বিশুদ্ধ ভাষাচর্চা জরুরি

0
58

বরুণ ব্যানার্জী:

মানুষের অনেকগুলো শক্তির মধ্যে একটি হলো ভাষা। বাকশক্তিতে অক্ষমতা থাকলে জীবনে বিজয়ী হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।  জীবনে বিশুদ্ধভাষী হওয়া জরুরি। একজন স্পষ্টভাষী মানুষ সবর্ত্রই আলাদা গুরুত্ব পায়। লড়াই করে আমরা যে ভাষাটা পেয়েছি, একে কেন ভালোভাবে অর্জন করব না। দেশের সর্বস্তরে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক করা উচিত। ‘বাংলা’ যখন নিজ দেশেই অবহেলায় থাকে, তখন বাইরের দেশে কিভাবে গুরুত্ব পাবে! আমরা মায়ের ভাষায় কথা বলি। আঞ্চলিক, গ্রাম্য বা মা-বাবা থেকে আমরা যে ভাষা শিখি, সেটাই মাতৃভাষা। মাতৃভাষার আলাদা একটা জগৎ আছে। তবে মৌলিকভাবে নিজ দেশের ভাষা সম্পর্কে ধারণা থাকা একান্ত আবশ্যক। বিশ্বের ২১৫ মিলিয়ন বাংলা ভাষাভাষীর মধ্যে ১৫০ মিলিয়নই বাংলাদেশি। গোটা বাংলাদেশের মানুষই এই একটি ভাষাকে চেনে, জানে। আরো অনেকগুলো ভাষায় এখানকার মানুষ কথা বলে। তবে বাংলাকে সবাই আপন করে নিয়েছে। অনেক বিদেশিও বাংলাদেশে এসে বাংলা শিখেছেন। প্রথম বাংলা ব্যাকরণও রচনা করেছেন একজন বিদেশি ভদ্রলোক। ১৮০১ সালে প্রথম ইংরেজি ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন উইলিয়াম কেরি। পরে ১৮৩৩ সালে রাজা রামমোহন রায়, ১৯৩৫ সালে এসে মুসলিম কথাশিল্পী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ‘বাঙ্গালা ব্যাকরণ’ নামে পুস্তক প্রকাশ করেন। পৃথিবীতে বাংলা ভাষার পরিচিতি ঘটে মূলত ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের পর থেকে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলা এবং লেখাপড়া করার অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করে এ দেশের তরুণরা। সেই আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং সাধারণ মানুষ নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে।

মাতৃভাষার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা আর শাহাদাতের পেয়ালা চুম্বনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘ দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। বাঙালি জাতির জন্য অনেক বড় একটি বিষয় ছিল এই ঘোষণা। যথাযথ কাজে লেগেছে—এমন কথা বলা যাবে না। এই প্রিয় বাংলা ভাষার জন্য যথেষ্ট ত্যাগ করেছেন আমাদের লাল-সবুজের দামাল সন্তানরা। এখনো বেঁচে আছেন অসংখ্য ভাষাসৈনিক। তাই পারিবারিকভাবেই ভাষার বিশুদ্ধতার চর্চা হওয়া উচিত। অনেক সময় ঘরে বিশুদ্ধ ভাষার চর্চা হলেও স্কুলে হয় না। তাই বিভিন্ন শিশুর সঙ্গে মিশে নানা রকম ভাষা শিখে ফেলে শিশুরা। আদরের সোনামণিদেরও স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া উচিত।