বিটকয়েনে প্রত্যাশা ও আশঙ্কা

0
61
বাস্তবে এই মুদ্রার কোনো অস্তিত্ব নেই। হাতে দিয়ে ধরা যায় না বা চোখে দেখা যায়না। তবুও এই মুদ্রা দিয়ে লেনদেন হচ্ছে হরদম। শুনতে বেশ অবাক লাগলেও এটা সত্যি। বলছিলাম ক্রিপ্টো-কারেন্সি বিটকয়েনের কথা। ইন্টারনেট সিস্টেমের মাধ্যমে প্রোগ্রামিং করা আছে, যা দিয়ে চাইলেই কোনো কিছু কেনা যায়।
অতি সম্প্রতি বিটকয়েন ইন্টারনেটের অর্থনৈতিক দুনিয়ায় বেশ হই-চই ফেলে দেয়। কারণ এর মুদ্রামূল্য অনেক বেড়ে নতুন রেকর্ড স্থাপন করে। সেই সুযোগে অনেকেই এই মুদ্রা কিনতে ব্যাপক আগ্রহী হয়ে ওঠে। তবে বিটকয়েন কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। শঙ্কার বিষয় হলো, মুদ্রাটির দাম ক্রমাগত ওঠানামা করছে। গত মঙ্গলবার এর এক বিটকয়েনের মূল্য ছিলো প্রায় ১৯ হাজার ডলার। কিন্তু পরদিনই, অর্থাৎ গতকালই দাম কমে হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার।
আবার অনেক সময় শোনাও যাচ্ছে যে, আন্তর্জাতিক হ্যাকাররা বিভিন্ন কম্পিউটার হ্যাক করে মুক্তিপণ দাবি করছে আর সে মুক্তিপণ পরিশোধ করতে বলা হয় বিটকয়েনে। এটা রীতিমত একটা অদ্ভুত ফাঁদ।
বাংলাদেশের একজন অর্থনীতিবিদ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, এটি ইন্টারনেট সিস্টেমে একটা নির্দিষ্ট অংকে প্রোগামিং করা আছে যা চাইলে কেনা যায়। প্রতিবছর এটি অল্প অল্প করে বাড়ানো হয়ে থাকে। ১০/১৫ বছর পর্যন্ত হয়তো বাড়বে তারপর আর বাড়বে না। এর কেনাকাটা প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির কাছে এ ধরনের পণ্য বা সেবা প্রদানের ব্যবস্থা থাকলে সে চাইলে বিটকয়েনর বিনিময়ে সেটি বিক্রি করতে পারবে। অনলাইনে যেভাবে আমরা ই-পেমেন্ট সিস্টেমে কেনাকাটা করছি সেভাবে বিটকয়েনের মাধ্যমে অনলাইনে কেনাকাটা করা সম্ভব।
তিনি আরোও জানান, বিটকয়েনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে যে এর কোনো কর্তৃপক্ষ নেই, এর সঙ্গে কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক নেই যাদের কাছে এটা নিয়ে অভিযোগ জানানো যাবে। এটা এমন একটি কয়েন যেটি কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা দেশের জারি করা নয়। ইন্টারনেট সিস্টেমকে ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি এই সিস্টেমকে ডেভেলপ করেছে। এটাকে বলা যেতে পারে এক ধরনের জুয়াখেলা। যেটার ভিত্তিতে হয়তো আমার টাকা খাটিয়ে লাভজনক কিছু করে ফেলতে পারি। যার জন্য বেশিরভাগ লোক এটার পিছনে এখন ছুটছে।
এই অর্থনীতিবিদ সতর্ক করে বলেন, এটাই আমাদের আশঙ্কা। যেহেতু এখানে কোনো কর্তৃপক্ষ নেই, টাকাটা আরো বেশি পরিমাণে সরবরাহের কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং এটা যখন কলাপস করবে বা উপরের দিকে যাবে এটা নিয়ন্ত্রণ করার কোনো উপায় থাকবে না।