পায়। লড়াই করে আমরা যে ভাষাটা পেয়েছি, একে কেন ভালোভাবে অর্জন করব না। দেশের সর্বস্তরে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক করা উচিত। ‘বাংলা’ যখন নিজ দেশেই অবহেলায় থাকে, তখন বাইরের দেশে কিভাবে গুরুত্ব পাবে! ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলা এবং লেখাপড়া করার অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করে এ দেশের তরুণরা। সেই আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং সাধারণ মানুষ নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে। মাতৃভাষার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা আর শাহাদাতের পেয়ালা চুম্বনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘ দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। বাঙালি জাতির জন্য অনেক বড় একটি বিষয় ছিল এই ঘোষণা। মৌলিকভাবে পরিবারই বিশুদ্ধ ভার্ষাচর্চার আসল ঠিকানা, একটি প্রাচীন সংগঠন। শিশুদের চিন্তা বিকশিত করার জন্য পরিবারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পরিবারের ছোটরা বড়দের নকল করে। নিজেদের মধ্যে বহন করে বা আত্মকরণ করে। তাই পরিবারের বড়রাও গুরুজন। দেশের হাজারো রকমের আঞ্চলিক ভাষাকে বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করলে কোনটি প্রকৃত বাংলা ভাষা, তা নির্ণয়ে বিভ্রান্তিতে পড়বে যে কেউ। তাই বিশুদ্ধ বাংলা ভাষার চর্চা করা জরুরি। তাদের অবশ্যই সংযত হয়ে ভাষাচর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। এই প্রিয় বাংলা ভাষার জন্য যথেষ্ট ত্যাগ করেছেন আমাদের লাল-সবুজের দামাল সন্তানরা। এখনো বেঁচে আছেন অসংখ্য ভাষাসৈনিক।তাই পারিবারিকভাবেই ভাষার বিশুদ্ধতার চর্চা হওয়া উচিত। অনেক সময় ঘরে বিশুদ্ধ ভাষার চর্চা হলেও স্কুলে হয় না। তাই বিভিন্ন শিশুর সঙ্গে মিশে নানা রকম ভাষা শিখে ফেলে শিশুরা।  শিশুদের স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া উচিত।

 

LEAVE A REPLY