বাল্য বিয়েকে যে কোনো মূল্যে প্রত্যাখ্যান করতে হবে আমাদের

2229
20491

বরুণ ব্যানার্জীঃ

জন্ম, মৃত্যু ও বিবাহ এই তিন অবস্থান মানুষের জীবনের প্রধান ঘটনা। প্রবাদে আছে, এ সবের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যুকে মানুষ এড়াতে পারে না। কিন্তু বিবাহকে পারে। সংসার ত্যাগীরা বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হয় না। তাঁরা জ্ঞান কিংবা মনের মানুষের সন্ধান পেতে জীবন পরিক্রমায় কাল কাটায়। আর যারা সংসারজীবন গঠন করতে অনিচ্ছুক নয়, তাদের সুন্দর সামাজিক জীবনযাপন করার জন্য বিবাহ বা বিয়ে নামক সমাজস্বীকৃত রীতি-নীতির আশ্রয় নিতে হয়। এর মাধ্যমেই মানবসমাজের স্বাভাবিক বিকাশ ও বৃদ্ধি ঘটে। নরনারীর সংসার জীবনে প্রবেশের জন্যে একটি সুনির্দিষ্ট বয়সসীমা আবশ্যক হয়। নরনারীকে উপযুক্ত বয়ঃসীসায় উপনীত হতে হয়। যাকে সমাজ বলে, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া। আমাদের দেশসহ বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই আজকের দিনে নর ও নারীর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া কাল ধরা হয় যথাক্রমে ২১ বছর ও ১৮ বছর। পুরুষ ২১ বছরের এবং নারী ১৮ বছরের হলে, তবেই বিয়ের পিঁড়িতে বসা সঙ্গত বলে সমধিক বিবেচনা পায়। কারণ, এমন বয়সে উপনীত হলেই নারী-পুরুষ স্বাস্থ্যসম্মত সন্তান উৎপাদনের সক্ষমতা লাভ করে। আমাদের দেশসহ উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশসমূহে শিক্ষাজ্ঞানহীনতার কারণ এই রীতি উপেক্ষিত হয়। কম বয়সেই ছেলেমেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। এসব বিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সম্পন্ন হয় অর্থনৈতিক দুরাবস্থা আর সামাজিক নিরাপত্তা হীনতার কারণে, বিশেষত মেয়েদের ক্ষেত্রে। এই ধরনের বাল্য বিয়ের ফলে ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত সমস্যার পাশাপাশি পরিবার ও দেশ জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপে দারিদ্র্যের শিকার হয়ে পড়ে। তাই বিশ্বব্যাপী বাল্য বিয়েকে অনুৎসাহিত করা হয়। দারিদ্র্যমোচন, মৃত্যুশোক এড়ানো ও স্বাস্থ্যহীনতা আর রোগগ্রস্ততা থেকে মানবগোষ্ঠীকে রেহাই দিতে চাইলে বাল্য বিয়ে থেকে দূরে থাকার কোনো বিকল্প নেই। দুঃখজনক সত্যটা হলো, বাংলাদেশসহ বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো বাল্যবিয়ের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পারছে না। বাল্য বিয়ের কুফলের ফাঁদে আটকা পড়ে উন্নতির পথে পা বাড়াতে গিয়ে, বারে বারে হোঁচট খেয়ে পড়ছে। বিশ্বব্যাঙ্কের গবেষণায় দেখা গেছে, বাল্যবিয়ের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দশকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি সাধিত হবে। এতে দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রচেষ্টা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের মতো উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলোতে প্রতি ৩টি মেয়ের ১টির ১৮ বছরের কম বয়সে বিয়ে হয়ে যায় প্রতি দুই সেকেন্ডেই একটি মেয়ের বিয়ে হচ্ছে। ফলে, জনসংখ্যা দ্রুত বেড়ে চলেছে। তবে, সচেতনতার সার্বিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে যদি বাল্যবিয়ের ব্যাপকতার রাশ টানা যায় তাহলে জনসংখ্যার উল্লম্ফনের গতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। মেয়েদের শিক্ষাগত যোগ্যতা তৈরি করা যাবে। তাতে, পরিবারে ও সংসারের আয় বাড়ানো সম্ভব হবে। এর পাশাপাশি নারী-স্বাস্থ্যের উন্নয়ন, পরিবারের সন্তানের শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং তাদের মাধ্যমে সংসারের সমৃদ্ধি ঘটানো সম্ভাব। আমাদের দেশে বাল্য বিয়ের প্রবলতা রোধের চেষ্টা চলছে। দেশের তৃণমূল পর্যায়ের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে এর আওতায় আনা গেলে প্রতিদিনের জীবনযাত্রার বহুমুখী সঙ্কট থেকে তাদের মুক্ত রাখা যাবে। আমাদের উপলব্ধি করতে হবে, বাল্যবিয়ে শুধু মেয়েদের আশা ও স্বপ্নই ভেঙ্গে দেয় না দেশের সকল ক্ষেত্রের জনগণের দারিদ্র থেকে উত্তরণের প্রচেষ্টাকে বিঘ্নিত করে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমতা অর্জনকেও বিপন্ন করে। সুতরাং, বাল্য বিয়েকে যে কোনো মূল্যেই প্রত্যাখ্যান করতে হবে আমাদের সকলকে।

2229 COMMENTS

  1. payday loan cash advance
    [url=http://paydayusaloans.com]payday loans|payday loans online|personal loans|cash advance|loans for bad credit|payday express|pay day loans|payday loans online|payday loans|payday loans online|cash advance[/url]
    online loan lenders
    payday loans|payday loans online|personal loans|cash advance|loans for bad credit|payday express|pay day loans|payday loans online|payday loans|payday loans online|cash advance