বাল্যবিবাহের বিশেষ ধারা কঠোর করার সুপারিশ

5
58
ডি এস ডেস্ক:
ধর্ষণের ঘটনায় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের বিশেষ ধারা প্রয়োগ না করার সুপারিশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স অ্যান্ড ইনোভেশন ইউনিট।  অর্থাৎ, কোনো শিশু ধর্ষণের শিকার হলে তার সঙ্গে যেন ধর্ষকের বিয়ে না হয় তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।  বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭-এর বিশেষ ধারায় ‘বিশেষ ক্ষেত্রে’, ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক’ বা ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো মেয়ের ‘সর্বোত্তম স্বার্থ’ বিবেচনায় বিয়ে হলে তা অপরাধ গণ্য হবে না বলে উল্লেখ আছে।
বাল্যবিবাহ নিরোধের পুরোনো আইন বিলোপ করে নতুন আইন প্রণয়নের সময় থেকে বিশেষ ধারায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে বৈধ করার বিষয়ে কানাঘুষা ছিল।  শেষ পর্যন্ত এ বছরের মার্চে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ বিশেষ বিধানসহ পাস হয়।
বাল্যবিবাহের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম।  বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে ১৫ বছরের নিচে বাল্যবিবাহের হার শূন্যের কোঠায়, ২০২১ সালের মধ্যে ১৫-১৮ বছরের বাল্যবিবাহের হারকে এক-তৃতীয়াংশে ও ২০৪১ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ পুরোপুরি নির্মূল করার অঙ্গীকার করেছে।  প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ১৯২৯ বাতিল করা হয় এবং এর বিশেষ ধারা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের গভর্নেন্স অ্যান্ড ইনোভেশন ইউনিটের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলী নেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, বিশেষ ধারা নিয়ে তাঁদের ইউনিট মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে কিছু পরামর্শ দিয়েছে।  বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭-এর বিধিমালা প্রণয়নের জন্য মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সুপারিশ চেয়েছিল।  তাঁরা সে অনুযায়ী পরামর্শ দিয়েছেন।
গভর্নেন্স অ্যান্ড ইনোভেশন ইউনিট থেকে পাঠানো সুপারিশে বলা হয়েছে, যে ধরনের অপরাধের জন্য একটি শিশু বিরূপ অবস্থার সম্মুখীন হয়, সরকার তা অনুমোদন করছে—বিশেষ বিধান মানে তা নয়।  অপ্রাপ্ত বয়স্কদের রক্ষাকবচ দেওয়া এই বিধানের উদ্দেশ্য।  মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম বলেন, বিধিমালাটি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
সুপারিশে যা বলা আছে,
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সুপারিশে বিশেষ বিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো শিশু ধর্ষণের শিকার হলে তার সঙ্গে ধর্ষকের বিয়ে না হওয়া নিশ্চিত করতে বলা হয়।  বলা হয়, ‘যদি আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয় যে উল্লিখিত ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারার অধীনে সংঘটিত অপরাধের (ধর্ষণ) উপাদান রয়েছে, তাহলে আদালত অপ্রাপ্তবয়স্কের বিয়েতে সম্মতি দেবেন না।
প্রেমের সম্পর্কের কারণে কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক গর্ভবতী বা সন্তানের মা হয়েছে এমন বা শিশুর আত্মীয়স্বজন, মা-বাবা, ভাইবোন, নানা-নানি কেউ জীবিত নেই এবং তার ভরণপোষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দুঃসাধ্য হলে আদালতের সিদ্ধান্তে বিয়ে হতে পারে।  তবে সে ক্ষেত্রেও শর্ত জুড়ে বলা হয়েছে, শিশু যদি গর্ভবতী হয়ে পড়ে তাহলে মা-বাবা বা অভিভাবককে সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জন বা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তার প্রত্যয়নপত্র আদালতে দেখাতে হবে।
যে শিশুর অভিভাবক নেই এবং ভরণপোষণের কোনো ব্যবস্থা নেই, সেই শিশুর বিয়ের সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে আদালতে সরকারি শিশুসদন বা সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত এতিমখানা কর্তৃপক্ষকে বলতে হবে তারা শিশুটিকে রাখতে পারবে না।  শিশুর নিরাপত্তা দেওয়া দুঃসাধ্য’ এই প্রত্যয়নপত্র সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আদালতে পেশ করতে হবে।
বিশেষ ধারা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি।  এর সাবেক নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সুপারিশকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, বাল্যবিয়ের ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চলগুলোর ৯০ ভাগ মানুষ বিয়ের বয়স ১৮ জানেন বলে গবেষণায় দেখা গেছে।
দৈনিক সাতক্ষীরা/জেড এইচ