বিজয় দিবস চূড়ান্ত ত্যাগের প্রতীক

3
175

বরুণ ব্যানার্জী:

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এ দেশের সিংহভাগ জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যপীড়িত। অভাবের কারণে এ দেশের অনেক পরিবারের সদস্যরা কাক্সিক্ষত শিক্ষা পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না। এমন দেশে স্বল্প শিক্ষিত নাগরিকদের সাশ্রয়ী এসব উদ্ভাবন সমৃদ্ধ সম্ভাবনার হাতছানি দেয়। দেশের মানুষের মেধাকে ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারলে স্বনির্ভরতার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো খুব সম্ভব। দেশপ্রেম মহত্ত্ববোধ, মাতৃত্ববোধ ও ভ্রাতৃত্ববোধের মহান শিক্ষায় অনুপ্রাণিত করে স্বদেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করে, স্বদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কর্মকৌশল উদ্ভাবনে আত্মনিয়োগ করার শিক্ষা দেয়। অতএব, আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি স্বাধীনতা ও এই বিজয়কে অর্থবহ করতে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করা, দেশকে কিছু দেওয়ার মনমানসিকতা তৈরি করা, দেশকে ভালোবাসতে শিখতে হবে। তাহলেই সুখী সমৃদ্ধিশালী, দুর্নীতি ও শোষণমুক্ত দেশ গড়া সম্ভব। আর শোষিত শ্রেণি যখনই অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে রাস্তায় নামে, সংগ্রাম করে তখনই তাদের ওপর নেমে আসে জুলুমকারীদের খড়গ। কিন্তু এ কথা ঠিক যে, স্বাধীনতা বঞ্চিত মানুষের ক্ষোভ হয় তীব্র এবং তা সব বাধা ভেঙে দেয়। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা। বাঙালি জাতির মরণপণ সংগ্রামের ফলেই এ স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। এটা আমাদের চূড়ান্ত ত্যাগের প্রতীক। এজন্যই প্রতিবছর ১৬ ডিসেম্বরের এই মহান বিজয় দিবসে সবার আগে স্মরণে আসে সেসব অগণিত শহীদের স্মৃতি। মুক্তিযুদ্ধে এই যে চূড়ান্ত আত্মত্যাগের এক অনন্য নজির- এটাই আমাদের প্রগাঢ়তম অনুভূতি। আমরা যারা এ প্রজন্মের তারা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। কিন্তু আমরা যতটুকু জেনেছি, তাতে শ্রদ্ধায় আমাদের মাথা নত হয়ে আসে। আমরা চাই, দেশটাকে স্বাধীন করার জন্য যারা সর্বস্ব বাজি রেখেছিলেন তারা যেন তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু পান। তারা বেঁচে থাক আমাদের মধ্যে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। কবির ভাষায়, ‘তোমার পতাকা যারে দাও তারে বহিবারে দাও শকতি।’ এই লাল সবুজ পতাকা যেন আমরা মর্যাদার সঙ্গে, গৌরবের সঙ্গে চিরকাল, আত্মর্মাদার সঙ্গে ধরে রাখতে পারি সে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা আমাদের করতে হবে।

 

3 COMMENTS