বিএনপি নেতা হাসান মামুনকে ‘ডিবি পরিচয়ে নিয়ে গেছে’

0
147
ডেস্ক রিপোর্ট:
নেতাদের ধরপাকড় ও বাড়ি বাড়ি তল্লাশির মধ্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুনকে তাঁর রাজধানীর বাসা থেকে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা নিয়ে গেছে বলে পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হাসান মামুনকে তাঁর শান্তিনগরের বাসা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলে  জানিয়েছেন নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে হাসান মামুনের মামা মিজানুর রহমান লিটন বলেন, ‘গতকাল রাত দেড়টার দিকে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে কিছু লোক বাসা থেকে নিয়ে যায়।’এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশানে পুলিশ প্লাজার সামনে থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে নিয়ে যায়। এরপর ওই দিন দিবাগত রাত ১২টার দিকে সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে রাজধানীর শান্তিনগরের বাসভবন থেকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। অমিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের ছেলে। গতকাল বুধবার রাতে মগবাজারের নিজ বাসা থেকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজীজুল বারী হেলালকে ‘তুলে নিয়ে’ গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারকাজ শেষ হয়েছে। আদালত আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন ঘোষণা করেছেন। এ মামলায়  খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।রায়ের দিন ঘোষণার পর থেকেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছেন, যার ফলে ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক অঙ্গন।খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না বলে সতর্ক করে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছিলেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলায় ‘নেতিবাচক’ কোনো রায় হলে তার পরিণতি ‘ভয়াবহ’ হবে।এর মধ্যেই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় হাজিরা দিয়ে গত মঙ্গলবার বিকেলে খালেদা জিয়া গুলশানের বাসায় ফেরার পথে হাইকোর্ট এলাকায় বিএনপির কর্মীরা হামলা চালায় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। প্রিজনভ্যানে উঠে পুলিশের হাতে আটক দুজনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় রমনা ও শাহবাগ থানায় বিশেষ আইনে ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে তিনটি মামলাও হয়েছে।

এর পরই শুরু হয় নেতাদের গ্রেপ্তার ও বাসায় বাসায় তল্লাশি অভিযান।