বিদেশের প্রলোভন দেখিয়ে সাতক্ষীরায় ১৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র

0
380
জাহিদ হোসাইন:
বিদেশে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পনে ১৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। তাদের পাল্লায় পড়ে সর্বশান্ত হয়ে গেছে সাতক্ষীরা সদরের কামারবায়সা গ্রামের ১২টি পরিবার। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিয়েও কোন সুফল পাচ্ছেন না তারা। বরং উল্টো হুমকি ধামকি দিচ্ছে প্রতারক চক্র।
সাতক্ষীরা সদরের কামারবায়সা গ্রামের মৃত আদম আলীর ছেলে আব্দুল মোমেন, ইন্দ্রজিৎ মন্ডলের ছেলে বিমল মন্ডল, অজিত মন্ডলের ছেলে পরিমল মন্ডল, নির্মল মন্ডলের ছেলে তন্ময় মন্ডল, সোহরাব হেসেনের ছেলে আনারুল ইসলাম, আব্দুল আহাদের ছেলে তোফাজ্জেল, কদম আলীর ছেলে জাহিদ হোসেন, আরশাদ আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম, ফজর আলীর ছেলে মোসলেম আলী, ইসাহাক আলীর ছেলে খোরশেদ আলী, বারী সরদারের ছেলে মোস্তফা সরদার, মাওলা বক্সের ছেলে নাসির হোসেন বলেন, বিদেশে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাতক্ষীরা সদরের কামারবায়সা গ্রামের ভোমর আলী গাজীর ছেলে সেকেন্দার ও রজব আলী, আব্দুল খালেকের ছেলে সিরাজুল ইসলাম ও মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাাইর উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে আব্দুল হামিদ আমাদের কাছ থেকে ১৪ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা নেয়।
টাকা নেওয়ার কিছুদিন পরে আমাদেরকে বিদেশে না পাঠিয়ে আব্দুল হামিদ পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে একাধিক শালিশ হয়। শালিশে সেকেন্দার আলী, রজব আলী ও সিরাজুল ইসলাম আমাদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু পরবর্তীতে টাকা না দিয়ে তারা তাল বাহানা শুরু করে। আজ না কাল করতে করতে দুই বছর হয়ে গেছে। বিদেশে যাওয়ার আশায় আমরা বিভিন্ন এনজিও, গরুছাগল বিক্রি ধার দেনা করে তাদেরকে টাকা দিয়ে ছিলাম। বর্তমানে বিদেশ যেতে না পেরে এবং ঋণে জর্জরিত হয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছি।
বাঁশদহা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মির্জানগর মাধমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মফিজুর রহমান বলেন, ভুক্তভ’গীদেও কাছ থেকে টাকা নিয়েছে এটি ১০০ ভাগ সত্য। চাপে পড়ে ওরা কিছু ব্যক্তির টাকা পরিশোধও করেছে। তবে এরা গরীব ও অসহায় বিধায় টাকা আদায় করতে পারছে না। সর্বশেষ কোন উপায় না পেয়ে ভুক্তভ’গীরা সাতক্ষীরা সদর এমপি মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবির কাছে লিখিত অভিযোগ করলে ২০১৭ সালের ২২ ডিসেম্বর এমপি সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সুপারিশ করেন। সাতক্ষীরার এএসপি হুমায়ুন কবিরকে বলেন। বুধবার সকাল ১১ টায় হুমায়ুন কবির দুইপক্ষকে তার অফিসে ডাকেন এবং সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানেও সেকেন্দার ও তার সহযোগীরা টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলে সহকারী পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির ভুক্তভ’গীদের আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে সেকেন্দার আলী বলেন, আমরা ওদের কাছ থেকে কোন টাকা পয়সা নেয় নি। আমাদেরকে ফাঁসানোর জন্য তারা মিথ্যে নাটক সাজিয়েছে।