বিদ্যুত সমস্যা সমাধানের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখনই জরুরী

1
133

বরুণ ব্যানার্জীঃ

বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা হল বিদ্যুত। বাংলাদেশে বিদ্যুত ঘাটতি ২০০০ মেগাওয়াটের মত। মানে, আরো ২০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন বাড়াতে পারলে বিদ্যুত সমস্যা মেটানো যাবে। কিন্তু সত্যি কি তাই? এই বক্তব্যের মধ্যে একটা বড় ফাঁক আছে। কি রকম? ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখা যায় বাংলাদেশে মাত্র ৪০% (access to electricity) বাড়িতে বিদ্যুত পৌঁছে গেছে। বাকি ৬০% এর হিসাব কি করা হয় বিদ্যুত ঘাটতি হিসাবের সময়? করা হয় না। অর্থাৎ, আগামী ১০ বছর ধরে পরিকল্পনা করে বিদ্যুত আমদানী করে ও উৎপাদন বাড়িয়েও বিদ্যুত ঘাটতি মেটানো সম্ভব হবে না, যদি বিদ্যুতের কানেকটিভিটি বাড়ানো হতে থাকে। ১০% বিদ্যুত উৎপাদন বাড়িয়ে যদি আরো ১০% বাড়িতে বিদ্যুতের কানেকশন দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে অবস্থা অপরিবর্তিত থেকে যায়।

এই বিদ্যুত ঘাটতিতে জনগণের যখন নাভিশ্বাস ওঠে, তখন তারা আঙুল তোলে সরকারের দিকে। কিন্তু সরকারের করণীয় কি? প্রথমত, যদি হিসাব অনুযায়ী ধরে নিই দেশের ৬০% লোকের কাছে বিদ্যুত পৌঁছায় নি, তাহলে একই কারণে ধরে নেওয়া যায়, ৬০% মানুষের কাছে বিদ্যুত ঘাটতি ভোটের কোনো ইস্যু নয়। কিন্তু নতুন জায়গায় বিদ্যুতের লাইন পৌঁছে দেবার প্রতিশ্রুতি দিতে পারলে নতুন ভোটব্যাঙ্ক পাওয়া সম্ভব।  তাই সরকারের লক্ষ্যই হবে বিদ্যুত উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন কানেক্টিভিটিও বাড়িয়ে ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখা। অর্থাৎ, উৎপাদন বাড়লেও চাহিদাও বাড়বে, মানে ঘাটতিও অপরিবর্তিত থাকবে। এর সাথে যদি জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাৎসরিক দেড় শতাংশ নতুন জনগণ যোগ করেন তো অবস্থা খারাপ ছাড়া আর ভাল হবে না। আর শহুরে জনগণ এসিতে অভ্যস্ত হচ্ছে – তাদের মাথাপিছু বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমবর্ধমান।

বাংলাদেশে শিল্পায়নের হার অত্যন্ত কম। একমাত্র সফল শিল্প টেক্সটাইল ও গারমেন্টস দেশের রপ্তানী আয়ের ৭৫% এনে থাকে। ঘটনাচক্রে, এই শিল্পেও যথেষ্ট বিদ্যুত (অথবা সরাসরি গ্যাস) লাগে। বাংলাদেশের কোনো সরকারের পক্ষেই শিল্পকে বঞ্চিত করে বিদ্যুত ডোমেস্টিক সাপ্লাই লাইনে দেবার সাহস থাকবে না – কারণ লক্ষ লক্ষ লোকের জীবিকা এই শিল্পের সাথে জড়িয়ে আছে। অর্থাৎ, সময় গেলে, টেক্সটাইল ও গারমেন্টস শিল্প বাড়াতে গেলে আরো বিদ্যুত চাই। বিদ্যুত চাই পরিবহনেও। বাংলাদেশে ঢাকায় ও চট্টগ্রামে মেট্রো রেল চালু করা দরকার। কাছাকাছি কয়েকটা শহর গড়ে তুলে তাদের মধ্যে বৈদ্যুতিক রেল যোগাযোগ দরকার। অর্থাৎ বিদ্যুত চাই। একইভাবে, কৃষিতে সেচের জলের জন্যও বিদ্যুত দরকার।

তবে বিদ্যুতের  উন্নতির কোনো সম্ভাবনা আমরা দেখেতে পারছি না  । সরকারকে গালি দিলে সরকার বলবে আগের সরকারে দোষ, আগের সরকার বলবে তার আগের সরকারের দোষ। কার্যত দোষ কারো নয়। আবার অন্যভাবে বললে দোষ সবারই – কেন এই পরিকল্পনা আরো দশ বছর আগে করা হয় নি। সত্যি হল – বাংলাদেশে যা রিসোর্স আছে, তা দিয়ে শিল্প, কৃষি ও পরিবহনের খাত সহ ১০০% লোকের কাছে ২৪ ঘন্টা ধরে বিদ্যুত সরবরাহ কী ভাবে পৌছায়ে দেয়া যায় সেটা নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখনই জরুরী।

1 COMMENT