বাড়ছে গুটি ইউরিয়া সারের ব্যবহার

0
52

অনলাইন ডেস্ক :

‘ইন্টারন্যাশনাল ফার্টিলাইজার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ বা আইএফডিসি’র বাংলাদেশ কার্যালয়ে কর্মরত ড. ওহাব বছর দেড়েক আগে যন্ত্রটি উদ্ভাবন করেন৷ গত জুন মাসে সেনেগালে একটি কৃষি প্রযুক্তি মেলায় ওবামা অ্যাপ্লিকেটরটি দেখেন৷ তখন সেখানে উপস্থিত আইএফডিসির একজন প্রতিনিধি ওবামাকে জানান যে, যন্ত্রটির উদ্ভাবক একজন বাংলাদেশি৷বিশ্বের অন্যান্য দেশের কৃষকদের মধ্যেও সাড়া ফেলছে এই অ্যাপ্লিকেটরটি৷গুটি ইউরিয়া মাটির গভীরে লাগাতে হয় বলে কৃষকদের কাছে এতোদিন সেটা তেমন একটা জনপ্রিয়তা পায়নি৷ এভাবে সার দিতে কৃষককে কোমর নোয়াতে হয় বলে বিষয়টা যেমন কষ্টকর, তেমনি সার একটা রাসায়নিক উপাদান হওয়ায় সেটা হাতে করে দেয়াটাও স্বাস্থ্যসম্মত নয়৷ গুটি ইউরিয়ার এসব সমস্যা দূর করতে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী আইএফডিসিকে একটা অ্যাপ্লিকেটর উদ্ভাবন করার পরামর্শ দেন যেন কৃষকরা সহজে সেটা জমিতে দিতে পারে৷ এই উদ্যোগের ফলে উদ্ভাবিত অ্যাপ্লিকেটরটির সুবিধা দুটি৷ এক, এটা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হওয়ায় ওজন মাত্র দেড় কেজি৷ ফলে কৃষকরা সহজেই সেটা বাড়ি থেকে ক্ষেতে নিয়ে যেতে পারেন৷ আর আরেকটা বড় সুবিধা হচ্ছে দামে অনেক সস্তা, মাত্র সাড়ে চারশো টাকা ৷ অ্যাপ্লিকেটরটি দিয়ে আপাতত এক ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ জমিতে গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ করা যায়৷ সে হিসেবে এক বিঘা বা ৩৩ শতাংশ জমিতে সার প্রয়োগ করতে প্রায় তিন ঘণ্টা লাগার কথা৷ তবে এর চেয়েও উন্নতমানের যন্ত্র উদ্ভাবনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে জানান ড. ওহাব৷ তিনি বলেন, এই অ্যাপ্লিকেটরটির দাম একটু বেশি হবে৷ আড়াই হাজার টাকার মতো৷ তবে সুবিধা হলো উন্নত সংস্করণের অ্যাপ্লিকেটরটি দিয়ে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ জমিতে গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ করা যাবে৷ আগামী বোরো মরসুমেই সেটা পাওয়া যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি৷