বাবার ভালোবাসার তুলনা হয় না

0
52

বরুণ ব্যানার্জীঃ

আজ রোববার ১৮ জুন, বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতিবছরের জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয় বাবা দিবস। ১৯১০ সালে আমেরিকার সেনোরা লুইসের একান্ত প্রচেষ্টায় প্রথমবারের মতো বিশেষ এই দিনটি উদযাপিত হয়। সেনোরা ছিলেন ছয় ভাই বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড়। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মা ইলেন স্মার্ট যখন মারা যান তখন সেনোরার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। মায়ের মৃত্যুর পর বাবা উইলিয়াম স্মার্ট সন্তানদের মানুষ করার দায়িত্ব নেন। সারাক্ষণ তিনি তাদের দেখেশুনে রাখতেন। শত ব্যস্ততার মাঝেও স্মার্ট তাদের মায়ের অভাব এতটুকু বুঝতে দেননি। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৭২ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিক্সন স্থায়ীভাবে বাবা দিবসকে রাষ্ট্রীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। তখন থেকে আজ পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাৎপর্যের সঙ্গে পালিত হচ্ছে বাবা দিবস। ১৯৭৪ সালে সেনোরা স্মার্টকে তার অবদানের জন্য বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। আমাদের সবার প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশেও আজ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। বিশ্বের কয়েকটি দেশে বিভিন্ন তারিখে বাবা দিবস পালিত হলেও আজ ৮৭টি দেশ বিশ্ব বাবা দিবস পালন করছে। এই পৃথিবীতে অনেক ঘটনাই ঘটে, যা কল্পনার অতীত বা চিন্তার বাইরে।

বাবা দিবস আসলে মনে পড়ে কলম জাদুকর হুমায়ূন আহমেদের কথা। তিনি তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ’-এ তিন ডব্লিউ প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘পরিবারের সবাইকে নিয়ে লস এঞ্জেলেস গিয়েছি। হোটেলে ওঠার সামর্থ্য নেই। বন্ধুর বাসায় উঠে রাতে ক্যাম্পিং করতে জঙ্গলে গিয়েছি। গভীর রাতে দ্বিতীয়া মেয়ে ১২-১৩ বছরের শীলার ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দে ঘুম ভাঙ্গে। দেখি শীলা বসে আছে আর ফুঁপিয়ে কাঁদছে। আমি বললাম, মা কী হয়েছে? শীলা বলল, আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে, আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। আমি সারারাত তার পাশে থাকার কথা বলি, তখন শীলা একপর্যায়ে আমার কাঁধে মাথা রেখে নিশ্চিন্ত মনে ঘুমাল। সকালে ঘুম ভাঙ্গলে শীলা বলে, বাবা তুমি একজন ভালো মানুষ। আমি বললাম, ‘মা! পৃথিবীতে অসংখ্য খারাপ মানুষ আছে, একজনও খারাপ বাবা নেই।’

মুঘল সম্রাট শাহজাহান এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, পৃথিবীতে সবচেয়ে ভারী বস্তু হলো ‘পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ’। হৃদয়ের অকৃত্রিম বন্ধনে আবদ্ধ বাবা এবং সন্তান। তাই সন্তানের চোখ দিয়ে পানি পড়লে বাবাদের চোখ দিয়ে রক্ত ঝরে। সন্তান অসুস্থ হলে বাবাদের হৃদয় পুড়ে যায়। কষ্ট পেলে মনে বা অন্তরে ঘা হয়, ব্যথা পেলে বেদনার ছাপ তাদের চোখে মুখে আপ্লুত হয়। বাবাদের ভালোবাসা বর্ষায় নদীর উপচে পড়া ঢেউয়ের মতো, ঝর্ণার ঝরঝর ধারার মতো, সকালের সোনাঝরা রোদের মতো আর বৃষ্টির টুপটাপ শব্দের মতো!! সেই বাবাকে সন্তানরা যখন অবহেলা করে, তখন? ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী নচিকেতার অমর আকুতি, বেদনা, মিনতি ও আক্ষেপ ভরা ওই কালজয়ী গানটির পাশে গিয়ে দাঁড়াতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে শিল্পীর কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে কোরাসে গাইতে- ‘ছেলে আমার মস্ত মানুষ, মস্ত অফিসার,/মস্ত ফ্ল্যাটে যায় না দেখা এপার-ওপার।/নানান রকম জিনিস আর আসবাব দামি দামি,/সবচাইতে কম দামি ছিলাম একমাত্র আমি।/ছেলের আমার- আমার প্রতি অগাধ সম্ভ্রম-/আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম।’

LEAVE A REPLY